বেদ ও মাংসাহার - অগ্নিবীর





নমস্কার ।

সম্মানিত পাঠক , বেদে মাংসাহার নিষিদ্ধ কিনা এই নিয়ে  সেই নিষেধাজ্ঞাটাই দেখবো । তার আগে আমরা দেখে নেই বেদে যে শস্যাদি খাদ্যের কথা আছে তার উল্লেখ  -



বেদে অহিংসা ও পশু হত্যা না করার কথা - http://back2thevedas.blogspot.com/2016/11/blog-post.html?m=1

একজন মহানুভব বলেছেন বেদে গোহত্যা বা গোরক্ষার কথা থাকলেও মহিষ ও মেষাদির কথা উল্লেখিত নেই । তাদের জন্য আমরা নিম্নলিখিত মন্ত্রের দিকে দৃষ্টিপাত করি - 

অঘ্ন্যাঃ
যজুর্বেদ  ১।১
- গো আদি পশু কখনো হত্যার যোগ্য নয় 

দ্বিপাদব চতুষ্পাৎ পাহি
যজুর্বেদ ১৪।৮
- দ্বিপদী [মনুষ্য ও পক্ষী আদি ]  ও চতুষ্পদী [ অশ্ব, গো,মহিষাদি ] উভয়ের রক্ষা করো । 

অনেকেই বলতে পারেন পশু অর্থ বা পশু শব্দে কি কি বোঝায়  । 

তবেমে পঞ্চ পশবো বিভক্তা গাবো অশ্বাঃ পুরুষা অজাবয়ঃ 
অথর্ববেদ ১১.২.৯
- পঞ্চ প্রকার পশু গোসমূহ, অশ্ব , মনুষ্য , ছাগ ও ভেড়া । 

স এতান্পঞ্চ পশূনপশ্যৎ । পুরুষমশ্বং গামবিমজং যদপশ্যত্তস্মাদেতে পশবঃ 
শতপথ ব্রাহ্মণ ৬.২.১.২

সুতরাং দেখা যাচ্ছে জীব বা পশুর মধ্যে মনুষ্যও রয়েছে । আবার মন্ত্রে গাবো উল্লেখ রয়েছে যার অর্থ  কিনা মহিষাদি সকল গোরূপ প্রাণী । 

ঘৃ॒তং দুহানামদিতিং জনায়াগ্নে মা হিꣳসীঃ
যজুর্বেদ ১৩।৪৯
- অদিতি তথা খণ্ডন অযোগ্য ঘৃত প্রদানকারী গো পশ্বাদিকে হিংসা না করি

ক্ষুধে যো গাং বিকৃন্তন্তং ভিক্ষমাণঽউপ তিষ্ঠতি দুষ্কৃ॒তায় 
যজুর্বেদ ৩০।১৮ 
- ক্ষুধা তথা খাদ্যের জন্য যারা গো হত্যা করে তাদের দূর করো 

অনডুদ্ভ্যস্ত্বং প্রথমং ধেনুভ্যস্ত্বমরুন্ধতি ।
অধেনবে বয়সে শর্ম যচ্ছ চতুষ্পদে ॥
অথর্ববেদ ৬.৫৯.১
- হে গৃহপত্নী !   সর্ব প্রথমে তুমি ষাঁড়, গোরু, বাছুর ও অন্য চতুষ্পদের জন্য শালা বা ঘর নির্মাণ করে দাও৷ 

স ধেন্বৈ চানডুহশ্চ নাশ্নীয়াদ্ধেন্বনডুহৌ বা ইদং সর্বং বিভৃতস্তে দেবা
শতপথ ব্রাহ্মণ ৩.১.২.২১
- গাভী ও ষাঁড় কদাপি ভক্ষণীয় নয়
চলুন এখন মাংসাহারের নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ করি - 

