অথর্ববেদের কুন্তাপ সূক্তে ইসলামের নবী: চাঁদে সাঈদীর দর্শন - অগ্নিবীর

অথর্ববেদের কুন্তাপ সূক্তে ইসলামের নবী: চাঁদে সাঈদীর দর্শন

Share This




আপনারা সকলেই জাকির নায়েক ও তার শিষ্যদের কল্যাণে অবগত আছেন যে তাঁরা পবিত্র বেদে তাদের নবীকে খুঁজে পেয়েছে। এই ভ্রান্ত প্রচারণার মাধ্যমে তারা সরলমনা বেদ বিশ্বাসী হিন্দুদের বিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজেদের দলে টানতে চায়। কিছুদিন আগেও পবিত্র বেদ ছিল আমদের কাছে অধরা। ভারতীয় আর্য সমাজের কল্যাণে আমরা পবিত্র বেদের অমৃত সুধা পান করতে সক্ষম হয়েছি। আর সেই বেদ পড়ার পরেই আমরা বুঝতে পারি জাকির নায়েক ও তার ভাব পুত্ররা বেদ নিয়ে কিভাবে মিথ্যাচার করছে। এবং আপনারা বুঝতে পারবেন চাঁদে সাঈদীকে দেখার সম্ভাবনা যতটুকু বেদের মাঝে মুহাম্মদকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার চেয়েও কম বৈ বেশি হবে না। আজ আমরা দেখব পবিত্র অথর্ববেদের কুন্তাপ সূক্তে আসলেই মুহাম্মদের কথা আছে কি নেই?



মোল্লাঃ পন্ডিত বেদপ্রকাশ উপাধ্যায় রচিত নারাশাংসা অঊর অন্তিম ঋষি বইয়ের বেদে মুহাম্মদ সঃ এর ভবিষ্যদ্বানী সম্পর্কে উল্লেখ আছে। তিনি বেদের উপর মস্ত বড় পণ্ডিত এবং প্রয়াগ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার ছিলেন। তার মত বড় পণ্ডিত যখন স্বীকার করে গেছেন তখন চুনোপুঁটি হিন্দুরা আর কি বলবে।

আর্যঃ আচ্ছা উনি এত বড় পণ্ডিত আর বেদ গবেষকই যখন তো বলুন দেখি উনি বেদ নিয়ে কি গবেষণা করেছে? বা বেদের উপরেই কি কি বই লিখেছে? তিনি এত বড় সংস্কৃত গবেষক যে মুসলিমদের তেল মারা বিষয়ক তিন-চারটে বই ছাড়া আর কোন বইও লেখেননি। আর এমনও না যে বইগুলো তার মৌলিক বই। কাদিয়ানী আহাম্মদী মুসলিম সম্প্রদায় যাদের সুন্নীরা কাফের বলে সেই কাফের সম্প্রদায়ের মাওলানা আব্দুল হক বিদ্যার্থীর বই থেকে কপি পেস্ট করেছে মাত্র। আর বেদপ্রকাশজী মুসলিমদের নিকট বড় গবেষক তো হবেনই, তা তিনি এত বড় বেদ রিসার্চার যে বেদ ভাষ্য বা অনুবাদ তো দূরে থাক, বেদ বিষয়ে তার কোন মৌলিক গ্রন্থই নেই। বেদপ্রকাশ সাহেব এতই বড় পণ্ডিত যে তার কোন একাডেমিক রেকর্ডসই নেই। একমাত্র ইসলামিক সাইট ব্যতীত কোথাও আপনি তার সম্পর্কে জানতে পারবেন না।এই নামে আদৌ কোন ব্যক্তি আছে কিনা তা ই আপনি কোথাও খুঁজে পাবেন না।



মোল্লাঃ জাকির নায়েকের মতে, আমাদের নবীর কথা অথর্ববেদের বিখ্যাত কুন্তাপ সূক্ততে ভবিষ্যতবাণী করা আছে। অথর্ববেদের ২০শ কাণ্ডের ১২৭তম সূক্তকে বলা হয় কুন্তাপ সূক্ত। কুন্তাপ অর্থ পাপ ও তাপকে হরণ করা। যার মানে বোঝায় শান্তি। যাকে আরবি করলে দাড়ায় ইসলাম।

আর্যঃ তো? এই যুক্তিতে তো বলতে হয়, আধ্যাত্মিক, মেডিটেশন বা অনুপ্রেরণামূলক সবকিছুই ইসলাম। কারণ এর প্রতিটির উদ্দেশ্যই ব্যক্তি জীবনে শান্তি আনয়ন করা। আর এই সূক্তে কেন গোটা বেদের কোথাওই কোন ভবিষ্যৎবাণী নেই। জৈমিনি, শবর, মনু প্রভৃতি মহর্ষিগণ বলেছেন বেদে কোন ইতিহাস নেই। বেদের সকল বাণী নিত্য, তা কোন কালের বশবর্তী নয়। তাহলে ভবিষ্যতবাণীর তো কোন প্রশ্নই আসে না।


আর কুন্তাপ সূক্ততেও কোন ভবিষ্যৎবাণী নেই। এই সূক্তটি বিভিন্ন যজ্ঞে রাজা বা যজমানের দান স্তুতির প্রতি উদ্দেশ্য করে পাঠ করার বিধান ঐতেরেয় ব্রাহ্মণ ও বিভিন্ন শ্রৌত সূত্র গ্রন্থে পাওয়া যায়। যদি এই সূক্ত কোন ভবিষ্যৎ বাণীই হত তবে যজ্ঞে রাজাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্ত্র পাঠ বৃথা হত। আর যদি এই মন্ত্রে কোন ভবিষ্যৎবাণী থাকত তবে পূর্বকালীন কোন না কোন আচার্য অবশ্যই তা বলতেন। কিন্তু আমাদের কাছে এমন কোন প্রাচীন আচার্যের কথা জানা নেই যিনি বলেছেন বেদে কারো ভবিষ্যৎবাণী আছে। অথচ দেখা যাচ্ছে বর্তমান যুগে বৈদিক  ঋষিদের চেয়েও বড় বড় কাদিয়ানী, সালাফি বা তথাকথিত বেদ গবেষক ঋষিদের আবির্ভাব ঘটেছে যারা বেদের নিত্য বাণীর মাঝে খুঁজে পাচ্ছে তাদের উপাস্যের নাম বা তাদের পয়গম্বরের নাম। এসব তাদের ধূর্ততা ব্যতীত কিছুই নয়।



মোল্লাঃ জাকির নায়েক আরও বলেন, কুন্তাপ এর আরেকটি অর্থ উদর বা নাভিদেশে লুকানো গ্রন্থি। এই মন্ত্রসমূহের এই নাম করার অর্থ হতে পারে এর প্রকৃত অর্থ লুকোনো আছে ভবিষ্যতে তা বোঝা যাবে। এই গুপ্ত অর্থটি পৃথিবীর নাভি বা কেন্দ্রের সাথে যুক্ত। মক্কাকে বলা হয় উম্মুল ক্বুরআ নগরীর মাতা বা পৃথিবীর নাভি।

আর্যঃ মক্কা কোনোভাবেই পৃথিবীর কেন্দ্র হতে পারবে না, যতক্ষণ না সেই পৃথিবী সমতল হয়ে থাকে। কারণ গোলাকার বস্তুর কেন্দ্র কখনোই তার পৃষ্ঠে অবস্থান করে না। একটা গোলকের কেন্দ্র থাকে তার অভ্যন্তরে। পৃথিবীর কেন্দ্রে নবী কেন কেউই জন্মাতে পারবে না। কারণ সেখানে রয়েছে কেবল উত্তপ্ত গলিত পদার্থ। আর যদি কোরানের মত এই পৃথিবী কার্পেটের মত হত তবেই না তার পৃষ্ঠে কেন্দ্র থাকত। যেহেতু আমাদের পৃথিবী কোরানে বর্ণিত পৃথিবীর মতো কোন সমতল কার্পেট নয়, সেহেতু এই বর্তুলাকার পৃথিবীর কেন্দ্রও মক্কা হতে পারে না।



মোল্লাঃ অথর্ববেদ ২০/১২৭/, বিখ্যাত কুন্তাপ সুক্ত, মুল সংস্কৃত শব্দ বাই শব্দ পর্যালোচনাঃ
ইদম জনা উপাসৃত
অর্থঃ ইদম=এখানে, জনা=হে মানুষ, উপাসৃত=লক্ষ্য কর
অর্থাৎ, হে মানব এখানে লক্ষ্য কর,
নারাশাংসা স্তাবিশ্যাতে, অর্থঃ নারাশাংসা(প্রশংসিত)এর স্তুতি করা হবে।
মন্ত্রটিতে আছে স্তবিশ্যতে যা ফিউচার টেন্স বা ভবিষ্যতের বর্নন। অর্থাৎ এমন একজন যিনি আসবেন ভবিষ্যতে। আর নারাশাংসা অর্থ প্রশংসিত, যা আরবী করলে হয় মুহাম্মদ। মুহাম্মদ শব্দের অর্থই প্রশংসিত। নারাশাংসা ও মুহাম্মদ এই দুটি শব্দই হচ্ছে ইউনিক এবং মানব নাম। পৃথিবীর আর কোন ব্যাক্তির নাম নারাশাংসা শোনা যায়নি।
এরপরের অংশ, তাকে পাওয়া যাবে ষাট হাজার নিরানব্বই জন শত্রুর মধ্যে যুদ্ধরত ও সে হচ্ছে কাওরামা বা কৈরম, যার অর্থ হচ্ছে যিনি এক জায়গা হতে আরেকজায়গায় গমন করেন, আরবীতে অর্থ হয় হিজরতকারী। আর মুহাম্মদ সঃ ছিলেন হিজরতকারী এবং একি সাথে তার ছিল ষাট হাজারের মত শত্রু।
জাকির নায়েক বলেন, Kaurama also means an emigrant. The Prophet migrated from Makkah to Madinah and was thus also an Emigrant. He will be protected from 60,090 enemies, which was the population of Makkah.



