পুরাণ; শাস্ত্র না মিথোলজি? - অগ্নিবীর

পুরাণ; শাস্ত্র না মিথোলজি?

Share This



প্রায়শই  তর্কবিতর্ক হতে দেখা যায় পুরাণ বা পৌরাণিক সাহিত্য নিয়ে। কেউ পুরাণের পক্ষে বলেন, কেউ বিপক্ষে। কেউ পুরাণকে একদম গুরুত্বই দিতে চাননা আবার কেউ একে ঐশ্বরিক ভেবে অলঙ্ঘনীয় মর্যাদা দেন। এরইমধ্যে কারো কারো মনে প্রশ্ন আসে পুরাণকে আসলে কীভাবে দেখা যায়?


আমরা এটা মোটামুটি জানি যে অষ্টাদশ পুরাণ নামে ১৮ টি পুরাণ রয়েছে। তবে সেই ১৮ টি স্থানে কারা কারা স্থান পেয়েছে তা নিয়ে পুরাণসমূহের নিজেদের মধ্যেই আছে মতভেদ। যেমন পদ্মপুরাণ স্কন্দপুরাণকে ১৮টি পুরাণের একটি বলে মেনে নিলেও স্কন্দ পুরাণ আবার পদ্মপুরাণকে পুরাণ বলে মেনে নেয়নি। ভাগবত পুরাণ, লিঙ্গ পুরাণ, শিব পুরাণ, কূর্ম পুরাণে ১৮ টি পুরাণের যে তালিকা দেয়া রয়েছে তা একে অপরের হতে ভিন্ন। আবার প্রকৃত ভাগবত পুরাণ কোনটি, বৈষ্ণবদের ভাগবত পুরাণ নাকি শাক্তদের দেবীভাগবৎ পুরাণ তা নিয়েও পুরাণসমূহের মধ্যেই আছে মতভেদ।


পুরাণ কি শুধুই মিথোলজি? এগুলো কি সম্পূর্ণ বর্জনীয় বা সম্পূর্ণ গ্রহনীয়?


আদতে বর্জনীয় বা গ্রহনীয় শব্দটাকে কী হিসেবে আপনি দেখছেন সেটাই এই প্রশ্নের উত্তরে গুরুত্বপূর্ণ। পুরাণসমূহ তৎকালীন সময়কার ভারতীয় ইতিহাস সম্বন্ধে আঁচ করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল।  পুরাণসমূহের একেকটির রচনাকাল একেকসময়ে হওয়ায়, অধিকন্তু একই পুরাণের ই একেক অংশের রচনাকাল ভিন্ন ভিন্ন শতকে হওয়ায় সেই সময়ে কীভাবে ভারতীয় সমাজের রীতিনীতি পরিবর্তিত হয়েছে তা খুব ভালো করে পর্যবেক্ষণ করা যায় এগুলোর মাধ্যমে।


পুরাণে সতীদাহ প্রথাকে পূণ্যকর্ম বলা হয়েছে। বলা হয়েছে স্বামী মৃত্যুর পর সহমরণ করলে দেহে যতসংখ্যক চুল আছে তত বৎসর স্বর্গবাস হয়। বাল্যবিবাহকে পুরাণে উৎসাহিত করা হয়েছে। নারীদের কোনরকম কোন যজ্ঞ, শাস্ত্রপাঠ এইসবকিছু পুরাণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে নারীদের একমাত্র ধর্মকর্ম হলো স্বামীর সেবা। পুরাণে এও বলা হয়েছে স্বামী জীবিত থাকাকালে নারীরা উপবাস, ব্রত, ধর্মকর্ম করলে স্বামীর নরকবাস হয়, স্বামী জীবিত থাকাকালে স্বামীর সেবা করলেই তার সকল ধর্মকর্ম করা হয়ে যায়। পুরাণে নারী ও শূদ্রদের শাস্ত্রপাঠে, বেদপাঠে সম্পূর্ণ অনধিকারী ঘোষিত করা হয়েছে, জন্মভিত্তিক বর্ণপ্রথার কট্টর সমর্থকও পুরাণগুলো। পুরাণে আছে নরবলির মতো বর্বর প্রথার গৌরবগাঁথা, গোহত্যা, গোমাংস ভক্ষণসহ এমন অনেক প্রথা যা কালের আবর্তে এখন মানুষ বর্জন করেছে।