মহচ্চকারাকুশলং বৃষং গাং বাহহলভেৎ তু যঃ
মহাভারত  শান্তি পর্ব ২৬২.৪৭
- বৃষ বা গাভী হত্যা বিরাট অন্যায় 

👉 অগ্নি বা জল দ্বারা রন্ধনের নির্দেশ এবং কুতর্ক দ্বারাও মাংসাহার নিষিদ্ধকরণ  - 

যে বাজিনং পরিপশ্যন্তি পক্বং য ঈমাহুঃ সুরভির্নির্হরেতি । 
যে চার্বতো মাংসভিক্ষামুপাসত উতো তেষামভিগূর্তির্ন ইন্বতু ॥
ঋগ্বেদ ১.১৬২.১২ 

অনুবাদঃ (যে) যে মনুষ্যগণ (বাজিনম্) যাতে বিবিধ অন্নাদি পদার্থ বিদ্যমান সেই ভোজনকে (পক্বম্) রন্ধন করার ফলে উত্তম হওয়া খাদ্যকে (পরিপশ্যন্তি) সর্বদিক থেকে দর্শন করে বা (যে) যে (ঈম্) জল দ্বারা রন্ধনকৃত (আহুঃ) বলা হয়ে থাকে  (যে, চ) এবং যারা (অর্বতঃ) প্রাপ্ত হওয়া প্রাণীর  (মাংসভিক্ষাম্) মাংস না প্রাপ্ত হওয়ার জন্য (উতো) তর্ক-বিতর্ক দ্বারা (উপাসতে) সেবন করে (তেষাম্) তাদের (অভিগূর্ত্তিঃ) উদ্যম এবং (সুরভিঃ) সুগন্ধ (নঃ) আমাদের (ইন্বতু) ব্যাপ্ত বা প্রাপ্ত হোক । হে বিদ্বন্ ! তুমি (ইতি) এই রকমের অর্থাৎ মাংসাদি অভক্ষ্যসমূহকে ত্যাগ করার মাধ্যমে রোগসমূহকে (নির্হর) নিরন্তর দূর করো । 

[ ভাষ্যঃ মহর্ষি  শ্রীমদ্দয়ানন্দ সরস্বতী , আর্যসমাজ ] 

অর্থাৎ আমাদের উচিৎ খাদ্যসমূহকে ভালোভাবে রান্না করে বা সিদ্ধ করে উপযোগী করে খাওয়া । পাশাপাশি মন্ত্রে এটাও বলা হয়েছে যে যদি কোন প্রাণীর মাংস না পাওয়াতে কেউ কুতর্ক দ্বারা মাংসাহার করার চেষ্টা করে তাদেরও সেই উদ্যম বা বল আমাদের প্রাপ্ত হোক , তথা তারা যদি অভক্ষ্য ভক্ষণ দ্বারা রোগাক্রান্ত হয় কিংবা উক্ত খাদ্যের দোষসমূহ যাতে আমাদের লাভ না হয় । ফলে তাদের উদ্যম আমরা পাবো , পরোক্ষভাবে তাদের চেয়ে আমরা নিরোগ হয়ে এগিয়ে যাবো । 

👉 মনুষ্য মাংসও অভ্যক্ষ ও এবং যারা পশ্বাদি থেকে প্রাপ্ত দুগ্ধাদি খাদ্য নষ্ট করে তাদের শাস্তির নির্দেশ - 

যঃ পৌরুষেয়েণ ক্রবিষা সমঙ্ক্তে যো অশ্ব্যেন পশুনা যাতুধানঃ । যো অঘ্ন্যায়া ভরতি ক্ষীরমগ্নে তেষাং শীর্ষাণি হরসাপি বৃশ্চ ॥
ঋগ্বেদ ১০.৮৭.১৬