আর্যঃ চলুন দেখে নিই অথর্ববেদের কুন্তাপ সূক্তের প্রথম মন্ত্র কি বলছে,

অথর্ববেদ ২০.১২৭.১

ইদং জনা উপ শ্রুত নরাশংস স্তবিষ্যতে।

ষষ্টিং সহস্রা নবতিং চ কৌরম আ রুশমেষু দদ্মহে।।

অর্থঃ (জনাঃ) হে মানব! (ইদম্) এই কথা (উপ) মনোযোগ দিয়ে (শ্রুত) শুন যে, এখন (নরাশংস) মানুষের মাঝে প্রশংসিত জনের (স্তবিষ্যতে) প্রশংসা করা হবে। (কৌরম) হে পৃথিবীতে শান্তি আনয়নকারী রাজা! (রুশমেষু) শত্রুবিনাশকারী বীরদের কাছে থেকে (ষষ্টিম্ সহস্রা নবতিম্) ষাট হাজার নব্বই(অর্থাৎ অসংখ্য) দান (আ দদ্মহে) আমরা পেয়েছি।

অর্থাৎ এই মন্ত্র কোন ভবিষ্যৎবাণী নয় বরং এটি দানস্তুতি আর মন্ত্রের অর্থও তাই নির্দেশ করছে। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ অনুযায়ী সোম যাগে এই কুন্তাপ সূক্তের এই মন্ত্রগুলো পাঠ করতে হয়।



জাকিরের ভাব-পুত্র লিখেছে //মন্ত্রটিতে আছে স্তবিশ্যতে যা ফিউচার টেন্স বা ভবিষ্যতের বর্নন। অর্থাৎ এমন একজন যিনি আসবেন ভবিষ্যতে// সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। যে রাজা সোম যজ্ঞ সম্পাদন করবে সেই রাজার কথাই এই মন্ত্রে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেও আসবে আর তার প্রশংসা করা হবে এমন কথা এই মন্ত্রের কোথাও পাওয়া যায় না। এটা তথাকথিত বেদ গবেষক বেদ প্রকাশ ও কাদিয়ানী মাওলানা আব্দুল হক বিদ্যার্থীর মিথ্যাচার ব্যতীত কিছুই না।



জাকিরের ভাব-পুত্র আরও লিখেছে //নারাশাংসা অর্থ প্রশংসিত, যা আরবী করলে হয় মুহাম্মদ। মুহাম্মদ শব্দের অর্থই প্রশংসিত। নারাশাংসা ও মুহাম্মদ এই দুটি শব্দই হচ্ছে ইউনিক এবং মানব নাম// কাদিয়ানী+স্বঘোষিত বেদ পণ্ডিত+ওয়াহাবী সালাফিস্ট এই তিনের ফাঁদে পড়া কাঠমোল্লাকে বলি যে, নরাশংস কোন মানুষের নাম নয়। নরাশংস সাধারণ বিশেষ্য পদ, অর্থাৎ সকল প্রশংসিত ব্যক্তিই নরাশংস উপাধি পাওয়ার উপযোগী। আর উক্ত মন্ত্রে যজ্ঞ সম্পাদনকারী রাজাকেই নরাশংস উপাধি দেয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে আগমনকারী কোন ব্যক্তিকে এখানে নরাশংস বলা হয়নি।

তাহলে ভাব-পুত্রের এই যুক্তিও বাতিল হয়ে যাচ্ছে যে //পৃথিবীর আর কোন ব্যাক্তির নাম নারাশাংসা শোনা যায়নি// যেহেতু সোম যজ্ঞ সম্পাদনকারী সকল রাজাকেই কুন্তাপ সূক্ত পড়ে শোনানো হয়েছে, সেহেতু বলা যায় সোম যাগকারী সকল রাজাকেই নরাশংস বলে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে মুহাম্মদ কোনদিন সোম যজ্ঞ যেহেতু করেনি, তাই কুন্তাপ সূক্ত অনুযায়ী সেও নরাশংস নয়।



সে যদি বিদ্যানাথ শাস্ত্রীর অনুবাদ পড়ে মনে করে যে //তাকে পাওয়া যাবে ষাট হাজার নিরানব্বই জন শত্রুর মধ্যে যুদ্ধরত ও সে হচ্ছে কাওরামা বা কৈরম// তবেও সে ভুল বলছে। কারণ বিদ্যানাথ শাস্ত্রীর অনুবাদ বলছে, “হে কৌরম, যুদ্ধে শত্রুনাশক সেনাদের মাঝে আমরা ছয় হাজার নব্বই জনকে পেয়েছি। 
  




সে বলছে //তাকে পাওয়া যাবে ষাট হাজার নিরানব্বই জন শত্রুর মধ্যে// ও জাকির বলছে //He will be protected from 60,090 enemies.// এটা সম্পূর্ণ মনগড়া ভ্রান্ত অনুবাদ। উপরে দুটো অনুবাদ আছে মিলিয়ে দেখুন। যেহেতু এটি ব্রাহ্মণ গ্রন্থের মতে দানস্তুতি তাই ৬০০৯০ দ্বারা ক্ষেমকরণদাস, তুলসি রাম, শ্রীপাদ দামোদর, ব্লুমফিল্ড, গ্রিফিথ অসংখ্য দান বুঝিয়েছে, যেটা আমরা অনুবাদে দিয়েছি। অন্যদিকে বিদ্যানাথজী, রাম শর্মা, জয়দেব শর্মা ষাট হাজার নয় বরং ৬০৯০ জন বীর পুরুষকে বুঝিয়েছে। তারা কেও বলেননি এরা শত্রু, যেটা জাকির ও তার ভাব-পুত্র জোর করে বানাতে চেয়েছে।

সে আরো বলছে //সে হচ্ছে কাওরামা বা কৈরম, যার অর্থ হচ্ছে যিনি এক জায়গা হতে আরেকজায়গায় গমন করেন, আরবীতে অর্থ হয় হিজরতকারী। আর মুহাম্মদ সঃ ছিলেন হিজরতকারী// ওই মন্ত্রে কাওরামা বা কৈরাম বলে যে কোন শব্দই নেই তা উপরে প্রদত্ত মন্ত্র থেকে দেখে নিন। সেখানে আছে কৌরম যার অর্থ পৃথিবীতে রমণ বা ভ্রমণকারী এর আরবীতে অর্থ হিজরতকারী নয়, হবে মুসাফির।

জাকির নায়েক তো তার ভাব-পুত্রের মত আরবীতে কাঁচা নয়, তাই সে একটু অন্যদিকে পলটি মেরে কৌরমের অর্থই বদলে দিয়েছে। সে বলছে //Kaurama also means an emigrant// এটা হিজরতের সাথে মেলে বিধায় জাকির সাহেব এই অর্থ করেছে। হিজরতের অর্থও প্রস্থান, অভিবাসন, দেশ ত্যাগ ইত্যাদি। কিন্তু কৌরম দ্বারা এর কোনটাই বোঝায় না। কৌরম কেবল পৃথিবী ভ্রমণের ক্ষেত্রেই বোঝায়।



জাকির নায়েকের মতে ৬০০৯০ নাকি মক্কার জনগণের সংখ্যা নির্দেশ করছে। সে কোথায় এই তথ্য পেল সেটা সে উল্লেখই করেনি, তবে তার ভাব-পুত্র একটা ঘোলাটে সুত্র বলেছে //ইবনে আথির রচিত তারিখ উল কামিল// উল্লেখ্য তারিখ আল কামিল ১৩ ভলিউমের আরবী ইতিহাস বই যা লেখা হয়েছে ১২৩১ সালে, মানে নবীর মৃত্যুরও ৬০০ বছর পর। নবীর জীবনকালে মক্কার জনসংখ্যা কত ছিল সেটা জানাতে অপারগ ইসলামের আদি উৎস বা ইতিহাসবিদগণ। বা তারিখ আল কামিলের কোন ভলিউমের কোন পৃষ্ঠায় জাকিরের ভাব পুত্র সেই তথ্য পেয়েছে তাও সে জানায়নি। আর এই ভুল তথ্য দাতা সে জাকির হোক বা স্বঘোষিত বেদ পণ্ডিত বেদপ্রকাশই হোক দুজনেই মিথ্যাবাদী ভিন্ন কিছুই নয়।



