পরিবেশ দূষণ প্রতিকারে বৈদিক সমাধান - অগ্নিবীর

পরিবেশ দূষণ প্রতিকারে বৈদিক সমাধান

Share This




জলবায়ু, বায়ু, অগ্নি, জল, পৃথিবী, আকাশ এরা সৃষ্টির আধারভুত পঞ্চমহাতত্ত্ব ৷ এর মধ্যে বায়ুর স্থান গুরুত্বপূর্ণ ৷ অথর্ববেদে বায়ুকে প্রাণ বলা হয়েছে ৷2 আরো বলা হয়েছে, প্রাণশক্তি প্রদাণকারী বায়ু ৷3 এই বায়ু পিতার ন্যায় পালক, বন্ধুর ন্যায় ধারক, পোষক আর মিত্রের ন্যায় সুখদাতা ৷ এটি জীবন দান করে ।4 বায়ু অমরত্বের নিধি ৷ বায়ু আমাদের জীবন প্রদান করে থাকে ৷5 সংহিতাগুলোতে বলা হয়েছে যে, যদি অন্তরিক্ষকে দূষণ হতে মুক্ত করে শান্তি কামনা করতে চাও তাহলে সর্বপ্রথম বায়ুকে দূষণরহিত করে, তাঁর শান্তি আনা অত্যাবশ্যক ।6

ঋগ্বেদে কামনা করা হচ্ছে, দূষণ মুক্ত কল্যাণকারী বায়ু আমার চারিদিকে প্রবাহিত হোক ৷7 বায়ু নিচের দ্বারযুক্ত (স্তরযুক্ত) মেঘকে অন্তরিক্ষ আর পৃথিবীর দিকে প্রেরণ করে, এ জন্য এই বায়ু সকল ঔষধি, বনস্পতি আর প্রাণিদের রাজা ৷ কারণ, যেভাবে একজন কৃষক যব আদি শস্যের ভালো ফলনের জন্য জল সিঞ্চন করে, তেমনি বায়ুর কারণে বর্ষা উৎপন্ন হয়ে সম্পূর্ণ ভুমিকে সিক্ত করে, নরম করে ৷8

প্রার্থনা করা হয়েছে, হে বায়ু ! তুমি ঔষধি গুণে যুক্ত জলকে প্রাপ্ত করাও আর ক্ষতিকর দূষিত বায়ুকে আমাদের থেকে দূরে নিয়ে যাও ৷ তুমিই শুদ্ধ এবং দূষন রহিত হয়ে সম্পূর্ণ ঔষধির ভাণ্ডার হও ৷ এজন্য তোমাকে দিব্যশক্তিসমূহের দূত বলা হয়, কারন তুমিই সম্পূর্ণ দিব্যশক্তিসম্পন্ন, ঔষধীয় তত্ত্বে যুক্ত ।9
বেদে দুই প্রকারের বায়ুর বর্ণনা আছে ৷ প্রথমটি হলো যেটা সমুদ্র পর্যন্ত যায় আর দ্বিতীয়টি হলো যে বায়ু সমুদ্র থেকেও দূরে দূরদেশ পর্যন্ত প্রবাহিত হয় ৷ এর মধ্যে প্রথম বায়ু শরীরের বলকে প্রাপ্ত করায় আর দ্বিতীয় বায়ু দূষণকে দূর করে ৷10

বায়ুকে দূষণমুক্ত করতে বৃক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে ৷ অথর্ববেদে বলা হয়েছে, যে পৃথিবীতে বৃক্ষ আর নানা প্রকারের বনস্পতি সহস্র প্রকারে সদা স্থির, নিত্যরূপে বিরাজ করে, সেই সমস্ত পদার্থ আর সমস্ত জগৎকে ধারণকারী পৃথিবীকে আমি স্তুতি করি ।11 অথর্ববেদে বৃক্ষকে বনস্পতি, বানস্পত্য, ওষধি আর বিরুৎ এই চার প্রকার বর্ণনা করা হয়েছে ।12 যেসব বৃক্ষে ফুল ছাড়াই সরাসরি ফল হয়, যেমন- বট, পিপুল ইত্যাদি এগুলো বনস্পতি৷ যেসব বৃক্ষে ফুল-ফল হয়, যেমন বেল, আম, জাম ইত্যাদি এগুলো বানস্পত্য; যেসব বৃক্ষ ফল উৎপাদনের পরে শুকিয়ে যায় যেমন ধান, ভুট্টা, জোয়ার, গম, যব ইত্যাদি, এগুলো ওষধি। আর যার মধ্যে অবলম্বনের জন্য তন্তু থাকে বা যা স্বয়ং পতিত থাকে যেমন বাঙ্গি, তরমুজ, লতা ইত্যাদি এগুলো বিরুৎ ৷

বেদে এই সকলকেই বৃক্ষ নামে আহ্বান করা হয়েছে ৷ বেদের আদেশ হলো, কোনো মানুষেরই বৃক্ষ বা বনস্পতিকে নষ্ট করা উচিত নয় ৷13 বনস্পতির নিকট আহ্বান করা হয়েছে, তুমি বায়ুর দূষণ দূর করো৷14 শতপথ ব্রাহ্মণে লেখা হয়েছে, সংসারের সর্বাধিক হিতকারী হলো এই ঔষধিসমূহ৷ এদেরকে কখনো ধ্বংস কোরো না ৷15 পীপল বৃক্ষ মধ্যে দেবতাদের অর্থাৎ দিব্য শক্তির নিবাস আছে, বেদ এমনটাই মান্য করে ৷16 জনশ্রুতি আছে যে, পীপল বৃক্ষে ব্রহ্মরাক্ষসের নিবাস হয় ৷ এমনটা এজন্য প্রচার করা হয়েছে, যাতে লোকেরা এই বৃক্ষকে না কাটে আর এই পীপল গাছ বায়ুকে অধিক শুদ্ধ করতে পারে ৷ গীতাতে যোগেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ বিশ্বের সকল বস্তুতে যখন যোগ দ্বারা নিজের স্থিতি প্রকট করেছিলেন তখন বৃক্ষ-বনস্পতিসমূহে পীপলের মধ্যে নিজের সত্তাকে দেখিয়ে বলেছেন, বৃক্ষ মধ্যে আমি পীপল [অশ্বত্থ] বৃক্ষ ৷ 17 এই বাক্য ভগবান এজন্য বলেছেন, যাতে লোকেরা এই মহান পরোপকারী বৃক্ষকে সদা রক্ষা করে ৷ আজও হিন্দু সমাজে পীপল বৃক্ষ কাটা পুত্র হত্যার সমান এমনটা মান্য করা হয় ৷ তাই এই পীপল গাছকে লোকেরা কাটে না ৷ বায়ুকে শুদ্ধ করার জন্য বৃক্ষের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ৷