অনুবাদঃ (অগ্নে) হে তেজস্বী নায়ক ! (যঃ-যাতুধানঃ) যে যাতনা দানকারী দুষ্ট প্রাণী রয়েছে (পৌরুষেয়েণ ক্রবিষা) মনুষ্যগণের অভ্যন্তরের মাংস দ্বারা (সমঙ্ক্তে) নিজেকে পুষ্ট করে (যঃ-অশ্ব্যেন পশুনা) যে কিনা পশুসমূহের মধ্যে নিরপরাধ পশু দ্বারা নিজেকে উত্তমভাবে পরিপুষ্ট করে (যঃ-অঘ্ন্যায়াঃ ক্ষীরং ভরতি) যে  হত্যার অযোগ্য গোরুর দুগ্ধকে হরণ করে-নষ্ট করে-দূষিত করে (তেষাং শীর্ষাণি হরসা বৃশ্চ) তাদের শিরসমূহ তথা শিরবৎ বর্তমান প্রমুখ ব্যক্তিগণকে  হরণকারক শস্ত্র-অস্ত্রের ব্যবিহার দেয়ারা  ছিন্ন-ভিন্ন করো , নষ্ট করো  ॥১৬॥

[ ভাষ্যঃ স্বামী ব্রহ্মমুনি পরিব্রাজক বিদ্যামার্তণ্ড, আর্যসমাজ ]

অর্থাৎ ,  মনুষ্যগণের বিবিধ অঙ্গ তথা আভ্যন্তরীন বস্তু দ্বারা নিজেকে পুষ্ট যেমন মানুষের অঙ্গ পাচার , কিংবা অঙ্গসমূহকে নষ্ট করে যেভাবে এখন কোমলমতি শিশুদের ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করানো হয় তারা এবং সেই যারা কিনা গোদুগ্ধাদি খাদ্যদ্রব্যকে নষ্ট করে  - দেশের শাসক , প্রশাসন ও সচেতন নাগরিকদের উচিৎ তাদের সমূলে উৎপাটন করা । 

👉 গো ও মনুষ্যাদি হত্যা সমতূল্য -

দশস্যন্তো নো মরুতো মৃল়ন্তু বরিবস্যন্তো রোদসী সুমেকে । 
আরে গোহা নৃহা বধো বো অস্তু সুম্নেভিরস্মে বসবো নমধ্বম্
ঋগ্বেদ ৭.৫৬.১৭ 

অনুবাদঃ হে বীরগণ (মরুতঃ) প্রাণসমূহের ন্যায় (দশস্যন্তঃ) বলবান এবং (সুমেকে) একরূপযুক্ত  [ অর্থাৎ যারা কিনা দ্বিরাচারী নন ]  (রোদসী) আকাশ এবং পৃথিবীর (বরিবস্যন্তঃ) সেবাকারী মনুষ্য তথা (নঃ) আমাদেরকে (মৃল়ন্তু) সুখ দান করুন এবং (বঃ) তোমাদের (আরে) দূর দেশে (গোহা) গো আদি পশু হত্যাকারী (নৃহা) এবং মনুষ্য হত্যাকারী (বধঃ) এই উভয় যারা বিনাশ করে তারা (অস্তু) দূর হয়ে যাক ( বসবঃ) নিবাস দর্শন যারা করান সেই তোমাদের (সুম্নেভিঃ) সুখের সাথে (অস্মে) আমাদের (নমধ্বম্) নমস্কার । 

[ ভাষ্যঃ মহর্ষি  শ্রীমদ্দয়ানন্দ সরস্বতী  এবং পণ্ডিত জয়দেব শর্ম্মা মীমাংসালঙ্কার, আর্যসমাজ  ]

👉 সনাতন ধর্মে বেদ কেবল মনষ্য নয় বরং পশুগণেরও উন্নত ও সুরক্ষিত জীবন নিশ্চিত করতে নির্দেশনা প্রদান করে - 

আরে তে গোঘ্নমুত পূরুষঘ্নং ক্ষয়দ্বীর সুম্নমস্মে তে অস্তু । 
মৃল়া চ নো অধি চ ব্রূহি দেবাধা চ নঃ শর্ম যচ্ছ দ্বিবর্হাঃ ॥
ঋগ্বেদ ১.১১৪.১০