মোল্লাঃ এরপরের মন্ত্র অথর্ববেদ ২০/১২৭/ , 

উষ্ট্রা ঈয়াশা প্রবাহানো
= ঊট দ্বারা প্রবাহিত তাহার বাহন।
বধূ মন্তো দ্বির্দশ
= ১২ জন স্ত্রী সমেত।

অর্থাৎ আমরা দেখতে পাই যে সেই নারাশাংসা চড়বেন ঊটের বাহনে এবং তাহার স্ত্রী হবে ১২ জন। অর্থাৎ নরাশাংসা বাস করবেন মরুভুমিতে। আর মনুসংহিতা ১১/২০১ এর মতে একজন ব্রাক্ষণের উটে চড়া নিষিদ্ধ। এখানে অসাধারন মিল যে মুহাম্মদ সঃ এর বাহন ছিল উট এবং তার স্ত্রীগন ছিলেন ১২ মতান্তরে ১৩ জন।
উল্লেখ্য আধুনিক বেদ ভাষ্যকররা এখানে ১২ জন স্ত্রীর কথা চেপে যেয়ে অন্যভাবে অনুবাদ করেছে, যেমন আর্য সমাজীরা এভাবে করেছে, উটের ১২ জন স্ত্রী, অর্থাৎ এই ১২ জন স্ত্রী নাকি উটদের। কি হাস্যকর। উটরা কি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় যে তাদের স্ত্রীর কথা বলা হবে ? মুল অর্থকে অন্যদিকে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা আর কি। পন্ডিত বেদ প্রাশ উপোধ্যায় এই ১২ জন স্ত্রী নারাশাংসার হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 -শ্রী অমরেন্দ্র নাথ সাহা লিখেছেন এভাবে, “স্ত্রীগণও সদা থাকে সঙ্গেতে তাহার 

আর্যঃ এবার দ্বিতীয় মন্ত্র দেখি কি বলছে আসলেঃ

অথর্ববেদ ২০.১২৭.২

উষ্ট্রা য়স্য প্রবাহণো বধূমন্তো দ্বির্দশ।

বর্ষ্মা রথস্য নি জিহীডতে দিব ইষমাণা উপস্পৃশঃ।।

অর্থঃ (য়স্য) যার (প্রবাহণঃ) বাহনকে চালনা করবে (দ্বির্দশ) বিশটি (উষ্ট্রাঃ) উট (বধূমন্তঃ) ও উটনী (রথস্য) সেই রথের (বর্ষ্মা) শিখর (দিবঃ) দ্যুলোককে (উপস্পৃশঃ) স্পর্শ করার (ইষমাণাঃ) অভিলাষ নিয়ে (নি জিহীডতে) চলতে থাকবে


এটি হচ্ছে এই মন্ত্রের আক্ষরিক অর্থ। এই মন্ত্রটি মূলত আধ্যাত্মিক এক অর্থ বহন করছে। যেহেতু আরব সাম্রাজ্যবাদীরা আধ্যাত্মিকতার ধারে কাছে দিয়ে যায় না, তাই তাদের মিথ্যাচার দমন করতে গিয়ে আধ্যাত্মিকতার সন্দেশ এনে তাদের মস্তিষ্ক বিভ্রাট ঘটাতে চাই না। তবে যারা এই মন্ত্রের আধ্যাত্মিক অর্থ জানতে চান তারা এই লেখার একদম শেষে এর আধ্যাত্মিক অর্থ অবগত হবেন। যেহেতু আরব বেদুঈনদের আধ্যাত্মিকতার কোন চর্চাই নেই তাই এখানে আর তা উল্লেখ করলাম। তাদেরকে তাদের পছন্দ আক্ষরিক অর্থ দিয়েই জবাব দেই।

তারা বলছে //নারাশাংসা চড়বেন ঊটের বাহনে এবং তাহার স্ত্রী হবে ১২ জন// হাঁহাঁ। এখানেই বোঝা গেল উক্ত সংস্কৃত বিশেষ-অজ্ঞ এবং স্বঘোষিত বেদ বিশেষ-অজ্ঞ এর সংস্কৃতের জ্ঞান কতদূর। মহা ফণ্ডিতগণ //দ্বির্দশ// অর্থ করেছে ১২!!! অথচ দ্বির্দশকে ভাঙ্গলে পাই দ্বিবারং দশঃঅর্থাৎ দুই বার দশ মানে বিশ। হে ঈশ্বর আমাদের রক্ষা করুন এরা ২০ কে বানিয়ে দিচ্ছে ১২। হে কাঠমোল্লা আপনার ত্রিকালদর্শী মহা ফণ্ডিত স্বঘোষিত বেদ বিশেষ-অজ্ঞ তথা সংস্কৃতের একমাত্র স্কলার বেদ প্রকাশ ছাড়া অন্তত এক জন অনুবাদকের কথা বলুন যে দ্বির্দশ অর্থ করেছে ১২। কেয়ামত পর্যন্ত আপনাকে আয়ু দিলেও আপনি তা খুঁজে পাবেন না। আপনার ভাব পিতা জাকির নায়েকও এত বড় মিথ্যা দাবী করার স্পর্ধা দেখায় নি। উক্ত কাঠমোল্লার আর্য সমাজের প্রতি আক্ষেপ তাঁরা নাকি ইচ্ছে করে বেদ মন্ত্রের অর্থ বিকৃত করে! আসলে ওই কাঠমোল্লার আর্য সমাজ না সত্যের প্রতি ভয়।



মোল্লাঃ সংস্কৃত দ্বির্দশ মানে নাকি ২০ তাহলে প্রশ্ন সংস্কৃত বিংশতি মানে কি ? তবে এটা সত্য যে দ্বির্দশ মানে ২০ ও ধরা যায়, ১২  ধরা যায় ওর ব্যাখা দ্ব +দশ =  X ১০ = ২০ তাহলে একাদশের পর দ্বাদশকে দুই দশ অর্থাৎ দ্বা+দশ= X ১০ = ২০ ধরতে সমস্যা কি? কিন্তু আমরা কি একাদশের পর দ্বাদশকে বিশ ধরি না ১২ ধরি ? তাই ব্যাখানুযায়ী কেউ দ্বির্দশকে ২০ কিংবা ১২ ধরতে পারে আর বেদ প্রকাশ উপোধ্যায় সংস্কৃত অধ্যাপক, তিনি দ্বির্দশ মানে কি এটা জানেন না এমন ধরা বোকামী অন্যদিকে সংস্ক্রৃত ভাষার উপরে এই মুর্খের কোন ডিগ্রি আছে কিনা পারলে সেটা দেখাক 






আর্যঃ সংস্কৃতে বিশেষ-অজ্ঞ কাঠমোল্লা শুধাচ্ছেন দ্বির্দশ যদি ২০ হয় //তাহলে প্রশ্ন সংস্কৃত বিংশতি মানে কি?// আজ্ঞে বিংশতি মানেও ২০।

তারপর কাঠমোল্লা কহিল বিষাদে //তবে এটা সত্য যে দ্বির্দশ মানে ২০ ও ধরা যায়, ১২  ধরা যায়//, আজ্ঞে এই আয়াত কি আপনার উপর নাজিল হল নাকি? নাকি আপনার ভাব পিতৃত্ব জাকির থেকে বদলিয়ে বেদ প্রকাশে সমর্পণ করছেন? বেদ প্রকাশ যা বলিবে তাহাই ঠিক? আপনার অতিপ্রিয় গ্রিফিথ, ব্লুমফিল্ড, ওয়েবার, মুর সবাই কিন্তু দ্বির্দশ বলতে ২০-ই অর্থ করেছেন। আর বৈদিক কোশেও দ্বির্দশ এর কি অর্থ আছে আপনারা সকলে দেখে নিনঃ






কি স্পষ্টাক্ষরে হিন্দিতে বীসলেখা বুঝতে পারছেন তো? যারা সত্যান্বেষী তাঁরা বুঝে গেছেন। কিন্তু কুয়োর ব্যাঙের মত স্বভাব যাদের সে ফন্ডিতেরা মানবে কেন? তারা কি বলে দেখুনঃ

সে বলে //ওর ব্যাখা দ্বি +দশ =  X ১০ = ২০ তাহলে একাদশের পর দ্বাদশকে দুই দশ অর্থাৎ দ্বা+দশ= X ১০ = ২০ ধরতে সমস্যা কি? কিন্তু আমরা কি একাদশের পর দ্বাদশকে বিশ ধরি না ১২ ধরি? তাই ব্যাখানুযায়ী কেউ দ্বির্দশকে ২০ কিংবা ১২ ধরতে পারে//
 আপনার ঘিলু যদি না থাকে তো আপনাকে দোষ দেই কি করে বলুন। প্রথম শ্রেণি দ্বিতীয় শ্রেণি পাস করেছেন তো? সেখানে ১০ এর নামতা পড়েছিলেন? পড়েননি তো! এই জন্যই বলছেন সমস্যা কি! আপনার বন্ধুরা কেও ১০ এর নামতা পারলে শিখে নিয়েন, সহজে মনে রাখার জন্য কিভাবে নামতা মুখস্ত করত। ১০ একে ১০, দুই দশে ২০, তিন দশে ৩০... এভাবে। আর এক দুই শিখবেন এভাবে প্রথম, দ্বিতীয়,......,একাদশ, দ্বাদশ,......,উনবিংশ,বিংশ বুঝেছেন? এখানে একাদশ এর পর দ্বাদশ যেমন ১২ বোঝায় বিংশ বা ২০ বোঝায় না, তেমনি ১০ একে ১০ এর পর দুই দশে ২০ বা বিংশ বোঝায় ১২ বা দ্বাদশ বোঝায় না। অথর্ববেদের দ্বির্দশ দ্বারাও ২০ বা বিংশতি বোঝায়, একাদশের পর যে দ্বাদশ সেই ১২ কে বোঝায় না।