ভারতবর্ষে এই বৃক্ষসমূহকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন প্রকার প্রার্থনা করা হয়ে থাকে ৷ অথর্ববেদের ঋষি বলেন, হে বৃক্ষসমূহ ! তোমাদের মধ্যে আমাদের দুঃখকে নষ্ট করার সামর্থ্য আছে ৷ অতঃ তোমরা আমাদের কষ্ট দূর করো ৷ আমরা তোমাদের শতশত শাখায় বর্ধিত করি ৷18 যেভাবে মাতা নিজের পুত্রের দুঃখ দূর করে তাকে সুখী করে, সেভাবেই সে বৃক্ষ! দূষণ থেকে রক্ষা করে আমাদের সুখী করো ।19 অন্যত্র অজশৃঙ্গীর নিকট প্রার্থনা করা হয়েছে, হে অজশৃঙ্গী ! তোমার গন্ধ দ্বারা তুমি বায়ুতে আর জলে ব্যাপ্ত হয়ে দূষণ বৃদ্ধিকারী রাক্ষসরূপী জীবকে নষ্ট করো ।20

এভাবেই অপমার্গের বর্ণনা আছে, এর দ্বারা বৈজ্ঞানিকগণ দূষণরূপী অসুরের ওপর বিজয় প্রাপ্ত করেছেন ৷21 বেদে দর্ভ, সোমলতা, অপামার্গ, পাটা, পিপ্পলী, পৃশ্নিপর্ণী, ৠষভ, মধূলা, মুঞ্জ, সহস্রকাণ্ড, আব্রযু, শমী, বর্ণবতী, করীর, পলাশ, ঢাক, মদাবলী, উদুম্বর, শতাবর, ইত্যাদি প্রায় ৭০০ বনস্পতি দ্বারা জীবনরক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা দৃষ্ট হয়৷ এগুলো মহা উপকারী হওয়ায় বেদে এদেরকে মাতারূপে আহ্বান করা হয়েছে ৷22 এই বৃক্ষ ছাড়া আমরা জীবনে উন্নতি করতে পারব না, কারণ এই বৃক্ষই তো প্রাণ ৷ বৃক্ষ ছাড়া জীবনও অসম্ভব ৷ অগস্ত্য ঋষি প্রার্থনা করে যজ্ঞদেবতাকে বলেন, হে যজ্ঞদেব ! আমি এই বনস্পতি, ঔষধিসমূহের প্রভাব জেনে গেছি ৷

এখন আমি এদের শতশাখী হিসেবে বলব, যেখানে এই বৃক্ষের দ্বারা আমরা নিজেরাই হাজারো শাখাযুক্ত হয়ে যাব ।23 মন্ত্রের ভাব হলো, আমরা বৃক্ষ বনস্পতিসমূহের যত সুরক্ষা করব, তার চেয়েও হাজারগুণ লাভ এই বৃক্ষ আমাদের প্রদান করবে ৷ এই মন্ত্রের ভাবে নিজের বিচার মিলিয়ে পুরাণকার বলেছেন, এক বৃক্ষ দশ পুত্রের সমান সুখকারী হয় ৷ 24 বৃক্ষের এক পর্যায়চারী নাম হলো তরু ৷ যার অর্থ মনুষ্যকে দূষণরূপী দুঃখ হতে পার করে যা ৷25 বৃক্ষের মহত্ত্ব দেখে অগ্নি পুরাণকার লিখেছেন-
‘যদি কোনো ব্যক্তি নিজের বংশের বিস্তার এবং ধন ও সুখে বৃদ্ধি কামনা করে থাকে, তাহলে সে যেন ফল-ফুলাদি কোনো বৃক্ষকে না কাটে ৷’
বরাহপুরাণে স্পষ্ট লেখা আছে, পাঁচটি আম গাছ যিনি লাগাবেন, তিনি কখনো নরকে যাবেন না ৷ 26 পদ্মপুরাণ অনুসারে যে মনুষ্য রাস্তার পাশে ছায়াযুক্ত বৃক্ষ লাগায়, সেই ব্যক্তি স্বর্গে ততদিন পর্যন্ত সুখ ভোগ করে থাকে; যতদিন সেই বৃক্ষ ফুলে-ফলে থাকে ৷
মহর্ষি বেদব্যাস বৃক্ষ-বনস্পতিদের কখনো না কাটার আদেশ দিয়েছেন, কারণ ফল ফুল যুক্ত বৃক্ষ সমস্ত সংসারের বায়ুশুদ্ধি করে আর ক্ষুধা নাশ করে শত শত প্রাণির উপকার করে থাকে ৷27 বেদে তো স্থানে স্থানে এই বৃক্ষ-বনস্পতিদের নমস্কার করা হয়েছে- নমো বৃক্ষেভ্যঃ হরিকেশেভ্যঃ28; বনানাং পতয়ে নমঃ29; ঔষধীনাং পতয়ে নমঃ30; বৃক্ষাণাং পতয়ে নমঃ31; অরণ্যানাং পতয়ে নমঃ32।