অনুবাদঃ হে (ক্ষয়দ্বীর) শূরবীরগণের নিবাসদাতা ও  (দেব) দিব্য উত্তম কর্ম যিনি করান সেই বিদ্বান্ সভাপতি ! (পুরুষঘ্নম্) মনুষ্যগণকে হত্যা (চ) এবং (গোঘ্নম্) গো আদি উপকারী পশুসমূহের বিনাশকারী প্রাণীগণকে নির্মূল করে (তে) আপনার (চ) এবং (অস্মে) আমাদের জন্য (সুম্নম্) সুখ (অস্তু) হোক , (অধা) এর পরবর্তীতে  (নঃ) আমাদের  (মৃড) সুখী করুন (চ) এবং আমি আপনাকে সুখ দান করি [ যার ফলে ] , আপনি আমাদের (অধিব্রূহি) অধিক উপদেশক দিন (চ) এবং আমক আপনাকে উপদেশ দেই (দ্বিবর্হাঃ) আচরণ ও পরমার্থ বৃদ্ধিকারী আপনি (নঃ) আমাদের জন্য (শর্ম্ম) গৃহের সুখ দান  (যচ্ছ) করুন (চ) এবং আপমার জন্য আমি সুখ দান করি । আমরা সকলে ধর্মাত্মাগণের (আরে) নিকটে এবং  দুরাচারীগণের থেকে দূরে থাকি । 

[ ভাষ্যঃ মহর্ষি  শ্রীমদ্দয়ানন্দ সরস্বতী , আর্যসমাজ ] 

এখানে বলা হয়েছে মনুষ্য ও পশুহত্যাকারীদের নির্মূল করা উচিৎ । প্রশাসন ও নাগরিকের মধ্যে পাস্পরিক সহযোগিতা ও মত বিনিময়মূলক সম্পর্ক  থাকবে । যাতে  তারা উভয়ে মিলে সমাজে শান্তি ও সুখের বিস্তার করতে পারে । 

অস্মাকং দেবা উভয়ায় জন্মনে শর্ম যচ্ছত দ্বিপদে চতুষ্পদে । অদৎপিবদূর্জয়মানমাশিতং তদস্মে শং যোররপো দধাতন ॥
ঋগ্বেদ ১০.৩৭.১১

(দেবাঃ) হে জীবন্মুক্ত ! তথা বিদ্বানগণ ! (অস্মাকম্-উভয়ায় জন্মনে) আমাদের সাথে সম্বন্ধীয় দুই প্রকারের জন্মধারণ করায় যারা সেই  (দ্বিপদে চতুষ্পদে শর্ম যচ্ছত) দ্বিপদী-মনুষ্য এবং চতুষ্পদী-পশুগণের জন্য সুখ প্রদান করো (তৎ অদৎ পিবৎ-ঊর্জয়মানম্-আশিতম্) সেই প্রত্যেকে যারা কিনা ভোজন ও পানকারী তথা উত্তমভাবে ভোগ্য লাভ করে বলবান হোক,  (অস্মে-অরপঃ-শংয়োঃ দধাতন) আমাদের জন্য  পাপরহিত সুখকে ধারণ করো-প্রদান করো। 

[ ভাষ্যঃ স্বামী ব্রহ্মমুনি পরিব্রাজক বিদ্যামার্তণ্ড , আর্যসমাজ ] 

য়দি নো গাং হংসি য়দ্যশ্বং য়দি পুরুষম্।
তং ত্বা সীমেন বিধ্যামো যথা নোৎসো অবীরহা।।
অথর্ববেদ ১.১৬.৪

ভাবার্থ:- যদি তুমি আমাদের গাভী, অশ্ব ও  মনুষ্যদের হনন কর তাহলে আমরা তোমাকে সীসকের গুলি দ্বারা বিদ্ধ করব।