পুরাণে আছে অসংখ্য পারস্পরিক বিরোধী কথাবার্তা। একই পুরাণে একই দেবতার উৎপত্তি কীভাবে হয়েছে তা নিয়ে একটি অংশে এক কথা আছে তো অপর অংশে আরেক কথা আছে। একই গল্পের বর্ণনা এক পুরাণে এক রকম তো আরেক পুরাণে আরেক রকম। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে দেবতা গণেশ কীভাবে হাতির মাথা লাভ করেন তার বর্ণনা ৬ টি পুরাণে ৬ রকম, প্রত্যেকটি গল্পই খুব অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য এবং একটি অপরটির চেয়ে আলাদা। কীভাবে সপ্তসমুদ্র সৃষ্টি হয়? ভাগবত পুরাণে বলা হচ্ছে প্রিয়ব্রত রাজার রথের ঘর্ষণে যে গর্ত সৃষ্টি হয় তা থেকেই সপ্তসমুদ্র তৈরী হয়, আবার ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ বলছে বিরজার সাথে সংগমকালে শ্রীকৃষ্ণ তাকে দৃঢ়ভাবে আলিঙ্গন করে তার গর্ভে বীর্যাধান করেন, সেখান থেকেই সাত সমুদ্রের সৃষ্টি হয়। দুটো তথ্যই যে একদম ই অববৈজ্ঞানিক তা বলাই বাহুল্য।


পুরাণে প্রত্যেকটি বাক্যের মধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে অতিমাত্রায় অতিরঞ্জন। ধরুন একটি লোক,তার নাম সুরথ, তার ১০ টি ছেলে ছিল, এই কথাটাকেই পুরাণে লেখা হবে "সুরথ নিজ তপস্যাবলে শত সহস্র পুত্রসন্তানের জনক হইয়াছিলেন"। একটি বড় পাহাড়, হয়তো উচ্চতা ৪০০০ মিটার, এটিকে পুরাণে লেখা হবে সহস্র কোটি মাইল। পুরাণ লেখকরা ভুলেই যেতেন যে পৃথিবীর নিজের আয়তনও অত না, তাহলে একটি পাহাড় অত উঁচু কী করে হবে! উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ভাগবত পুরাণে বর্ণিত জম্বুদ্বীপের কথা। ভাগবত পুরাণ বলছে জম্বুদ্বীপের বিস্তার ৮০ লক্ষ মাইল! অথচ আমরা জানি পুরো পৃথিবীর বিস্তার ই মাত্র ৪০০০ মাইল!


আবার ধরুন তখনকার প্রাচীনকালে একজন রাজা টানা ১০ বছর ভালো করে শাসন করলে সেটাই ছিল বড় অর্জন, কেউ যদি ২০-৩০ বছর সুশাসন করে তবে সেটা তো একদম কিংবদন্তি পর্যায়ের বিষয়। এরকম কোন রাজা থাকলে পুরাণে লেখা হতো " অতঃপর রাজা দুষ্মন্ত শতসহস্র বৎসর ব্যাপী এই সসাগরা বসুন্ধরায় রাজত্ব করিলেন, তার সময়কালে কোন মানুষের মৃত্যু হইতনা, পাখিরা দিবারাত্রি কলকাকলিতে মুখর হইত, কোন শিশুর জরাব্যাধি হইতনা, সকলেই শত সহস্র বছর পর্যন্ত বাঁচিত।"