বেদ মধ্যে যেখানে বায়ু শুদ্ধির উপায় হিসেবে বৃক্ষ-বনস্পতি ইত্যাদির উল্লেখ আছে, তেমনি দ্বিতীয় উপায় হিসেবে যজ্ঞের উল্লেখ আছে । এই যজ্ঞ মনুষ্যগণের শুভ ইচ্ছাকে পূর্ণ করে থাকে ৷ এছাড়াও এতে পৃথিবী, জল, বায়ু, অগ্নি, আকাশের শুদ্ধি হয়ে থাকে আর সেই সাথে মন, বুদ্ধি, শরীর আর আত্মাকেও সুবাসিত করে, যজ্ঞ নিজের সুগন্ধে বিভিন্ন দূষণ হতে আমাদের বাঁচায় ৷33 উচ্চৈর্ঘোষ ঋষি যজুর্বেদে এর বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, এই যজ্ঞ সকলকে পবিত্র করে, আত্মাতে জ্ঞানের প্রকাশ করে, বায়ুর দ্বারা দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ে, বায়ুকে শুদ্ধ করে, সম্পূর্ণ সৃষ্টিকে ধারন করে, এটি এক স্থান হতে অন্যদেশে পর্যন্ত সুখ বর্ধনকারী, অতঃ এই যজ্ঞকে কখনো ত্যাগ করা উচিত নয় ৷34

বায়ুকে শুদ্ধ করার জন্য যজ্ঞ করার জন্য ঋগ্বেদ বলেছেন, হে মনুষ্যগণ ! যা সকল প্রাণীর আধার (ধারনকারী), সেই বায়ুকে দূষণ হতে মুক্ত করার জন্য যজ্ঞের অগ্নিতে সুগন্ধিত, সুখকারী আহুতি যোগ্য পদার্থসমূহ অর্পিত করো ৷35 এই যজ্ঞীয় বায়ু আমাদেরকে মৃত্যু হতে বাঁচাতে পারে ।36
যজ্ঞের মাধ্যমে বায়ু দূষণ দূর করতে কয়েক শত মন্ত্র বেদে উল্লেখ করা যেতে পারে । এর মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, বৈদিক ঋষির বায়ুতত্ত্ব চিন্তন এবং এর স্বরূপ সংরক্ষনের যোজনা অত্যন্ত দৃঢ় এবং নিয়মতান্ত্রিক ।

বিশ্বের পাঁচটি উপাদানের অধীনে যে উপাদানগুলির দূষণ হচ্ছে তার মধ্যে একটি হল জল । বেদে জলের একশো এক নাম সমার্থকরূপে গণনা করা হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে বোঝায় । জলকে ঋগ্বেদে মা বলা হয়েছে ৷37 যেমন মা তার বাচ্চাদের স্নান করিয়ে শুদ্ধ পবিত্র করেন, তেমনি একইভাবে এই জল প্রাণিদের পবিত্র করে তোলে ৷38

এই জল ছাড়া জীবনের কল্পনাই করা যায় না ৷ অতঃ একে অমৃত বলা হয়েছে -
ও৩ম্ অমৃতোপস্তরণমসি স্বাহা ৷
ও৩ম্ অমৃতাপিধানমসি স্বাহা ৷
এই জল থেকে বিভিন্ন রূপে জগতের ছয়টি রস অর্থাৎ মিষ্টি, অম্ল, লবণ, কটু, কষাটে এবং তিক্ত রস গঠিত হয়েছে । এই জলগুলি আমাদের ত্রুটিগুলি সরিয়ে দেয় এবং দেহের অপদ্রব্যগুলো ধ্বংস করে দেয় ।39 অথর্ববেদে নয় প্রকার জলের বর্ণনা আছে।

১. পরিচরা আপঃ - নগরাদির নিকটে প্রাকৃতিক ঝরণা হতে প্রবাহিত জলকে পরাচরা আপঃ বলা হয় ৷
২. হেমবতী আপঃ - হিমযুক্ত পর্বত হতে প্রবাহিত জল হেমবতী আপঃ ৷
৩. উৎস্যা আপঃ - স্রোতের জল উৎস্যা আপঃ ৷
৪. সনিষ্যদা আপঃ - তীব্র গতিতে প্রবাহিত জল সনিষ্যদা আপঃ ৷
৫. বর্ষ্যা আপঃ - বর্ষা হতে উৎপন্ন জল বর্ষ্যা আপঃ ৷
৬. ধন্বন্যা আপঃ - মরুভূমির জল ধন্বন্যা আপঃ ৷
৭. অনূপ্যা আপঃ - অনূপ দেশজ জল অর্থাৎ যেখানে জলাভুমি আছে এবং বাত-কফ রোগ অধিক হয়, সেই অঞ্চলে প্রাপ্ত জল হলো অনূপ্যা ৷
৮. কুম্ভেভিরাবৃতা আপঃ - ঘড়ায় রাখা জলই কুম্ভেভিরাবৃতা জল ৷
৯. অনভ্রয়ঃ আপঃ - কোদাল ইত্যাদি দ্বারা খুঁড়ে যে জল বের করা হয়, তা অনভ্রয়ঃ আপঃ ৷
ভারতীয় প্রসঙ্গে জলকে একটি মহাভূত রূপে বিবেচনা করা হয়েছে, যা আমাদের উপভোগ সামগ্রীর পাশাপাশি আমাদের মৌলিক বিষয়ও । এখানে জল, জীবের সুখ দুঃখের কারণ হওয়ায় এটি পরিবেশেরও একটি অন্যতম বিষয়৷ প্রকৃতপক্ষে, জল জীব জগতের আত্মা ৷ জল ছাড়া জীবন কল্পনা করা যায় না ৷ এ কারণেই প্রকৃতি পৃথিবীর ৭১ শতাংশ ভাগকে জলময় বানিয়েছেন । শুধু এটিই নয়, আমাদের দেহের ৬৭ শতাংশই জল ৷ প্রাণিমাত্রেরই জীবনের মূলতত্ত্ব প্রোটোপ্লাজমে ৯০ শতাংশ জল । পানির গুরুত্ব দেখে হিন্দি কবি বলেছেন-