আমাদের এই বিশেষ গনিতজ্ঞ, সংস্কৃতজ্ঞ এবার কি বলে দেখুন //আর বেদ প্রকাশ উপোধ্যায় সংস্কৃত অধ্যাপক, তিনি দ্বির্দশ মানে কি এটা জানেন না এমন ধরা বোকামী অন্যদিকে সংস্ক্রৃত ভাষার উপরে এই মুর্খের কোন ডিগ্রি আছে কিনা পারলে সেটা দেখাক // 
বেদ প্রকাশ কত বড় অধ্যাপক তা তো আগেই বললামই। এত বড় অধ্যাপক যে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কোন রেকর্ডসই নাই। এই বেদ প্রকাশ(প্রকৃত নাম মিথ্যা প্রকাশ) যে শুরু থেকেই মিথ্যাচার করছে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই, নতুবা সংস্কৃতে সংখ্যা গণনার নতুন সুত্র আবিষ্কার হত না। সে আমাদের কি ডিগ্রী আছে জানতে চায়, তাকে বলি সে যে বেদ নিয়ে নানা লেখালেখি করে তার ডিগ্রীখানা কি তা সে পেশ করুক তারপর আসুক একজন সনাতন ধর্মীর তার ধর্মগ্রন্থ পড়তে কি ডিগ্রী লাগবে তা জানতে।



সে বলা শুরু করল //নরাশাংসা বাস করবেন মরুভুমিতে। আর মনুসংহিতা ১১/২০১ এর মতে একজন ব্রাক্ষণের উটে চড়া নিষিদ্ধ// এখানে কোন মন্ত্রই বলছে না নরাশংস মরুভূমিতে বাস করবে। আর ১নং মন্ত্রের ব্যাখ্যাতেও বলেছি যেকোনো রাজাই নরাশংস পদবী পাবেন যদি সে সোম যজ্ঞ সম্পাদন করে, চায় সে মরুভূমি হোক বা উত্তর মেরুর হোক বা আমাজনের গহীন জঙ্গলের হোক। আর দ্বিতীয় কথা মনুসংহিতা ব্রাহ্মণের উটে চড়া না করলেও ক্ষত্রিয়ের করেনি। আর এই সূক্তের প্রথম থেকেই প্রমাণ দিয়ে আসছি এটা রাজার উদ্দেশ্যে মানে ক্ষত্রিয়কে বলা হচ্ছে, কোন ব্রাহ্মণকে না।



সেই বিশেষজ্ঞ আবার বলছে //এখানে অসাধারন মিল যে মুহাম্মদ সঃ এর বাহন ছিল উট এবং তার স্ত্রীগন ছিলেন ১২ মতান্তরে ১৩ জন। // হ্যাঁরে ভাই ২০ কে ১২ বানিয়ে তারপর আরও এক যোগ করে ১৩ বানালে অসাধারণ মিল তো পাওয়াই যাবে।

সে আবারো বলে //উল্লেখ্য আধুনিক বেদ ভাষ্যকররা এখানে ১২ জন স্ত্রীর কথা চেপে যেয়ে অন্যভাবে অনুবাদ করেছে, যেমন আর্য সমাজীরা এভাবে করেছে, উটের ১২ জন স্ত্রী, অর্থাৎ এই ১২ জন স্ত্রী নাকি উটদের। কি হাস্যকর। উটরা কি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় যে তাদের স্ত্রীর কথা বলা হবে ? মুল অর্থকে অন্যদিকে নেয়ার আপ্রান চেষ্টা আর কি। পন্ডিত বেদ প্রাশ উপোধ্যায় এই ১২ জন স্ত্রী নারাশাংসার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। -শ্রী অমরেন্দ্র নাথ সাহা লিখেছেন এভাবে, “স্ত্রীগণও সদা থাকে সঙ্গেতে তাহার// আচ্ছা আধুনিক আর্য সমাজী ভাষ্যকাররা না হয় ভুল বানাচ্ছে, তো একজন প্রাচীন ভাষ্যকার দেখান যে সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। নাকি আপনার দ্বিতীয় ভাব পিতা মিথ্যা প্রকাশ ওই আয়াত নাজিল করেছে বিধায় তাইই হবে! আর মোটকথা কোন আর্যসমাজী ভাষ্যকার উটের ১২ স্ত্রীর কথা বলেনি। সকল আর্য সমাজী, এমনকি আপনার পশ্চিমা ভাব পিতা ব্লুমফিল্ড, গ্রিফিথও অনুবাদ করেছে ২০ টি উট ও উটনি বা মাদী উট এর টানা রথ।

মোল্লাঃ এই সুক্তে কোথাও নারাশাংসাকে রাজর্ষি বলা হয়নি। তবে এখানে তার দুটি বৈষিষ্ট, সে হবে ঋষি এবং একি সাথে তার মধ্যে থাকবে যুদ্ধের গুনাবলি অর্থাৎ হিন্দু ধর্মমতে ক্ষত্রিয় গুনাবলি। ঋষি অর্থ যিনি জাগতিক দুনিয়ার বাইরের জ্ঞানকে লব্ধ করেন। আর ক্ষত্রিয় গুন হচ্ছে যে যুদ্ধ করতে পারদর্শি। এই দুটা গুনই যে শেষ নবি হযরত মুহাম্মদ সঃ এর সাথে যায় এটা কি এরা অস্বীকার করতে পারবে ? তিনি নবুয়াতের দ্বারা জাগতিক দুনিয়ার বাইরের জ্ঞানকে লব্ধ করেন এবং একি সাথে তিনি আত্তরক্ষার্থে বহু যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। আর মরুভুমি রাজস্থানেও আছে, তাহলে অগ্নিবীরকে প্রশ্ন বিগত হাজার বছরে কোন সে নারাশাংসাঁ এসেছে রাজস্থানে যার স্তুতি করছে বেদ এভাবে ? তার পরিচয় কি অগ্নিবীরের মত ভন্ডরা দেখাতে পারবে ? ভবিষ্যতে কোন নারাশাংসা আসবে না বরং সে এসে গেছে এর প্রমান তার বাহন হবে উট। আর এখন মাইলকে মাইল পাকা সড়ক হওয়া রাজস্থানে উটের বাহন দেখা যায় না। উঠের বাহন এখন শুধু ট্যুরিষ্ট শো। তাই আধুনিক যুগে এসে উটএর বাহনে সে চড়ে বেরাবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবার রাজ ঋষি কনসেপ্ট, রাজা কর্তক উপহার, ময়দানে ষাট হাজার শত্রুর সাথে যুদ্ধে প্রমান করে যে এটি আধুনিক চিত্র নয়। অর্থাৎ নারাশাংসা এমন একজন যিনি এসে গেছেন। তাহলে এইসব ভন্ডরা এবার তাহলে দেখাক কোথায় সেই নারাশাংসা ?

আর্যঃ সে বলে //এই সুক্তে কোথাও নারাশাংসাকে রাজর্ষি বলা হয়নি// ঠিক ঠিক এই সূক্তে কোথাও নরাশংসকে রাজর্ষি বলা হয়নি।

এবার বলছে //তবে এখানে তার দুটি বৈষিষ্ট, সে হবে ঋষি এবং একি সাথে তার মধ্যে থাকবে যুদ্ধের গুনাবলি অর্থাৎ হিন্দু ধর্মমতে ক্ষত্রিয় গুনাবলি// এবার পাঠকেরা আপনারাই বিচার করুন ওই বিশেষ-অজ্ঞ কতটা অজ্ঞ! একটু আগে বলল এই সূক্তের কোথাও নরাশংসকে রাজর্ষি বলা হয়নি, তবে ওই নরাশংসের নাকি দুটি গুণ থাকবে ১) সে হবে ঋষি আর ২) তার মাঝে থাকবে ক্ষত্রিয়ের গুণ। আমরা তো জানতাম এই দুটো গুণ থাকলে তাকে রাজর্ষিই বলা হয়। তাহলে যে মাত্র বললেন এই সূক্তে রাজর্ষির কথা নেই? প্রিয় পাঠকেরা মিথ্যাচারী, কপটচারী ছলনা দেখে নিন। //তিনি নবুয়াতের দ্বারা জাগতিক দুনিয়ার বাইরের জ্ঞানকে লব্ধ করেন এবং একি সাথে তিনি আত্তরক্ষার্থে বহু যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন//  তাদের নবী কি করেছে না করেছে সেটা ইবন হিশামের এর সিরাত, আল তাবারির তারিখ আল তাবারি, ইবন কাসিরের আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া প্রভৃতি বইগুলো পড়লেই জানতে পারবেন।