এছাড়াও আছে পুরাণসমূহের লেখকদের মধ্যে নিজ নিজ উপাস্য দেবতাকে অন্য উপাস্য দেবতাদের চেয়ে বড় করে দেখানোর রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা। শৈব সম্প্রদায়ের পুরাণসমূহতে শিব ই ঈশ্বর, সেখানে বিষ্ণুসহ অন্য সকল দেবতা হলেন শিবের ভক্ত। সেই সকল পুরাণসমূহতে বিষ্ণু, শ্রীকৃষ্ণ, শ্রীরাম সম্পর্কে লেখা হয়েছে অসংখ্য কুরুচিপুর্ণ, অতি আপত্তিজনক কথা কেবল বিষ্ণুকে শিবের তুলনায় ছোট দেখানোর জন্য।  তার বিপরীত চিত্র বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের রচিত পুরাণগুলোতে শিবকে নিয়ে। সেসব পুরাণে শিবসহ সকল দেবদেবী হলেন বিষ্ণুর দাস দাসী, বিষ্ণুই একমাত্র ঈশ্বর। সেসব পুরাণে শিবকে নিয়ে, শিবলিঙ্গ নিয়ে অসংখ্য কুরুচিপুর্ণ গল্প লেখা হয়েছে যা সুধী সমাজে পাঠযোগ্য নয়।


পুরাণসমূহের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ঘটনার পিছনে কারণের আখ্যান বর্ণনা। যেমন শ্রীরামচন্দ্রের জীবন একটি ঐতিহাসিক সত্য। তাঁর স্ত্রী  আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় মা সীতাকে লংকারাজ রাবণ অপহরণ করা শ্রীরামের জীবনের এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কিন্তু পুরাণ এইসব ঘটনার পিছনে কী উদ্দেশ্য ছিল তার একটি করে অলৌকিক কারণ বা গল্প বানাত। শ্রীরামের স্ত্রী কেন অপহরণ হয়েছিল তার বর্ণনায় স্কন্দপুরাণ বলছে বিষ্ণু নাকি আগে জলন্ধরের পত্নী বৃন্দার সাথে পরিচয় গোপন করে ছদ্মবেশে অবৈধ সম্পর্ক করেন, পরে ধরা পড়ায় জলন্ধর বিষ্ণুকে অভিশাপ দেন যে বিষ্ণুর দ্বাররক্ষকরাই পৃথিবীতে রাক্ষসরূপে জন্ম নিয়ে বিষ্ণুর স্ত্রীকে অপহরণ করবে এবং বানরদের সহায়তায় তাকে তোমার উদ্ধার করতে হবে! এভাবেই প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার পিছনে কারণ হিসেবে একটি কাল্পনিক গল্প লাগানো পুরাণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।


কিন্তু পুরাণসমূহের গুরুত্ব অন্যত্র। ভারতীয় সমাজের ধর্মীয় বিশ্বাসের নানা দিক সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে আর পুরাণগুলোতে তার ই প্রতিফলন পাওয়া যায়। যেমন ধরুন বৈষ্ণব সাহিত্যের অন্যতম একটি চরিত্র রাধা। দেখা যায় খ্রিষ্টপূব ৩০০ সাল থেকে শুরু করে খ্রিষ্টীয় ৬ষ্ঠ শতক পর্যন্ত লেখা পুরাণের অংশসমূহের মধ্যে এই রাধা চরিত্রের কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না। খ্রিষ্টীয় ৭ম শতক বা এর পরের রচিত পুরাণসমূহে ধীরে ধীরে এই রাধা চরিত্রটির উদ্ভব হয়। অর্থাৎ এর মাধ্যমে ইতিহাসবিদরা ধারণা করতে পারেন রাধা নামক কোন চরিত্র আগে ছিলনা, খ্রিষ্টীয় ৭ম শতকের সময় হতে ধীরে ধীরে এই চরিত্রটির উদ্ভব ঘটে। রাধাকৃষ্ণের প্রেমকাহিনীর যে গল্প তা ৮ম শতকের ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের আগে আর কোথাও পাওয়া যায়না, অর্থাৎ রাধাকৃষ্ণের যেসব গল্প আমরা আজ শুনি সেসবের অস্তিত্ব খ্রিষ্টীয় ৮ম শতকের আগে অনুপস্থিত ছিল।


