বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী ক্ষত্রিয় কে ❓ - অগ্নিবীর

বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী ক্ষত্রিয় কে ❓

Share This


আমরা পূর্ব পর্বে ব্রাহ্মণ কে ও তার বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনেছি । আজকে আমরা ক্ষত্রিয় সম্পর্কে জানবো । বেদে ক্ষত্রিয় পদবাচী হিসেবে ক্ষত্র, ক্ষত্রিয় ও রাজন্য শব্দ প্রযুক্ত হয়েছে । ঋগ্বেদে " বাহু রাজন্যঃ কৃতঃ" [ ১০।৯০।১২ ] অর্থাৎ রাজন্য বাহুস্বরূপ বলা হয়েছে । শতপথ ব্রাহ্মণেও বলা হয়েছে " চত্বারো বৈ বর্ণাঃ । ব্রাহ্মণো রাজন্যো বৈশ্যঃ শূদ্রঃ " [ ৫।৫।৪।৯ ]। অথর্ববেদে ৩টি স্থলে [ ১৯।৬।৬, ১৯।৬২।১, ১৯।৩২।৮ ] চতুর্বর্ণের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধের স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায় । অর্থাৎ বৈদিক দর্শনে মূখ্যতঃ কোন ভেদাভেদ যা কিনা পরবর্তীতে গৌণ স্মৃতি ও তথাকথিত ৩৬ পুরাণ-উপপুরাণে বহুল দেখা যায় । যজুর্বেদে [ ক্ষত্রায় রাজন্যম্ - ৩০।৫ ] বলা হয়েছে ক্ষত্রকার্য অর্থাৎ রাষ্ট্র রক্ষাই রাজন্যের কর্তব্য ।

💯 প্রথমে আমরা প্রাচীন ব্যাকরণ ও আধুনিক কোষে ক্ষত্রিয় শব্দের ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে জানবো - 

ষড়বেদাঙ্গের একটি হলো ব্যাকরণ । পাণিনীয় অষ্টাধ্যায়ী ৪।১।১৩৮ এ একটি সূত্র রয়েছে - 
❝ ক্ষত্রাদ্ঘঃ❞ [ পদচ্ছেদঃ ক্ষত্রাৎপঞ্চমী-একবচনম্ , ঘঃপ্রথমা-একবচনম্ ]
অর্থাৎ 'তস্য অপত্যম্' অস্মিন্ অর্থে 'ক্ষত্র'শব্দাৎ ঘ-প্রত্যয়ঃ ভবতি । 

✅ অমরকোষ - 
ক্ষত্রিয়(পুংলিঙ্গঃ)ক্ষত্রিয়ঃ
মূলম্ — মূর্ধাভিষিক্তো রাজন্যো বাহুজঃ ক্ষত্রিয়ো বিরাট্ । রাজা রাট্পার্থিবক্ষ্মাভৃন্নৃপভূপমহীক্ষিতঃ ॥ ( ২.৮.১ )

✅ শব্দকল্পদ্রুম -
ক্ষত্রিয়ক্ষত্ত্রিয়ঃ, পুং, (ক্ষত্ত্রে রাষ্ট্রে সাধুঃ । ক্ষত্ত্রস্যাপত্যং বা । “ক্ষত্রাদ্ ঘঃ” । ৪ । ১ । ১৩৮ । ইতি জাতৌ ঘঃ ।) ক্ষদতি রক্ষতি জনান্ ক্ষত্ত্রঃ । ক্ষদ সম্বৃতৌ সৌত্রঃ ততস্ত্রাসুসিতি ত্রঃ । ক্ষতাৎ ত্রায়তে ইতি ডে মনীষাদিত্বাৎ ক্ষতান্ত্যাকারলোপে বা ক্ষত্ত্রঃ । ক্ষত্ত্রো দ্বিতকারঃ । পুংনপুংসকয়োঃ ক্ষত্ত্রঃ । পতির্ম্মম ক্ষত্ত্রমশেষভূভৃৎ প্রমাভিরামো ভর-তশ্চ জিষ্ণুরিতি রাঘবপাণ্ডবীয়ে । ক্ষত্ত্র এব ক্ষত্ত্রিয়ঃ স্বার্থে ইয়ঃ । অপত্যার্থে ইয় ইত্যন্যে । ইতি ভরতঃ ॥

✅ আপ্টেসংস্কৃতাঙ্গ্লকোশঃ (1890) -
ক্ষত্রিয়ক্ষত্রিয়ঃ [ক্ষত্রে রাষ্ট্রে সাধু তস্যাপত্যং জাতৌ বা ঘঃ Tv.] A member of the military or second caste; ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়ো বৈশ্যস্ত্রয়ো বর্ণা দ্বিজাতয়ঃ Ms. 10. 4.
--যং The rank or power of the Kshatriya class.
--Comp.
--হনঃ (ণঃ) an epithet of Paraśurāma.