সে আরও বলছে //অগ্নিবীরকে প্রশ্ন বিগত হাজার বছরে কোন সে নারাশাংসাঁ এসেছে রাজস্থানে যার স্তুতি করছে বেদ এভাবে? তার পরিচয় কি অগ্নিবীরের মত ভন্ডরা দেখাতে পারবে? ভবিষ্যতে কোন নারাশাংসা আসবে না বরং সে এসে গেছে এর প্রমান তার বাহন হবে উট। আর এখন মাইলকে মাইল পাকা সড়ক হওয়া রাজস্থানে উটের বাহন দেখা যায় না। উঠের বাহন এখন শুধু ট্যুরিষ্ট শো। তাই আধুনিক যুগে এসে উটএর বাহনে সে চড়ে বেরাবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। আবার রাজ ঋষি কনসেপ্ট, রাজা কর্তক উপহার, ময়দানে ষাট হাজার শত্রুর সাথে যুদ্ধে প্রমান করে যে এটি আধুনিক চিত্র নয়। অর্থাৎ নারাশাংসা এমন একজন যিনি এসে গেছেন। তাহলে এইসব ভন্ডরা এবার তাহলে দেখাক কোথায় সেই নারাশাংসা?// মানে সে ধরেই বসে আছে বেদে ভবিষ্যৎবাণী আছে। কিন্তু আমরা আবারো বলছি বেদে কোন ভবিষ্যৎবাণী নেই। তাই তার এসব প্রলাপ বৃথা। আর কুন্তাপ সূক্তে কোন ভবিষ্যৎবাণী করা হয় নি।



মোল্লাঃ এরপর ৩ নাম্বার মন্ত্রে তাকে বলা হয়েছে Mamah ঋষি। এই শব্দটি এখানে মূলত প্রপার নাউন হিসেবেই এসেছে কিন্তু আধুনিক অনেক স্কলাররা এই শব্দটিকে একটি অর্থগত রুপ দেয়ার চেষ্টা করেছে।তবে বহু স্কলাররাই এটাকে প্রপার নাউন হিসেবেই নিয়েছে। যেমন নীচে আচার্য্য শ্রী রাম শর্মার অনুবাদ, তিনি মামহ ঋষি বা প্রপার নাউন হিসেবেই নিয়েছেন,





বিভিন্ন ইসলামিক নাম সংস্কৃততে কিছুটা পরিবর্তিতভাবে আসে। যেমন Mahmud’ Ghaznavi সংস্কৃততে উচ্চারন হয় Mamud’ Gajnavi, উহ্য হয়ে যায়। তেমনি Mamah যে Mahmad এর সংস্কৃত আলেখ্য এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এখানে দ টি ইহ্য হয়েছে ও হ স্থান পরিবর্তন হয়েছে। মন্ত্রের পরের অংশে বলা হয়েছে, তাকে প্রদান করা হবে, ১০০ স্বর্নমুদ্রা ১০ টী গলার হার, ৩০০ ঘোড়া, ১০ হাজার গরু। পন্ডিত বেদ প্রকাশ উপোধ্যায় এর মতে এখানে স্বর্নমুদ্রা, হার, অশ্ব ও গাভী- এইগুলি পার্থিব অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে না । কারণ এই সকল পার্থিব বস্তু লাভের দ্বারা কোন ঋষির মাহাত্ন প্রকাশ পায় না, বরং তাহার পার্থিব-কলুষতাই প্রকাশ করে প্রকৃতপক্ষে এইগুলি অলংকারিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যে বিষয়ে প্রায় সকল স্কলাররাই একমত। তুলসীরাম এই মন্ত্রগুলোকে Mystical বলে আখ্যায়িত করেছে।  আচার্য্য শ্রী রাম শর্মা এই সুক্তের কমেন্টারিতে লিখেছেন, এই কুন্তাপ সুক্তটি ও এর সম্বন্ধিত শব্দগুলোর অর্থ আক্ষরিক নয় বরং সাংকেতিক। নীচে স্ক্রীনশট



এখন এখানে কি সাংকেতিক অর্থ দাড়াতে পারে আসুন দেখি, যা বেদ প্রকাশ উপোধ্যায় তার বইয়েও উল্লেখ করেছেন, ১০০ স্বর্নমুদ্রা নির্দেশ করে অবিসিনিয়ায় হিজরতরত নবিজীর ১০০ সাহাবীকে, যাদের বলা হত আসহাবে সুফফা'  কারন এই একশ সাহাবী ছিল সেইসময় নবিজির নিকট স্বর্নমুদ্রার মত মূল্যবান। ১০ টি গলার হার, গলার হার বলা হয় রুপকভাবে অতিপ্রিয় কোন জিনিস বা ব্যাক্তিকে। নবিজির এরকম গলার হারস্বরুপ প্রিয় দশজন সাহাবী ছিল, যাদের বলা হত আশরা ই মুব্বাশ্বরাহ বা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত। ৩০০ ঘোড়া, যেটি নির্দেশ করে বদর যুদ্ধের ৩০০ মুসলিম বিজেতার। কাফেরদের হাজার সৈন্যের বিপক্ষে মুসলিমরা ছিল মাত্র ৩১৩ জন।এরপরো মুসলিমরা জয়ী হয় ও যুদ্ধে ১৩ জন মুসলিম শহীদ হয় ও বাকি ৩০০ জন ফিরে আসেন। এইজন্য উক্ত তিনশত জনকে ধর্মের ক্ষেত্রে 'অশ্ব' উপাধি দান করা হয় যাহারা ইতিহাসে 'বদর সাহাবা' নামি খ্যাত আছেন। ১০ হাজার গরু, নির্দেশ করে অষ্টম হিজরিতে মক্কাবিমুখে রওনা দেয়া নবিজির ১০ হাজার সাহাবীকে ।মক্কাবাসীগণকে সামান্য প্রতিরোধ করার পর নিঃশর্ত আত্নসমর্পন করে হযরত মোহাম্মদ সা: তাহাদের প্রতি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রদর্শন করলে তাহার দশহাজার শিষ্য-সৈন্যগণও সকলের প্রতি উদার ব্যবহার করেন ।বেদ সম্পর্কে অশিক্ষিত এইসব গাধারা বৈদিক স্কলারদের ভাষ্য সম্পর্কেই অজ্ঞ। একজন ঋষি দশ হাজার গরু দিয়ে কি করবে? ডেইরি ফার্ম খুলবে নাকি? উপরে দেখিয়েছি যে বেদ স্কলাররা এই সুক্ত ও এর আনুষংগিক জিনিসগুলোর অর্থকে আক্ষরিক নয় বরং সাংকেতিক বলে মত দিয়েছেন। এরপরো এই মুর্খরা কিভাবে ফালাফালি করে?

আর্যঃ ওই কাঠমোল্লা, মিথ্যা প্রকাশ আর জাকির নায়েক সবাই দাবী করছে তিন নাম্বার মন্ত্রে নাকি Mamah ঋষিএর কথা আছে। চলুন দেখে নিই ৩নং মন্ত্র আসলে কি বলছে,

অথর্ববেদ ২০.১২৭.৩

এষ ইষায় মামহে শতং নিষ্কান্দশ স্রজঃ।

ত্রীণি শতান্যর্বতাং সহস্রা দশ গোনাম্।।

অর্থঃ (এষঃ) এই রাজা (ইষায়) উদ্যোগী বা প্রার্থিত পুরুষকে (শতং) শত (নিষ্কান্) স্বর্ণ মুদ্রা (দশ) দশটি (স্রজঃ) মালা (ত্রীণি শতানি অর্বতাম্) তিনশত অশ্ব এবং (গোনাম্ সহস্রা দশ) দশ হাজার গরু (মামহে) দান করবে।

অর্থাৎ এই মন্ত্রে দেখতে পাচ্ছি কোনও ঋষির নাম গন্ধ নেওয়া হয়নি। কিন্তু কাঠমোল্লার দাবী //তাকে বলা হয়েছে Mamah ঋষি। এই শব্দটি এখানে মূলত প্রপার নাউন হিসেবেই এসেছে কিন্তু আধুনিক অনেক স্কলাররা এই শব্দটিকে একটি অর্থগত রুপ দেয়ার চেষ্টা করেছে।তবে বহু স্কলাররাই এটাকে প্রপার নাউন হিসেবেই নিয়েছে। 
যেমন আচার্য্য শ্রী রাম শর্মার অনুবাদ, তিনি মামহ ঋষি বা প্রপার নাউন হিসেবেই নিয়েছেন// উল্লেখ্য ৩নং মন্ত্রে কেবল একটি ক্রিয়া পদই আছে। আর তা হল মামহেযা উৎপত্তি লাভ করেছে মংহতেথেকে যা নিঘণ্টু ৩/২০ অনুযায়ী দান কর্ম। তার মানে মামহেঅর্থ দাঁড়াচ্ছে দান করবে। এখন কেও যদি একে প্রপার নাউন বলে দাবী করে থাকে তবে তাকে প্রশ্ন করছি এই মন্ত্রে ক্রিয়া পদ কোনটি দেখিয়ে যান পন্ডিতজী। নাকি বলবেন এই মন্ত্রে কোন ক্রিয়া পদই নেই!!!