পুরাণে ৮ম শতক থেকে শুরু করে দ্বাদশ শতকে তৈরীকৃত প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন মন্দিরসমূহের উল্লেখ পাওয়া যায় যা ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কোনার্কের সূর্য মন্দির। পুরাণসমূহ হলো ইতিহাসের গল্পময় রূপ, উল্টোভাবে বলা যায় পুরাণসমূহের প্রসিদ্ধ কাহিনীগুলোর পরিশুদ্ধরূপ হলো ইতিহাস।


পুরাণগুলোতে গল্পমিশ্রিত, অতিরঞ্জিত ভাবে হলেও প্রাচীন ভারতবর্ষের ইতিহাসের যে সমস্ত তথ্য পাওয়া যায় অন্য কোথাও তার সন্ধান মেলে না। দেবতা, ঋষি ও মহান রাজাদের বংশপরিচয় ও তাদের কর্ম সম্বন্ধে অতিরঞ্জিত হলেও তথ্যপূর্ণ বিবরণ প্রাপ্তি পুরাণ সাহিত্যের অবদান। প্রাচীন রাজাদের মধ্যে শিশুনাগ, নন্দ, মৌর্য, শুঙ্গ ও গুপ্তযুগের বিভিন্ন কাহিনী পুরাণগুলিতে পরিলক্ষিত হয়। এছাড়াও বিম্বিসার, অজাতশত্রু, চন্দ্রগুপ্ত প্রভৃতি রাজাদের ইতিহাসেও পুরাণসাহিত্যে স্থান পেয়েছে। সুতরাং, ভারতবর্ষের ইতিহাস রচনায় পুরাণগুলির অবদান অনস্বীকার্য । এইসব দিক হতে বিচার করলে পুরাণ সাহিত্য প্রাচীন ভারতবর্ষের একটি জীবন্ত ইতিহাস। 


নিমাই পাল প্রাগুক্ত গ্রন্থে ভারতীয় সংস্কৃতির সাথে পুরাণের সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন— “পুরাণ আমাদের প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির আধার। অতীত ভারতের নানা কীর্তি ও কাহিনী পুরাণপাঠে অবগত হওয়া যায়। পৌরাণিক ভারতকে জানতে হলে পুরাণগ্রন্থ আমাদের কাছে অপরিহার্য।... পুরাণে অলৌকিকতা ও অতিরঞ্জন বহুলাংশে আছে সত্য। তবুও প্রাচীন ভারতের পুরাবৃত্তি, ভূগোল, জনপদের বিবরণ, লোকাচার, জ্ঞানচর্চা ও ধর্মসাধনা, জীবনচর্যার নানা কথা জানতে আমাদের পুরাণ পাঠ জরুরি। এই অর্থে পুরাণ ইতিহাস নির্ভর রচনা— প্রতীচ্য পণ্ডিত কথিত নিছক আজগুবি রচনা, অতিরঞ্জনের আধারমাত্র অথবা Mythology নয়। মহাপুরাণসমূহে রামচন্দ্র, যুধিষ্ঠিরাদি রাজবর্গ ও তৎকালীন সাধারণ মানুষের খাদ্যরূচি, পোষাকাদির নানা বিবরণ আমরা জানতে পারি। প্রাচীন ভারতের চলমান জীবনের ছবি আঁকতে গিয়ে পুরাণকারেরা যতই অতিরঞ্জন ও অবিশ্বাসের রঙ ছড়ান না কেন তার ভিতর থেকে সত্যের নির্যাসটুকু আহরণ করতে আমাদের অসুবিধা নেই। প্রাচীন ইতিহাস বোধকে সঞ্চারিত করতে পুরাণের ভূমিকা অপরিহার্য।”