রহিমন পানী রাখিএ, বিন পানী সব সূন ৷
পানী বিন ন ঊবরে, মোতী-মানুষ-চূন ৷

জল যদিও এতই গুরুত্বপূর্ণ তবুও এর দূষণনিরন্তর বাড়ছেই ৷ এর দূষণের নানা কারন আছে, যার মধ্যে আছে প্রকৃতিজনিত দূষণ - ভুমিধ্বস, আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখী ইত্যাদি থেকে হয়, মানবজনিত দূষণ - মিল কারখানা, নগর, কৃষি ইত্যাদি থেকে হয় ৷
বেদে জলের মহত্ত্বের অনেক মন্ত্র পাওয়া যায়, যেখানে বলা আছে, জল নিশ্চয়ই ভেষজরূপী, জল রোগসমূহকে দূর করে, জল সকল প্রাণির ভেষজভুত ৷ তাই জল দ্বারা রোগসমূহকে দূর করা হয় ৷40 জলকে বৈদ্যগণেরও বৈদ্য বলা হয়েছে ৷41 যেভাবে মাতা শিশুর এবং বোন নিজের ভাইয়ের হিত সাধন করে, সেভাবেই জল সকল প্রাণির হিতৈষী ৷42 যেখানে ঋগ্বেদ জলকে মাতৃ মধ্যেও সর্বোত্তম মাতা বলেছেন, 43 সেখানে যজুর্বেদ মাতৃরূপী জলের শুদ্ধি কামনা করেছেন ৷44 আপঃ শান্তিঃ 45 বলে বেদ মধ্যে এই জলকে শুদ্ধ করার প্রেরণা দেয়া হয়েছে ৷ এই জল আমাদেরকে তখনই শান্তি প্রদান করবে যখন আমরা এটিকে শুদ্ধ রাখব ৷ জলকে দূষিত না করতে যজুর্বেদ আমাদেরকে স্পষ্ট আদেশ দিয়েছে ৷46
বেদের পরে অন্যান্য সাহিত্যে জলের গুরুত্ব দেখে বলা হয়েছে যে, নদীর স্রোতের নিকটে, প্রস্রাব ও মলত্যাগ করলে লক্ষ লক্ষ জন্মেও মুক্তি লাভ করা যায় না । এটাও লেখা আছে যে, যে ব্যক্তি নদী বা জলাশয়ে থুথু দেয়, খাবার ইত্যাদি অবশেষ নিক্ষেপ করে, সে ব্রহ্মহত্যার পাপের কারণে ঘোর নরকে যায় ৷47 বৈদিক সাহিত্যে জলকে দূষণ থেকে বাঁচানোর জন্য এই আদেশও দেওয়া হয়েছিল যে, পানিতে মলমূত্র নিষ্কাশন করা উচিত নয় ।48

জলকে দূষণ থেকে মুক্ত করার প্রথম আদেশ বেদে দেয়া হয়েছে সেটাতো অবশ্যই মুখ্য, এছাড়াও জল শুদ্ধির কিছু গৌন উপায়ও বেদে বলা হয়েছে ৷ যেমন, যজ্ঞ করলে বর্ষার উৎপত্তি হয়, এমনটা মানা হয়, বর্ষা থেকে জল প্রবাহিত হয় ৷ এতে গতি আসে আর জল শুদ্ধ হয়ে যায় ৷ প্রবাহমান জল শুদ্ধতা প্রাপ্ত হয় ৷
বেদে নদীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান আছে ৷ নদীকে মাতাগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মাতা বলে আহ্বান করা হয়েছে ৷49 নদীসমূহের পবিত্রতা নিয়ে বেদ বলেছেন, যে নদী পাহাড় থেকে বের হয়ে সমুদ্রে গিয়ে মিলিত হয়, তা পবিত্র ৷50 প্রকারান্তরে বেদ এটাই বলতে চায় যে, নদীর প্রবাহ অবাধ গতিতে বইতে দেয়াটাই উপযুক্ত ৷
জল শুদ্ধির এক অন্য উপায় হলো বর্ষা, কিন্তু আজ বৃক্ষ কর্তন, মিল কারখানা স্থাপন এবং বিবিধ রাসায়নিক পদার্থের অপব্যবহারের ফলে পরিবেশের উপর খারাপ প্রভাব হওয়ায় সময়মত বর্ষা বা অনুকূল বর্ষা হতে পারছে না ৷ যার ফলে শুধু কৃষিই নয়, বরং সকল কিছুর ওপরেই এর কুপ্রভাব পড়ছে ৷ বেদ বর্ষার গুরুত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছে, যে মেঘ গর্জনপূর্বক শব্দ করে বর্ষিত হয়, এতে অপকর্মের ফলে উৎপন্ন দূষণ নষ্ট হয়ে যায় আর জগৎ সংসারের দৃশ্যমান পদার্থ আনন্দ অনুভব করে ৷51 প্রাণিদের কামনাপুর্তি তখনই হবে যখন সময়মত মেঘ বর্ষণ করতে থাকবে ৷52
বেদে মিত্র আর বরুণ শব্দ এসেছে, যা ক্রমশঃ অক্সিজেন আর হাইড্রোজেন বাচক শব্দ ৷ এই দুই হলো বর্ষার প্রমুখ তত্ত্ব যার দ্বারা জলের নির্মাণ হয় । যজুর্বেদে এই দুইকে বর্ষাধায়ক মানা হয়েছে ৷53 অথর্ববেদে তো এদের বর্ষার স্বামী মেনে উপাসনাও করা হয়েছে ৷54 মিত্র আর বরুণ বায়ু মিলে জলের উৎপত্তি হয় ৷ এই বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তকে দেখানো মন্ত্র বলছে, হে জল ! তুমি মিত্র আর বরুণ নামক বায়ুতে জন্ম নিয়েছ; হে অন্নদাতা জল ! তুমি বিদ্যুতের সামর্থ্য থেকে উৎপন্ন হয়েছ; জলের রূপে পরিণত তোমাকে দেবগণের অন্নের জন্য সূর্যের কিরণ তোমাকে অন্তরীক্ষে ধারণ করে থাকে ৷55
বেদে জলকে শুদ্ধ করার জন্য বায়ু আর সূর্যকে গুরুত্বপূর্ণ মানা হয়েছে ৷56 অথর্ববেদে জলের জীবাণুকে নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে, আর সেখানে বলা হয়েছে যে, জীবাণু নষ্ট করার সামর্থ্য সূর্যের তীব্র কিরণে বিদ্যমান আছে ৷57