যাতুধানান্ ন ৎবা রক্ষাংসি পৃতনাসু জিগ্যুঃ । সহমূরান্ অনু দহ ক্রব্যাদো মা তে হেত্যা মুক্ষত দৈব্যায়াঃ ॥
অথর্ববেদ  ৮.৩.১৮ ,  ৫.২৯.১১

অনুবাদঃ ( অগ্নে) হে বিদ্বান্ রাজন্ ! তুমি (যাতুধানান্) পীড়াদানকারীকে [প্রাণীগণ বা রোগসমূহকে ] (সনাৎ) নিত্য (মৃণসি) নষ্ট করো , (রক্ষাংসি) রাক্ষস তথা যাদের থেকে আমাদের রক্ষিত থাকা উচিৎ তাদের (ৎবা) তুমি (পৃতনাসু) সংগ্রামে (ন জিগ্যুঃ ) জয় লাভ করতে দাও না । (ক্রব্যাদঃ) মাংস ভক্ষকগণকে (সহমূরান্) [তাদের ] মূল [অথবা মূঢ় মনুষ্যগণ] সহিত (অনু দহ) ভস্ম করে দাও , (তে) তোমার (দৈব্যায়াঃ) দিব্য গুণযুক্ত (হেত্যাঃ) বজ্র তথা ন্যায়বিচার ও শৌর্যবীর্য দ্বারা (মা মুক্ষত) তারা রক্ষা পায় না ৷ 

[ ভাষ্যঃ পণ্ডিত ক্ষেমকরণ দাস ত্রিবেদী ,  পণ্ডিত জয়দেব শর্মা মীমাংসালঙ্কার, আর্যসমাজ ]

অর্থাৎ , আমাদের মাংসভক্ষণ করা তো উচিৎ নয় । 

👉 মাংসাদি ভক্ষণ পাপচিন্তার উৎপত্তির সাথে উল্লেখিত । ফলশ্রুতিতে তা বর্জনই শ্রেয়স্কর । 

সনাদগ্নে মৃণসি যাতুধানান্ন ৎবা রক্ষাংসি পৃতনাসু জিগ্যুঃ।  
অনু দহ সহমূরান্কয়াদো মা তে হেত্যা মুক্ষত দৈব্যায়াঃ।। 
সামবেদ ৮০ 

অনুবাদঃ (অগ্নে) হে শোধক অজ্ঞানান্ধকারনাশক পরমাত্মন্! তুমি (যাতুধানান্) নিজের তথা অন্যের  প্রতি কষ্টদানকারী ,  দুঃখদানকারী  পাপবিচারসমূহ তথা পাপীগণকে (সনাৎ-মৃণসি) নিত্য বা সর্বদা “সনাৎ নিত্যে—সর্বদা বা” [অব্যযার্থনিবন্ধনম্] হিংসিত করো বা নষ্ট করো [ তাদের যথাযথ কর্মফল প্রদান করে , কারণ তুমি ন্যায় বিচারক ] (ৎবা রক্ষাংসি পৃতনাসু ন জিগ্যুঃ) তোমাকে রাক্ষস—যাদের থেকে রক্ষা করা উচিৎ এমন পাপ ভাবনা ও  পাপীজন সংঘর্ষ সংগ্রামসমূহের মধ্যে [ “পৃতনাঃ সংগ্রাম নাম” - নিঘ০ ২.১৭] জয় করতে পারে না —তোমার  দণ্ডবিধানের উলঙ্ঘন করতে পারে না (মূরান্ কয়াদঃ-সহ-অনুদহ) মূঢ়—অজ্ঞানপরায়ণ তথা শরীরস্থ মাংস ভক্ষককে একসাথে ধ্বংস করে দাও—করে দিয়ে থাকো —তুচ্ছ অসমর্থ করে দাও  [ “লডর্থে লোট্” ] (দৈব্যায়াঃ-হেত্যাঃ) তোমার দৈবী—তীক্ষ্ণ  বজ্রশক্তি দ্বারা  [ “হেতিঃ-বজ্রনাম” নিঘ০ ২.২০] (তে মা মুুক্ষত) সে ছাড় পায় না — মুক্ত হতে পারে না ।
ভাবার্থঃপ রমাত্মা সদা  বা নিত্য মনুষ্যগণের পীড়াদায়ক বিচার—পাপ ভাবসমূহকে এবং পাপীগণকে যথোপযুক্ত কর্মফল প্রদানের মাধ্যমে বিনষ্ট করেন , পাপ এবং পাপী তার সম্মুখে তুচ্ছ   সেই এমন  শরীরের মাংস শুষ্ক তথা ভক্ষণকারী  পাপ-বিচারসমূহ ও পাপীগণকে একসাতগে ভস্ম করতে - তুচ্ছ করতে  সমর্থ  তার  দিব্য বজ্র থেকে কোন পাপ এবং পাপী রক্ষা পায় না , তার চিন্তনবল অর্থাৎ  তাকে স্মরণ করে পাপ করা ইচ্ছা দূর করা যায় এবং তার আশ্রয় পাপীগণকে পুনঃ পাপ করার হাত থেকে রক্ষা করে । 