তার দাবী //বিভিন্ন ইসলামিক নাম সংস্কৃততে কিছুটা পরিবর্তিতভাবে আসে। যেমন Mahmud’ Ghaznavi সংস্কৃততে উচ্চারন হয় Mamud’ Gajnavi, ‘ উহ্য হয়ে যায়। তেমন Mamah যে Mahmad এর সংস্কৃত আলেখ্য এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। এখানে দ টি ইহ্য হয়েছে ও হ স্থান পরিবর্তন হয়েছে।// যেহেতু মামহে বিশেষ্য পদ নয় উপরন্তু ক্রিয়াপদ তাই কাঠমোল্লার এই প্রলাপ বাতুলতা ছাড়া কিছুই না।

তারা বলে //মন্ত্রের পরের অংশে বলা হয়েছে, তাকে প্রদান করা হবে, ১০০ স্বর্নমুদ্রা ১০ টী গলার হার, ৩০০ ঘোড়া, ১০ হাজার গরু। পন্ডিত বেদ প্রকাশ উপোধ্যায় এর মতে এখানে স্বর্নমুদ্রা, হার, অশ্ব ও গাভী- এইগুলি পার্থিব অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে না । কারণ এই সকল পার্থিব বস্তু লাভের দ্বারা কোন ঋষির মাহাত্ন প্রকাশ পায় না, বরং তাহার পার্থিব-কলুষতাই প্রকাশ করে প্রকৃতপক্ষে এইগুলি অলংকারিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে যে বিষয়ে প্রায় সকল স্কলাররাই একমত।// হ্যাঁ অবশ্যই এগুলো সাংকেতিক এবং এগুলো আধ্যাত্মিক অর্থ বহন করে।  আর আমরা আমাদের দেয়া মন্ত্রের অনুবাদ থেকে দেখতে পাচ্ছি, এখানে রাজা বা নরাশংস এত কিছু দান করবে। রাজাকে দান করা হবে না। তাহলে সেই কাঠমোল্লা আর মিথ্যাপ্রকাশ যে অনুবাদ করছে //তাকে প্রদান করা হবে// তা ভুল সাব্যস্ত হল। তারপর সেই দানগুলোকে তারা সাহাবা, সৈন্য প্রভৃতি মনগড়া শব্দে মিলাতে চাচ্ছে যা সম্পূর্ণই এই মন্ত্রের ভাবের বিরোধী।



মোল্লাঃ এরপর ৪ নাম্বার মন্ত্রে তাকে বলা হয়েছে রেভ যার অর্থ প্রশংসাকারী। আরবীতে করলে হয় আহমদ, যেটি মুহাম্মদ সঃ এর আরেক নাম। কোরানে তাকে ৪ বার মুহাম্মদ ও ১ বার আহমদ বা প্রশংসাকারী বলে ডাকা হয়েছে । নীচে উল্লিখিত মন্ত্রের আচার্য্য শ্রী রাম শর্মার অনুবাদ,



জাকির নায়েক ও বেদ প্রকাশ উপাধ্যায় ৪ নং মন্ত্র সম্পর্কে বলেন, This mantra calls the Prophet as Rebh which means one who praises, which when translated into Arabic is Ahmed, which is another name for the Holy Prophet (pbuh).

আর্যঃ চলুন দেখি চার নং মন্ত্র কি বলছে,

অথর্ববেদ ২০.১২৭.৪

বচ্যস্য রেভ বচ্যস্য বৃক্ষে ন পক্বে শকুনঃ।

নষ্টে জিহ্বা চর্চরীতি ক্ষুরো ন ভুরিজোরিব।।

অর্থঃ (রেভ) হে স্তোতা! (বচ্যস্য) স্তুতি কর (বচ্যস্য) স্তুতি কর, (ন)  যেভাবে (শকুনঃ) পাখি (পক্বে) পাকা ফলশালী (বৃক্ষে) গাছে কিচিরমিচির করে। (নষ্টে) দুঃখ ছড়িয়ে পড়লে বা ধন সম্পদ নাশ হলে (ভুরিজোঃ) তার ধারণকর্তা (ইব) যেভাবে (জিহ্বা) জিহ্বা (চর্চরীতি) চালায়[আক্ষেপ বা বিলাপ করে], (ন) যেভাবে (ক্ষুরঃ) [চুল কাঁটার সময়] কাঁচি শব্দ করে [সেভাবে শব্দ করে স্তুতি কর]।



মিথ্যাবাদীদের দাবী এখানে রেভ নাকি মুহাম্মদকে বোঝাচ্ছে। হ্যাঁ রেভ অর্থ স্তোতা বা প্রশংসাকারী, কিন্তু রেভ দ্ব্বারা কেবল একজন স্তোতাকে বোঝাচ্ছে না। সকল স্তোতা যারা ঈশ্বরের স্তুতি করে তাঁরা সকলেই রেভ পদবাচ্য। তাছাড়া রেভ দ্বারা বিশেষ কোন স্তোতাকেও বোঝায় না। নিঘণ্টু কোষ ৩.১৬ অনুযায়ী স্তোতা এর ১৩ টি সমবাচক শব্দ আছে, তার একটি হচ্ছে রেভ। আর এই মন্ত্রে আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন এমন কোন কথা নেই যা নির্দেশ করে ভবিষ্যতে কোন স্তোতা আসবে যার নাম হবে রেভ, যা আরবী করলে দাঁড়াবে আহমদ।



মিথ্যাচারী আরও দাবী করে আর্য সমাজের ভাষ্যকার(মূলত ক্ষেমকরণজী) নাকি এই মন্ত্রে তাঁর করা অনুবাদে ক্লেশ, স্ত্রী পুরুষ এই শব্দ গুলো নিজের ইচ্ছা মত যোগ করেছে, মন্ত্রে এমন কোন নির্দেশ নাকি নেই। আমি সেই মিথ্যাচারীকে বলব ক্ষেমকরণজীর সংস্কৃত ভাষ্য দেখুন, কি জন্য তিনি নষ্টেপদের অর্থে ক্লেশ এনেছেন বা ভুরিজোঃএর অর্থে ব্র্যাকেটের ভিতর স্ত্রী পুরুষ এনেছেন তা সংস্কৃত-অজ্ঞ মিথ্যাচারী কিভাবে বুঝবে? ক্ষেমকরণজীর সংস্কৃত ভাষ্যে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, “নষ্টে নশৎ, ব্যাপ্তি কর্মা-নিঘ. ২.১৮ ব্যাপ্তে দুঃখেঅর্থাৎ নষ্টে এর উৎপত্তি হয়েছে নশৎ থেকে যা নিঘণ্টু অনুযায়ী ব্যাপ্ত হয় এমন কিছু, অর্থাৎ নষ্টে বলতে বোঝাচ্ছে দুঃখ বা ক্লেশের বিস্তার। দ্বিতীয়ত ভুরিজোঃ ভৃঞ উখ। উ. ২.৭২ উভৃঞ ধারণপোষণয়োঃ-ইতি কিৎ, উকারান্তাদেশঃ। ধারক-পোষকদোঃ স্ত্রীপুরুষোঅর্থাৎ উনাদি কোষ অনুযায়ী ভুরিজোঃএসেছে ভৃঞ ধাতু থেকে যা ধারক পোষক নির্দেশ করে, আর এই মন্ত্রে ধারক পোষক কে? যার মাঝে দুঃখ বিস্তার হয়, সেই স্ত্রী পুরুষই ধারক পোষক।

মোল্লাঃ ৫ নাম্বার মন্ত্রটি গ্রিফিন্থ এভাবে অনুবাদ করেছে,
Quickly and willingly like kine forth come the singers and their hymns: Their little maidens are at home, at home they wait upon the cows.
বাংলা করলে দাড়ায়,
শিকারী-দেখিয়া যেমন শিকারগণ
বলশালী বৃষবৎ করিয়া পলায়ন ।।
গৃহেতে থাকে তাহাদের কেবল বৎসগণ
অপেক্ষা করিয়া থাকে গাভীদের জন্য ।।
এর আগের মন্ত্রে গরু যে আক্ষরিক নয় তা এই মন্ত্রেই প্রমানিত হয়। গাভীদের জন্য তাদের বৎসগণ অধীর আগ্রহে বাড়িতে অপেক্ষা করছে, এটা খুব স্পষ্টভাবে কুরাইশদের অত্যাচারে হিজরতকারী সেই সাহাবীদের পরিজনদের কথা বলেছে, যারা গৃহে বসে তাদের ফিরে আসার অপেক্ষা করছিল।অষ্টম হিজরিতে মক্কা বিজয়ের পর সাহাবীরা পুনরায় নিজ মাতৃভুমিতে এসে ফেলে আসা সন্তান সন্ততি ও পরিবার পরিজনদের সাথে মিলিত হবার সুযোগ পায়।