বেদে জলশুদ্ধির এক উপায় হলো যজ্ঞ ৷ ভগবান কৃষ্ণ দ্রব্যযজ্ঞ, তপোযজ্ঞ, যোগযজ্ঞ, স্বাধ্যায়যজ্ঞ, জ্ঞানযজ্ঞের বর্ণনা যেখানে করেছেন 58 সেখানে দ্রব্যযজ্ঞের অভিপ্রায় হলো সেখানে মন্ত্রোচ্চারণপূর্বক শাস্ত্রোক্ত সুগন্ধি, রোগনাশক, পবিত্র প্রাকৃতিক পদার্থকে অগ্নিতে বিধিপূর্বক সমর্পণ, এতে অগ্নির প্রাপ্ত পদার্থ অগ্নির বিশিষ্ট কার্য প্রক্রিয়ায় দহন হয়ে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম হয়ে যায় আর গুণরূপ হয়ে বায়ুকে প্রাপ্ত হয়ে যায় ৷ যেকোনো ভাবে উত্তাপ প্রাপ্ত পদার্থের তৈলাদি তত্ত্ব শীঘ্রই বাষ্পিত প্রক্রিয়ায় বায়ুকে প্রাপ্ত হয়ে যায়, এটাই স্বয়ংসিদ্ধ সিদ্ধান্ত ৷ এতে বায়ু শুদ্ধ হয়ে যায়। এই বায়ু যেখানে যেখানে যায়, প্রথম স্তরে আকাশস্থ জলীয় বাষ্পকে এবং ভূমিতে বিদ্যমান জলস্রোত, জলপথ আর জলাশয়কে স্পর্শরূপ সংযোগ দ্বারা শুদ্ধ করে থাকে ৷ এভাবে মেঘ তথা অন্তরীক্ষকে এটি শুদ্ধ করে ৷ এভাবেই দ্রব্যযজ্ঞ দ্বারা নিরন্তর শুদ্ধি হয় ৷ যজুর্বেদে লেখা আছে, যে পদার্থসমূহের সংযোগে বিকার প্রাপ্ত হয়, তা অগ্নির নিমিত্ত অতিসূক্ষ্ম পরমাণুরূপ হয়ে বায়ুর মধ্যে থাকে আর কিছু কিছু শুদ্ধও হয়ে যায় ৷ যেভাবে যজ্ঞের অনুষ্ঠানে বায়ু ও বৃষ্টি জলের উত্তম শুদ্ধি ও পুষ্টি হয়ে থাকে, তেমনটা অন্য কোনো উপায়ে কখনো হতে পারে না ৷59
এভাবে জলের দূষণ আমরা বিভিন্ন বৈদিক উপায়ে দূর করতে পারি ৷ পঞ্চমহাভৌতিক উপাদানমধ্যে পৃথিবী সবচেয়ে স্থূল উপাদান ৷ উৎপত্তির ক্রমে এটি সবার শেষে ৷ বেদে এর একুশটি নাম গণনা করা হয়েছে ৷ শতপথ ব্রাহ্মণে লেখা হয়েছে যে, জল থেকে উৎপন্ন ফেনা যখন শক্ত আকৃতিতে পরিবর্তিত হয়েছে, তখন তাকে মৃদ্ বলা হলো ৷60 বেদে এই পৃথিবীর ধারক তত্ত্ব সত্য, ঋত, সংকল্প, তপ, ত্যাগ, ইত্যাদিকে বলা হয়েছে, যার ওপর পৃথিবী স্থিত আছে ৷61 পৃথিবীর ওপর দূষণ ছড়ানোর তত্ত্ব বেদের ভাষায় হলো, নিজের মানসিক এবং শারীরিক শক্তির বলে পৃথিবী নিবাসীদের মধ্যে ঘৃণা, দ্বেষ, হিংসা, স্বার্থ আদি প্রবৃত্তিকে উৎপন্ন করে চলা ৷ অথর্ববেদে এই প্রবৃত্তি থেকে বাঁচতে প্রার্থনা করা হয়েছে ৷62 এই বেদের বার কাণ্ডের প্রথম সূক্তের মন্ত্রসমূহ 63 এই পৃথিবীর দূষণ দূর করার জন্য বিভিন্ন উপায় আমাদের বলছে ৷ এজন্য এই সুক্তের নাম ভূমিসূক্ত ৷ বেদে পৃথিবীকে মাতা নামে এবং নিজেকে পৃথিবী মাতার পুত্ররূপে চিত্রিত করা হয়েছে -
মাতা ভূমিঃ পুত্রোঽহং পৃথিব্যাঃ ।63 এই পৃথিবী প্রাণিমাত্রের ভরণ-পোষণকারী, সোনা, রূপা, হীরা, পান্না ইত্যাদি অনেক ধরনের রত্নের খনি এখানে, সকল বস্তুর আধার এই পৃথিবী ৷ জঙ্গম জীবজগত পদার্থের এখানেই আবাস- এমন এই পৃথিবীকে আমরা পাপকার্যে যেন দূষিত না করি ।64