[ ভাষ্যঃ স্বামী ব্রহ্মমুনি পরিব্রাজক  বিদ্যামার্তণ্ড ও পণ্ডিত কৃপারাম শাস্ত্রী , আর্যসমাজ ]

👉 কাঁচা, ভ্রুণ বা ডিম ও মনুষ্যাদির মাংস ভক্ষকদের [ এখনকার দিনে যেমন তান্ত্রিক ও অঘোরীদের ন্যায় অনেক মত দেখা যায় , এরা মদ্য-মাংসাদি ভোজন ও শবসাধনার নামে বহুবিধ অনিষ্টকর কর্ম করে  ]  বিনষ্টের আহবান - 

য আমং মাংসমদন্তি পৌরুষেয়ং চ যে ক্রবিঃ ।
গর্ভান্ খাদন্তি কেশবাস্তান্ ইতো নাশয়ামসি ॥
অথর্ববেদ ৮.৬.২৩

অনুবাদঃ ( যে)  যে ( আমম্)  কাঁচা (মাংসম্)  মাংস ( অদন্তি)  খায় ও ( যে চ)  যে (পৌরুষেয়ম্)  মনুষ্যের ( ক্রবিঃ)  মাংস খায় এবং (কেশবাঃ)  ক্লেশ প্রদানকারী ( গর্ভান্)  গর্ভকেও [ডিম্বাদি ] ( খাদতি)  খেয়ে ফেলে । ( তান্)  সেই দুষ্ট প্রাণীগণকে (ইতঃ)  এখান থেকে ( নাশয়ামসি) বিনষ্ট করা হোক । 

[ ভাষ্যঃ পণ্ডিত জয়দেব শর্মা মীমাংসালঙ্কার , আর্যসমাজ ]

অতঃ ইহা প্রমাণিত যে বেদে মাংসভক্ষণ নিন্দাই বিদ্যমান । বেদে বহু প্রার্থনা রয়েছে কিন্তু সেখানে খাদ্যের মধ্যে  মাংসাদির বর্ণনা বা মাংসের নিমিত্তে পশুর আহবানের কথা কোথাও উল্লেখ নেই । 

🖊প্রস্তুতকরণ ও স্বত্ত্বাধিকার

🚩 বাংলাদেশ  অগ্নিবীর  🚩

2 comments:

  1. দারুন। এমনভাবেই এগিয়ে চলুন সত্যের জয়যাত্রা।

    ReplyDelete
  2. বেদের নিয়ম অনুসারে শ্রাদ্ধ বিধি সম্পর্কে জানতে চায়।

    ReplyDelete

Pages