আর্যঃ হাহাহা, সে লিখে //Quickly and willingly like kine forth come the singers and their hymns: Their little maidens are at home, at home they wait upon the cows.
বাংলা করলে দাড়ায়,
শিকারী-দেখিয়া যেমন শিকারগণ
বলশালী বৃষবৎ করিয়া পলায়ন ।।
গৃহেতে থাকে তাহাদের কেবল বৎসগণ
অপেক্ষা করিয়া থাকে গাভীদের জন্য ।।// গ্রিফিথের অনুবাদের যা বাংলা করেছে তা দেখে না গ্রিফিথ মহাশয় দ্বিতীয়বার মৃত্যুবরণ করে। আপনারা নিজেরাই গ্রিফিথের অনুবাদ আর মিথ্যাচারীর করা বাংলা অনুবাদ মিলিয়ে দেখুন। এই মন্ত্রের প্রকৃত অর্থ দেখুনঃ

অথর্ববেদ ২০.১২৭.৫
প্র রেভাসো মনীষা বৃষা গাব ইবেরতে।
অমোতপুত্রকা এষামমোত গা ইবাসতে।।

অর্থঃ (বৃষাঃ) বলশালী (গাবঃ ইব) গরু যেমন [সামনে চলে] (রেভাসঃ) স্তোতাদেরও (মনীষাঃ) বুদ্ধি (প্র ইরতে) গতিময় হয়। (এষাম্) এই স্তোতাদের (অমা) ঘরে (উত পুত্রকাঃ) তাদের সন্তানরা (আসতে) এমনভাবে আসীন হয় (ইব) যেমন (অমা) তাদের বাড়িতে (উত গাঃ) গরুসমূহ উচ্চ মর্যাদা পায়।



সত্যের বিরোধীরা বারবার বলতে চায় রেভ বলতে নাকি শুধু মোহাম্মদকে বোঝানো হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কথা হচ্ছে রেভ বলতে শুধু একজন বিশেষ স্তোতা নয় সকল স্তোতাকেই বুঝিয়েছে, যা আমরা পূর্বের মন্ত্রে উল্লেখ করেছি। আর এই মন্ত্রে দেখুন রেভ বহুবচনে রেভাসঃ ব্যবহৃত হয়েছে, তার মানে স্তোতা একজন নয়, আহমেদ কেবল একজন নয়। এই মন্ত্রটি আমাদের সত্য দাবীর প্রতিই সমর্থন করছে এবং মিথ্যাপ্রকাশ ও তার ভাব পুত্রের মুখে কাঁদা ছুড়ে দিচ্ছে। আর আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন ওই মিথ্যাপ্রকাশ ও তার চ্যালা বারবার মন্ত্রের সঠিক ভাষ্য এড়িয়ে গিয়ে কখনো গণিতের নতুন গণনা পদ্ধতি আবিষ্কার করছে, কখনো ক্রিয়া পদকে বিশেষ্য পদ বানিয়ে দিচ্ছে, সাধারণ বিশেষ্য পদকে সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বানাচ্ছে, কখনো বা তাদের প্রিয় পশ্চিমা মিশনারী গ্রিফিথের অনুবাদের উদ্ভট বাংলা করে মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।




কাঠমোল্লা গ্রিফিথের //Their little maidens are at home, at home they wait upon the cows.// এই অংশ দেখে সে লিখছে //গাভীদের জন্য তাদের বৎসগণ অধীর আগ্রহে বাড়িতে অপেক্ষা করছে// যা সম্পূর্ণই মিথ্যাচার কারণ এখানে তাদের বলতে গাভীদের নয়, স্তোতাদের বোঝানো হয়েছে। গ্রিফিথ নিজেও ফুটনোটে লিখে দিয়েছে এখানে যারা অপেক্ষা করছে তারা গাভীদের দুধ দোহানোর জন্য অপেক্ষা করছে।



মোল্লাঃ এরপর ৬ নম্বর মন্ত্রে রেভ ঋষিকে জ্ঞানময় স্তোত্র (প্রভুর প্রশংসাগীতি) ধারণ করিয়া মানুষের মধ্যে তীরন্দাজের ন্যায় সুনিপূণ ভাবে প্রচার করিতে আদেশ করা হইয়াছে। আচার্য্য শ্রী রাম শর্মা


অপরদিকে, হযরত মোহাম্মদের উপর অবতীর্ণ কোরআনকে 'হাকিম' জ্ঞানময় গ্রন্হ বলা হইয়াছে । আর আশ্চর্য বিষয় যে, কোরআনের প্রথম সূরাটিও প্রভূর প্রশংসা দ্বারা আরম্ভ হইয়াছেঃ" সমস্ত সৃষ্টি জগতের সৃষ্টিকর্তা প্রভূ আল্লাহর সকল প্রশংসা, যিনি অনন্ত করূণাময় পরম দয়ালু ।(সুরা ফাতিহা)"



আর্যঃ আপনারা পূর্বের ৫ টি মন্ত্রে দেখেছেন, কোথাও কোনও ঋষির কথা বলা নেই। বরং তিন নাম্বার মন্ত্রে রাম শর্মার ভুল অর্থ তুলে ওরা ক্রিয়া পদকে বিশেষ্য পদ বানিয়ে দিতে চেয়েছিল। এই মন্ত্রেও সেই মিথ্যুক ঋষি নিয়ে আসছে আবার রেভ ঋষি। কিন্তু মূল সংস্কৃতে ঋষি বাচক কোন শব্দই নেই, আছে রেভ, যার অর্থ স্তোতা বা স্তুতিকারী। আর পূর্বের মন্ত্রেও দেখিয়েছি এই সূক্তে রেভ বলতে কেবল একজনকে বোঝায় নি, বরং সকল স্তোতাকেই রেভ বলে সম্বোধন করেছে।




ওই মিথ্যাবাদী ৬ নং মন্ত্রের রাম শর্মার অনুবাদ তুলে দাবী করছে //রেভ ঋষিকে জ্ঞানময় স্তোত্র (প্রভুর প্রশংসাগীতি) ধারণ করিয়া মানুষের মধ্যে তীরন্দাজের ন্যায় সুনিপূণ ভাবে প্রচার করিতে আদেশ করা হইয়াছে// যা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। সে বাংলাদেশী হিন্দু ও মুসলিমদের হিন্দি জানার অক্ষমতার সুযোগ নিয়ে সে হিরো সাজতে চায়। রাম শর্মা তার অনুবাদে এই অতিকথন মোটেও দাবী করেননি। তিনি অনুবাদ করেছেন,




হে স্তোতাগণ[ভুল অনুবাদ, সঠিক হবে হে স্তোতা’, কারণ রেভ এখানে এক বচনে ব্যবহৃত হয়েছে]! তুমি গোধন উপলব্ধ হয় এমন এবং ঐশ্বর্য সম্পদের প্রাপ্তিভূত প্রেরক বুদ্ধিকে ধারণ কর। যে প্রকারে বাণের সন্ধানকর্তা মানুষদের রক্ষা করে, ঠিক সেভাবেই বাণী তোমাকে রক্ষা করুক। দেবতাদের সামনে এই স্তোত্রসমূহ গান কর।


আশা করি বুঝতে পারছেন মিথ্যাপ্রকাশের অনুসারী মহা ফণ্ডিত কত বড় মিথ্যাবাজি করতে পারে।

মোল্লাঃ এরপর ৭ নাম্বার মন্ত্রে তাকে বলা হয়েছে যে, তিনি হবেন মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট। 
আচার্য্য শ্রী রাম শর্মার অনুবাদ, 





আর মুসলিম পন্ডিত তো বটেই, অমুসলিম পন্ডিতরাও হযরত মুহাম্মদ সঃ কে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট মানব বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। মাইকেল এইচ হার্ট তার ১০০ মনিষির জীবনী গ্রন্থে, মুহাম্মদ সঃ কে সবার প্রথমে রেখেছেন।



আর্যঃ এই মন্ত্রে যে সকল রাজাকে বোঝানো হচ্ছে সেটা ঘিলুহীনের মাথায় ঢুকবে কিভাবে। প্রত্যেকটি দেশের রাজা হওয়া উচিত সে দেশের নাগরিকদের মাঝে শ্রেষ্ঠ জন। আর বেদের এই মন্ত্রেও রাজার সাধারণ গুনটিই বলা আছে। কিন্তু মিথ্যাচারী যে করেই হোক তার সাথে তার নবীকে টেনে আনবেই এই তার ক্রুর উদ্দেশ্য।



এবার কুন্তাপ সূক্তের ২ ও ৩ নং মন্ত্রের আধ্যাত্মিক অর্থ নিচে দেওয়া হল:

২) (য়স্য) যার (প্রবাহণঃ) প্রকৃষ্ট গতিশালী (দ্বিঃ দশ) দশ প্রাণ ও দশ ইন্দ্রিয়- এই বিশ তত্ত্ব (বধুমন্তঃ) বুদ্ধিরূপ প্রকৃষ্ট বধূর মত (উষ্ট্রাঃ) সব দোষকে দহন করে, (রথস্য) তার দেহ রথের (বর্ষ্মা) শিখর (নিজিহীডতে) সকল প্রাকৃত ভোগকে ত্যাগ করে (দিবঃ ইষমাণাঃ) প্রকাশের গতিশীলতা প্রদানকারী (উপস্পৃশঃ) প্রভুর সামীপ্য লাভ করে।