পঞ্চভুত মধ্যে অগ্নির নিজস্ব বিশিষ্ট গুরুত্ব আছে ৷ জৈমিনী ঋষি একে বিশ্বের প্রথম কিরণ বলেছেন ৷65 এই জগৎ এই অগ্নিতেই প্রকাশিত ৷66 বেদে অগ্নির ১০৮ টি নাম আছে, যা থেকে অগ্নির গুরুত্ব এবং গুণ প্রকাশিত হয় ৷ অগ্নি ঘর্ষণের মাধ্যমে উৎপন্ন হয়, এটা ঋগ্বেদের কথা ৷67 এই অগ্নি যা জলের ভিতর বড়বানলরূপে থাকে, বাদল মধ্যে বিদ্যুৎরূপে, মনুষ্য শরীরে জঠরাগ্নিরূপে থ্কে, পাথরে থাকে, ঔষধিতেও প্রবিষ্ট থাকে, বনস্পতিতেও থাকে, চন্দ্রমা বা দুধ, ঘৃতেও থাকে, গরু ইত্যাদি চতুষ্পদ প্রাণীদের মধ্যে থাকে, পক্ষীদের মধ্যে, বনস্থ জীবের মধ্যেও থাকে, সূর্যালোকে থাকে, পৃথিবীলোকেও আথাকে, অন্তরীক্ষলোকেও থাকে, বিদ্যুতেও থাকে, বাতাসেও থাকে, সেই অগ্নি আমাদের রক্ষা করুন 68 এই কথা বলে যজুর্বেদ সেই অগ্নির প্রতি নিজেকে সমর্পিত করার ভাব দেখিয়েছেন ৷
বেদে এই অগ্নি ছাড়াও গার্হপত্যাগ্নি, দক্ষিণাগ্নি এবং আহবনীয়াগ্নিরও চর্চা আছে ৷ মনুষ্যের গৃহস্থ জীবন সুখময় আর শান্তিপূর্ণ হোক, গার্হপত্যাগ্নির নিকট এই প্রার্থনা করা হয় ৷ এই অগ্নি ছাড়া সাংসারিক জীবনে শান্তি অসম্ভব ৷ যজ্ঞকালে সংসারের কল্যাণ আকাঙ্ক্ষা করে যে উপকার ভাবনাকে তীব্র করা হয়, সেটিই দক্ষিণাগ্নি এবং যাতে অগ্নিহোত্র করা হয় সেই অগ্নি আহবনীয় অগ্নি ৷ এরা সৌরাগ্নির প্রতীক মাত্র ৷ সমাজে এই তিন অগ্নির সামঞ্জস্যহীন হওয়া উচিত না ৷
জীবাণুর বিনাশ আর বর্ষা উৎপন্ন করাতে অগ্নি পরম সহায়ক ৷69 বর্ষার জল অবরোধকারী মেঘকে এই অগ্নি বিনষ্ট করে ৷70

পঞ্চভূত মধ্যে আকাশের উৎপত্তি আত্মা হতে মানা হয়েছে ৷71 বেদে আকাশের ষোলো নাম গণনা করা হয়েছে ৷ আমাদের সম্পূর্ণ স্থিতি এবং গতি আকাশে হয় ৷ আকাশ আমাদের আশ্রয় ৷ আকাশ নিরাকার ৷ আয়ুর্বেদ চিকিৎসকদের দৃষ্টিতে, শব্দ দূষণে প্রাণিদের শ্রবণশক্তির উপর খারাপ প্রভাব পড়ে, এ কারনে শ্রবণশক্তি হ্রাসও পেতে পারে ৷ তাঁদের দৃষ্টিতে শব্দ হতে কেবল কানই নয় বরং হৃদয়, স্নায়ুতন্ত্র আর পাচন তন্ত্রও প্রভাবিত হয়, যার ফলে রক্ত পরিবাহীর সংকোচন, হৃদপিণ্ডের স্বাভাবিক ছন্দের ব্যাত্যয়, রক্তচাপে পরিবর্তন, খাদ্যনালীতে অসুবিধা, চোখের মণির আকারে অসমানতা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়া ইত্যাদি হওয়া সম্ভব ৷ অত্যধিক শব্দে মনের উপরও প্রতিকূল প্রভাব পড়ে ৷

মস্তিষ্কের উদ্বিগ্নতার কারণে মানসিক কার্যক্ষমতার বিঘ্ন ঘটে ৷ ব্যক্তির স্মরণশক্তি কমে আসতে থাকে ৷ ব্যক্তি খিটখিটে হয়ে যায় ৷ মাথা ব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেওয়াও সম্ভব ৷ লম্বা সময় ধরে শব্দ দূষণের কারণে নিউরোটিক মেন্টাল ডিসঅর্ডার হয়ে যায় ৷ মাংসপেশীতে চাপ এবং খিঁচ ধরা ও স্নায়ুতে উত্তেজনা হওয়া স্বাভাবিক ৷ কেবল শারীরিকই নয়, বরং মনুষ্যের সাংস্কৃতিক জীবনের ওপরও উচ্চ শব্দের প্রভাব পড়ে ৷ শান্তিময় জীবনে কোলাহলের প্রভাব পড়ায় নেতিবাচক চিন্তন জন্ম নেয়, যার ফলে সেই ব্যক্তি নিজের জীবনের উন্নতির পথ বন্ধ করে দেয় ৷ কেবল মনুষ্যই নয়, বরং পশু পক্ষীও এই উচ্চশব্দ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে আর এতে স্বাভাবিকতা নষ্ট হতে থাকে ৷ এজন্য বেদে মধুর ধ্বনির উচ্চারণের আদেশ দেয়া হয়েছে। 72 যাতে উচ্চশব্দের বিভিন্ন কুপ্রভাব থেকে এই প্রকৃতিকে রক্ষা করা যায় ৷ এমন শত শত মন্ত্র বেদে আছে, যেগুলোতে মধুর ধ্বনী বলার বার্তা দেয়া হয়েছে তথা এই কাজের উপকারিতা দর্শানো হয়েছে ৷
এভাবে পরিবেশের রক্ষার জন্য সর্বপ্রথম দরকার হলো, পরিবেশের স্বাভাবিকতাকে যথাযথভাবে বজায় রাখা ৷ কারণ আমরা যদি একদিকে পরিবেশের মূল ব্যবস্থার ওপর কুঠারাঘাত করতেই থাকি আবার অন্যদিকে সুস্থ্য থাকার উপায় খুঁজতে থাকি, তবে আমাদের কখনোই সফলতা মিলবে না৷ গুরুত্বপূর্ণ হলো সমগ্র সৃষ্টিতে দেবতত্ত্বের চেতনাকে মেনে ঋষিগণ দ্বারা তৈরি করা যজ্ঞ, সৌমনস্য, সংগতিকরণ, দান ইত্যাদিকে জীবনে গ্রহণ করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি ভাবনার সাথে আমাদের সকলে উন্নতি করা ।