বিংশ শতকের গোড়ার দিকে পাশ্চাত্য পণ্ডিত ফ্রেডেরিক এডেন পারগিটার প্রথম পুরাণ সম্বন্ধে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । তিনি বলেন প্রাচীন ভারত কে উপলব্দি করার ক্ষেত্রে পুরাণের ভূমিকা অনেক অবদানের দাবীদার । অপর একজন পশ্চিমা পন্ডিত থিয়োডোর গোল্ডস্টাকার অবশ্য হিন্দুধর্মের অধঃপতনের জন্য অবশ্য পুরাণকে দায়ী করেছেন। এই দুটো মতের কোনটাই পুরোপুরি ভুল নয়। পুরাণসমূহের ইতিহাসভিত্তিক নানা তথ্য সংরক্ষণজনিত অবদান যেমন অনস্বীকার্য ঠিক তেমনি অতিরঞ্জন করতে গিয়ে বৈদিক সনাতন ধর্মের যে পরিমাণ অবমাননা এইসব পুরাণে হয়েছে তাও ফেলে দেয়ার মতো নয়। 


পুরাণের একটি কাহিনী দিয়েই শেষ করব আজকের লেখা। এই কাহিনীটি যথেষ্ট আপত্তিকর ও অশ্লীল হলেও এই কাহিনীটি বলছি যাতে আপনারা বুঝতে পারেন পুরাণে কতটা হাস্যকর গল্প রচনা করতে গিয়ে হয়তো অনিচ্ছাবশতই সনাতন ধর্মের ক্ষতি করা হয়েছে। ভাগবত পুরাণের ৮ম স্কন্দের ১২ তম অধ্যায়ের এই গল্পে আমরা পাই বিষ্ণু মোহিনী নামক এক নারীর রূপ ধারণ করলে তার সৌন্দর্যে শিব কামার্ত হয়ে পড়েন। তখন তিনি জোরপূর্বক সেই মোহিনী অবতারের সাথে সংগমে লিপ্ত হবার জন্য তাকে ধাওয়া করেন। মোহিনীরূপী বিষ্ণুও পালাতে থাকেন নিজের সম্ভ্রম রক্ষার্থে। এইসময়ে শিবের উত্থিত লিঙ্গ হতে বীর্যপাত হলে পৃথিবীর যেসকল জায়গায় সেই বীর্যস্খলন হয় সেসব জায়গায় স্বর্ণখনি সৃষ্টি হয়।


আমরা সবাই জানি স্বর্ণখনি এভাবে সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু সেটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদ্বন্দ্বী দেবতা শিবকে হীন হিসেবে প্রদর্শনের নিমিত্তে তাকে কামার্ত হিসেবে দেখানোর প্রয়াস ই এই গল্পের মূল আকর্ষণ। বৈষ্ণব ও শৈব সম্প্রদায়ের পুরাণসমূহে এরকম বেশ কিছু পাল্টা গল্প আছে একে অপরকে লক্ষ্য করে। এর মাধ্যমে সেই সময়কালীন বৈষ্ণব ও শৈব সম্প্রদায়ের উত্থান, তাদের মধ্যেকার স্নায়ুযুদ্ধ এইসব ঐতিহাসিক ঘটনার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠে এটা যেমন সত্য, একইসাথে এতে সনাতন সংস্কৃতির যে অবমাননাও হয়েছে পাল্টাপাল্টি এইসব গল্প রচনার কারণে তাও সত্য। অর্থাৎ পুরাণের ঐতিহাসিক গুরুত্ব যেমন অনস্বীকার্য তেমনি এর দ্বারা সাধিত ক্ষতির কথাও অস্বীকারের উপায় নেই। তাই পুরাণকে ধর্মশাস্ত্র হিসেবে গ্রহণ করার যেমন যৌক্তিক উপায় নেই, একইভাবে ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক দলিল হিসেবে এর গুরুত্বকে স্মরণ করতেই হবে এ কথাও সমভাবে সত্য। তাই পুরাণ নিয়ে বিবাদ নয় বরং পুরাণগুলোর নির্মোহ বিশ্লেষণপূর্বক অধ্যয়ন করে এসব থেকে জ্ঞান আহরণ ই আমাদের জন্য সর্বোচ্চ ফলপ্রসু হতে পারে।

1 comment:

  1. Onek Sundor vabe describe kora hoyece. Dhonnobad. Nomoskar Dada

    ReplyDelete

Pages