৩) (এষঃ) এই স্তোতা (ইষায়) প্রভু প্রেরণা কে প্রাপ্তির জন্য (মামহে) [প্রভুর পূজা করেন, ফলস্বরূপ] প্রভুর দান করা (শতং নিষ্কান) শত কন্ঠের ভূষণভূত জ্ঞামালাকে আদৃত করেন। প্রভূ দ্বারা প্রদান কৃত এই জ্ঞান স্তোতার (নিষ্ক) কন্ঠহার প্রস্তুত করে। প্রভূ প্রদত্ত (দশ স্রজ) জ্ঞান ও কর্মের উৎপাদক দশ ইন্দ্রিয়ের মাদর করে। এই স্তোতা (শতানি) শত বর্ষ পর্যন্ত (অর্বতাম ত্রীণি) বাসনা সংহারের তিন কে দমন করে [কামসংহার , ক্রোধসংহার, লোভসংহার] (গোনাম) জ্ঞানের বাণির (সহস্র) আনন্দ কে প্রাপ্ত করায়িতা প্রভু (দশ) ধর্মের দশ লক্ষণের জ্ঞান প্রাপ্ত করায়।



তাই সকলের নিকট অনুরোধ আপনারা কারো কথায় প্ররোচিত না হয়ে সত্যের খোঁজ করুন। ঈশ্বর ও বেদের নিত্য বাণীর প্রতি আস্থা রাখুন। সত্যের জয় হবেই হবে।

সত্যমেব জয়তে

8 comments:

  1. এটা অগ্নিবীরের একটা মোক্ষম জবাব।

    ReplyDelete
  2. Excellent! #Bangladesh_Agniveer

    ReplyDelete
  3. ओ३म् सत्यमेव जयते

    ReplyDelete
  4. খুব ভালো লেখা। বৈদিক বিষয় ভালো লেখা পড়তে ভিজিট করুন : বৈদিক আপডেট

    ReplyDelete
  5. খুব সুন্দর

    ReplyDelete
  6. তারা তৈরি করছে বেদ এর অনুরুপ।

    ReplyDelete
  7. অগ্নিবীরকে বিনীত অনুরোধ করছি রমণ শব্দটির ব্যাখ্যা এই পোস্টে অ্যাড করার জন্য। এই লেখাটা অগ্নিবীরের একটা ফেসবুক পোস্ট থেকে কপি করে কমেন্টে দিলাম।

    [[বেদে প্রায় লক্ষাধিক শব্দ রয়েছে। অন্যদিকে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষের নামেরই অর্থ আছে। অতএব যদি কোনো মানুষের নামের অর্থের সাথে বৈদিক শব্দের অর্থ মিলিয়ে বেদে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব খুঁজতে হয়, সম্ভবত আমাকে আপনাকেও বেদে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব কিছু না।

    ঐতরেয় ব্রাহ্মণ অনুসারে সোম যজ্ঞ করার সময় যে সূক্তটি পাঠ করতে হয় সেটিই হল অথর্ববেদের কুন্তাপ সূক্ত। কূন্তাপ সূক্তের প্রথম মন্ত্রে যজ্ঞে একজন প্রশাসক বা রাজা যে সমাজে প্রশংসার পাত্র বীর ব্যক্তিদের দান করেন তা বলা হয়েছে। বলা হচ্ছে

    ইদং জনা উপশ্রুত নরাশংস স্তবিষ্যতে।
    ষষ্ঠিম্ সহস্রা নবতিম্ চ কৌরম রুশমেষু দদ্মহে।।
    অর্থাৎ হে মনুষ্য শোন,মানুষের মধ্যে যারা প্রশংসনীয় হন তাদের গৌরব বর্ণনা করছি,হে পৃথিবীতে সর্বদা প্রসন্ন চিত্তে রমণকারী রাজা(কৌরম),হিংসা,বিদ্বেষকে বিতারণকারী সেই বীরদের কর ষাট সহস্র দান।
    (অনুবাদক- পণ্ডিত ক্ষেমকরণ ত্রিবেদী)

    কৌরম অর্থ নাকি দেশত্যাগী।আবার নবীও মক্কা থেকে মদিনায় দেশত্যাগ করেছিলেন।তাই কৌরম মানেই নাকি নবী! অথচ বাস্তবে কৌরম মানে রমণকারী।মানুষ ও প্রাণীসমূহ পৃথিবীতেই জন্ম নেয়,এখানেই বসবাস করে,প্রতিদিন কর্মস্থলে যায়,বাজারে যায়,ক্ষেতে যায় এগুলোকে বলা হয় রমণ।সে লিখেছে কৌরম মানে হল দেশত্যাগী আর নবীও দেশত্যাগী ছিলেন!!! অথচ কৌরমের অর্থ এর ধারেকাছেও নেই!এখানে রমণ বলতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অভিবাসিত হওয়া নয়।রমণ অর্থ হল একটি জায়গায় সুখেশান্তিতে চলাচল করে বসবাস করা।তাহলে আমরা দেখছি নরাশংস অর্থ সোমযাগে রাজা সমাজের প্রশংসনীয় বীর যে ব্যক্তিদের দান করেন সেই ব্যক্তিগণ আর কৌরম শব্দের অর্থ সেই যজ্ঞে দানকারী সদা প্রসন্নচিত্তে রমণকারী উত্তম রাজা।

    এই মন্ত্রে স্তবিষ্যতে শব্দটা আছে যার অর্থ নাকি ভবিষ্যতে! কোথায় ভবিষ্যতে আর কোথায় স্তবিষ্যতে!অথচ স্তবিষ্যতে অর্থ হল গৌরব বর্ণনা করা বা মহত্ত্বের কথা বলা। এই শব্দের ধারেকাছেও ভবিষ্যৎ শব্দটি নেই।

    ২ নং মন্ত্র-
    উষ্ট॒ যস্য॑ প্রবা॒হণো॑ ব॒ধূম॑ন্তো দ্বি॒র্দশ॑ ।
    ব॒র্ষ্মা রথ॑স্য॒ নি জি॑হীডতে দি॒ব ঈ॒ষমা॑ণা উপ॒স্পৃশঃ॑ ॥২॥

    অর্থ – (উষ্ট্রাঃ) সাংসারিক দহন, সন্তাপ থেকে রক্ষাকারী, (বধূমন্তঃ) সুখসমূহকে প্রাপ্তিকারী, (দ্বির্দশ) দুই গুণ দশ, (যস্য) যে রাজার (রথস্য) শরীর-রথের (বর্ষ্মা) গঠনকে (প্রবাহণঃ) উৎকৃষ্টরূপে বহন করে এবং তাকে (নি জিহীডতে) নিরন্তর সক্রিয় রাখে, যেরূপ (উপস্পৃশঃ ) সূর্যস্পর্শী (দিবঃ) দ্যোতমান কিরণ (ঈষমাণাঃ) গতিশীল হয়ে সূর্যরূপ (রথস্য বর্ষ্ম) রথের গঠনকে, (নিজিহীডতে) নিরন্তর সক্রিয় রাখে।(অনুবাদক- শ্রী বিশ্বনাথ বেদালঙ্কার)

    অর্থাৎ যেভাবে সূর্যের দ্যূতিমান গতিশীল কিরণ সূর্যরূপ রথকে নিরন্তর সক্রিয় রাখে ঠিক তেমনি গুণী প্রশাসকের ২০ সাংসারিক দহন,সন্তাপ থেকে রক্ষাকারী,সুখসমূহকে প্রাপ্তিকারী গুণ তার শরীররূপ রথকে উৎকৃষ্টরূপে বহন করে এবং তাকে নিরন্তর সক্রিয় রাখে।

    যে কোন মানুষের কর্মশীল,সক্রিয় হতে হলে, জগতের উপকারী হতে হলে ২০ টি জিনিস তার ব্যবহার করতে হয়।সেগুলো হল ১০ টি ইন্দ্রিয়(৫ জ্ঞানেন্দ্রিয়,৫ কর্মেন্দ্রিয়),১০ টি প্রাণ(৫ প্রাণ,৫ উপপ্রাণ)।এই ২০ টি সন্তাপ হরণকারী,শত্রুকে বিনাশকারী গুণের কথা বলা হয়েছে এই মন্ত্রে যা দিয়ে একজন রাষ্ট্রনায়ক তার দেশকে প্রবাহমান করেন,দ্যুতিমান করেন।

    ৩য় মন্ত্রে নাকি এক ঋষির নাম আছে,তার নাম নাকি লেখা আছে মামহ!! শব্দটা মামহ নয়,মামহে। মামহে খুব ই প্রচলিত একটি সংস্কৃত ক্রিয়াপদ যা "মংহতে" হতে উদ্ভূত, এর অর্থ হল "আমি/আমরা দান করি বা কেউ প্রদান করা"। ৩য় মন্ত্রে নরাশংস বা জনগণের মধ্যে যাঁরা সৎকর্ম করে,প্রশংসিত হয়েছে তাদেরকে জনগণ খুশি হয়ে যজ্ঞে মামহে পুরস্কার বা দান করছে।]]

    আপনারা সবাই লেখাটা কপি করতে পারেন। এই লেখাটা ফেসবুকে কমেন্ট করার উপযোগী।

    ReplyDelete

Pages