ড. রামস্বরূপ শর্মা
কুলসচিব,
গুরুকুল কাংড়ী বিশ্ববিদ্যালয়,
হরিদ্বার, (উত্তরাখণ্ড)ভারত ।

পাদটীকা -
2. বাতো হ প্রাণ উচ্যতে। অথর্ব. 11.04.15
3. বায়ুর্মা তত্র নয়তু বায়ুঃ প্রাণান্ দধাতু মে॥ অথর্ব.19.43.2
4. উত বাত পিতাসি ন উত ভ্রাতোত নঃ সখা। স নো জীবাতবে কৃধি। ঋগ্. 10.183.2
5. যদদো বাত তে গৃহেঽমৃতস্য নিধির্হিতঃ। ততো নো দেহি জীবসে। ঋগ্. 10.186.3
6. অন্তরিক্ষং শান্তিস্তদ্ বায়ুনা শান্তিঃ। মৈত্রায়ণী সংহিতা 4.1.3
7. ময়োর্ভূবাতো অভি বাত। ঋগ্.10.169.1
8. ঋগ্. 06.37.3
9. আ বাত বাহি ভেষজং বি বাত বাহি যদ্রপঃ।
ৎবং হি বিশ্বভেষজো দেবানাং দূত ঈয়সে। ঋগ. 10.137.3
10. দ্বাবিমৌ বাতৌ বাত আ সিন্ধোরা পরাবতঃ ।
দক্ষং তে অন্য আ বাতু পরান্যো বাতু যদ্রপঃ। ঋগ্. 10.137.2
11 অথর্ব. 12.1.27
12 (ক) বনস্পীন্ বানস্পত্যানোষধীরুত বীরুধ: । অথর্ব 08.8.14
(খ) ভূমেশ্চ বৈ সোঽগ্নেশ্চৌষধীনাং চ বনস্পতীনাং চ বানস্পত্যানাং চ বীরুধাং চ প্রিয় ধাম ভবতি য এবং বেদ।অথর্ব. 15.6.3
13. ঋগ্. 6.48.17
14. বনস্পতি শমিতা, বনস্পতিং শমিতারম্। ক্রমশঃ যজু. 29.35; 28.10
15. জগত্যঃ ঔষধয়ঃ । শতা.1.2.2.2 ॥
16. অশ্বত্থো দেবসদনস্তৃতীয়স্যামিতী দিবি। অথর্ব. 5.4.3 ।
17. অশ্বত্থ: সর্ববৃক্ষাণাম্। শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা 10.26 ॥
18. মাতেব পুত্রেভ্যো মৃড কেশেভ্যঃ শমী। অথর্ব. 6.30.3
19. বৃক্ষি ৎবং শতবল্শা বি রোহ। অথর্ব. 6.30.2
20. ৎবয়া বয়ংমপ্সরসো গন্ধর্বাশ্রাতয়ামহে ।
অজশৃঙ্গয়জঃ রক্ষ: সর্বান্ গন্ধেন নাশয়। অথর্ব. 4.37.2
21. অথর্ব. 4.19.4
22. ঔষধীরিতি মাতরস্তদ্বো দেবরীরুপব্রুবে। যজু. 12.78
23. যজু. 5.43
24. দশপুত্রসমং তরু: || মৎস্যপুরাণ
25. তারয়তি প্রাণিনঃ প্রদূষণাৎ দুঃখসাগরাৎ ইতি তরুঃ।
26. পঞ্চাম্রবাপী নরকং ন যাতি। বরাহপুরাণ
27. এতেষাং সর্ববৃক্ষাণাং ছেদনং নৈব কারয়েৎ।
চতুর্মাসে বিশেষেণ বিনা যজ্ঞাদিকারণম্॥
একেনাপি সুবৃক্ষেণ পুষ্পিতেন সুবাসিনা।
বাসিতং বৈ বনং সুপুত্রেণ কুলং যথা।
28. যজু.16.17
29. যজু.16.18
30. যজু.16.19
31. যজু.19.19
32. যজু.16.20
33. সত্যার্থপ্রকাশ, স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী, পৃ০24
34. বসো: পবিত্রমসি দ্যৌরসি পৃথিব্যাসি মাতরিশ্বনো ঘর্মোડসি বিশ্ববধাડসি। পরমেণ ধাম্না দৃংহস্বা মা হ্বার্মা তে যজ্ঞপতির্হ্বার্ষীৎ॥ যজু. 1.2
35. তস্মা এতৎপন্যতমায় জুষ্টমগ্নৌ মিত্রায় হবিরাজুহোতা॥ ঋগ. 3.51.5
36. মিত্রায় হব্যং ঘৃতবজ্জুহোত। ঋগ্. 3.59.1
37. ঋগ্র্. 1.23.16
38. ঋগ্. 10.9.2
39. ( ক) ইদমাপঃ প্রবহতা যৎ কিঞ্চ দুরিতং ময়ি। ঋগ্. 1.23.2
খ), ইদমাপঃ প্রবহতাবদ্যং চ মলং চ যৎ। যজু. 6.17
40. আপ ইদ্বা উ ভেষজীরাপো। অমীবচাতনী:। আপঃ সর্বস্য ভেষজীস্তাস্তে কৃণ্বন্তু ভেষজম্। ঋগ্. 10.137.6
41. অনভ্রয়ঃ খনমানা বিপ্রা গম্ভীরে অপসঃ । ভিষগ্ভ্যো ভিষক্তরা আপো অচ্ছা বদামসি । অথর্ব. 19.2.30
42. অম্বয়ো যন্ত্যধ্বভির্জামিয়ো অধ্বরীয়তাম্। পৃঞ্চতীর্মধুনা পয়ঃ। ঋগ. 1.23.16
43. ঋগ্. 6.50.7
44. যজু. 4.2 ॥
45. যজু. 36.17
46. মাপো ওষধির্হিংসী: | যজু. 6.22
47. মূত্রং বাথ পুরীষং বা গঙ্গাতীরে করোতি যঃ।
ন দৃষ্টা নিষ্কৃতিস্তস্য কস্য কোটিশতৈরপি।
উচ্ছিষ্টং কফকং চৈব গংগাগর্ভে চ যস্ত্যজেৎ।
স যাতি নরকং ঘোরং ব্রহ্মহত্যাং চ বিন্দতি।
পদ্মপুরাণ 8.7.8.10
48. নাপ্সু মূত্রং পুরীষং কুর্যান্র নিষ্ঠীবেৎ। তৈত্তি.আর. 1.26.7
49. নদ্যো মাতৃতমঃ। ঋগ্. 1.158.5

50. ঋগ্. 7.95.2
51. যৎপর্জন্যঃ কনিক্রদৎস্তনয়ন্ হংসি দুষ্কৃতঃ।
প্রতীদং বিশ্বং মোদতে যৎকিং চ পৃথিব্যামধি। ঋগ্. 5.83.9
52. নিকামে নিকামে নঃ পর্জন্যো বর্ষতু। যজু. 22.22
53. মিত্রাবরুণৌ ৎবা বৃষ্টয়াবতাম্। ব্যন্তু বয়োক্তং রিহাণা মরুতাং পৃষতীর্গচ্ছ বশা পৃশ্নির্ভূৎবা দিবং গচ্ছ ততো নো বৃষ্টিমাবহ। যজু. 2.16
54.মিত্রাবরুণৌ বৃষ্টয়াধিপতী তৌ মামবতাম্। অথর্ব. 5.24.5
55. উতাসি মৈত্রাবরুণো বসিষ্ঠো, উর্বশ্যা ব্রহ্মন্ মনসোঽধিজাতঃ।
দ্রপ্সং স্কন্নং ব্রহ্মণা দৈব্যেন বিস্বদেবাঃ পুষ্করে ৎবাদদন্ত। ঋগ্. 7.33.11
56. পাবকাসঃ শুচয়ঃ সূর্যা ইব সৎবানো ন দ্রপ্সিনো ঘোরবর্পসঃ।
শুচী বো হব্যা মরুতঃ শুচীনাম্ শুচিজন্মানঃ শুচয়ঃ পাবকাঃ। ঋগ্. 1.64.2
57. অথর্ব. 1.4.2
58. দ্রব্যয জ্ঞাস্তপোয়জ্ঞা যোগয়জ্ঞাস্তথা পরে।
স্বাধ্যায়জ্ঞানয়জ্ঞাশ্চ যতয়ঃ সংশিতব্রতাঃ । শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা- 4.27
59. পবিত্রে স্থো বৈষ্ণব্যৌ সবিতুর্বঃ প্রসব উৎপুনাম্যচ্ছিদ্রেণ পবিত্রেণ সূর্যস্য রশ্মিভিঃ।
দেবীরাপো অগ্রেগুবো অগ্রেপুবো অগ্রে ইমামদ্য যজ্ঞং নয়তাগ্রে যজ্ঞপতিং সুধাতুং যজ্ঞপতিং দেবয়ুবম্। যজু. 1.12
60. শতপথব্রাহ্মণ 6.1.3.3
61. সত্যং বৃহদ্ ঋতমুগ্রং দীক্ষা তপো ব্রহ্ম যজ্ঞঃ পৃথ্বীং ধারয়ন্তি। অথর্ব. 12.1.1
62. যো ন দ্বেষৎপৃথ্বী যঃ পৃতন্যাদ্ যোঽভিদাসান্মনসা যো বধেন।
তং নো ভূমে রন্ধয় পূর্বকৃৎবরি। অথর্ব. 12.1.14
63 অথর্ব. 12.1.12
64. বিশ্বম্ভরা বসুধানী প্রতিষ্ঠা হিরণ্যবক্ষা জগতো নিবেশনী।
বৈশ্বানরং বিভ্রতী ভূমিরগ্নিমিন্দ্র ঋষভা দ্রবিণে নো দধাতু। অথর্ব. 12.1.6
65. অগ্নির্বা প্রথমা বিশ্বজ্যোতিঃ। জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ 1.2.32
66. অগ্নিনা বা অয়ং লোকো জ্যোতিষ্মান্। তৈতিরীয় ব্রাহ্মণ 3.9.5.4
67. ইমমু ত্যমথর্ববদগ্নিং মন্থন্তি বেধসঃ।
ৎবামগ্নে পুষ্করাদধ্যথর্বা নিরমন্থত। ঋগ. 6.15.17
68. অথর্ব. 3.21.1-2
69. অগ্নিবৃত্রাণি জঙ্ঘনদ্ দ্রবিণস্যুর্বিপন্যযা।
সমিদ্ধঃ শুক্র আহুতঃ। ঋগ্. 10.118.1
70. অগ্নিরদ্ভ্যো নিরদহজ্জরূথম্। ঋগ্. 10.80.3
71. তস্মাদ্ বা এতস্মাদাত্মন আকাশঃ সম্ভূতঃ।
তৈত্তিরীয়োপনিষদ্, ব্রহ্মানন্দ বল্লী 1-2
72. মধুমন্মে নিক্রমণং মধুমন্মে পরায়ণম্।
বাচা বদামি মধুমদ্ ভূয়াসং মধুসন্দৃশঃ। অথর্ব. 1.34.3

বাংলাদেশ অগ্নিবীর
সত্য প্রকাশে নির্ভীক সৈনিক

No comments:

Post a Comment

Pages