🌸 বেদে ক্ষত্রিয় সম্পর্কে বর্ণনা 🌸

১। ক্ষত্রিয়ান অব আদিত্যান্ যাচিষামখে ঋ০ ৮।৬৭।১
= ক্ষত্রিয় সূর্যের ন্যায় তেজস্বী হবে । 
২। ধৃতব্রতা ক্ষত্রিয়া ক্ষত্রমাশতুঃ ঋ০ ৮।২৫।৮ 
= ক্ষত্রিয় সত্যব্রতপালক ও ক্ষাত্রশক্তিযুক্ত হবে । 
৩। যে যুধ্যন্তে প্রধনেষু শূরাসো যে তনুত্যজঃ ঋ০ ১০।১৫৪।৩ 
= ক্ষত্রিয় যুদ্ধে গমন করে এবং আবশ্যক হলে স্বীয় প্রাণ উৎসর্গও করে । 
৪। সাম্রাহ্যায় সুক্রতু ঋ০ ৮।২৫।৮
= ক্ষত্রিয় স্বীয় সাম্রাজ্য স্থাপন করে। 
৫। রাজন্যঃ শূর ইষব্যোঽতিব্যাধী মহারথো জায়তাম্, জিষ্ণূ রথেষ্ঠাঃ । যজু০ ২২.২২ শতং সেনা অজয়ৎ সাকমিন্দ্রঃ । যজু০ ১৭.৩৩ যজু০ ১০.২৭ 
= ক্ষত্রিয় শূরবীর , ধনুর্বিদ্যা কুশল, দূরবর্তী লক্ষ্যভেদে নিপুণ, মহারথী ও রথে দণ্ডায়মান যোদ্ধা , একাই বহু শত্রু বিনষ্টকারী ও সাম্রাজ্য স্থাপক হিসেবে বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন হবে । 
৬। বয়ং ধনা শূরসাতা ভজেমহি । সাম০ ১৭৫৯
= ক্ষত্রিয় যুদ্ধে গমন , বিজয় ও ধনলাভ করবে । 
৭। তথা রাষ্ট্রং গুপিতং ক্ষত্রিয়স্য । অথর্ব০ ৫.১৭.৩ 
= ক্ষত্রিয় রাষ্ট্রের রক্ষক । 
৮। কো অস্যা নো দ্রুহোঽবদ্যবত্যা উন্নেষ্যতি ক্ষত্রিয়ঃ ০অ০ ৭.১০৩.১ 
= ক্ষত্রিয় যজ্ঞশীল হয়ে রাষ্ট্রের শ্রী বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা, প্রজাগণের অভীষ্ট পূরণ ও তাদের দীর্ঘায়ু করার লক্ষ্যে নিয়োজিত থাকবে । 
৯। যে যুধ্যন্তে প্রধনেষু শূরাসো যে তনূত্যজঃ । অ০ ১৮.২.১৭
= ক্ষত্রিয় প্রয়োজনে যুদ্ধে গমনপূর্বক প্রাণোৎসর্গ করবে । 
১০। ইদং রাষ্ট্রং পিপৃহি সৌভগায় । অ০ ৭.৩৫.১
= রাষ্ট্রের উন্নতি ও তার সৌভাগ্য বৃদ্ধি করবে
১১। রাষ্ট্রং চ রোহ, দ্রবিণং চ রোহ । অ০ ১৩.১.৩৪
= রাষ্ট্রকে উন্নত ও তার অর্থব্যবস্থা উৎকৃষ্ট করতে হবে । 
১২। বিশি রাষ্ট্রে জাগৃহি রোহিতস্য । অ০ ১৩.১ ৯
= প্রজার সুরক্ষায় সর্বদা জাগ্রত। 
১৩। অথর্ববেদের ১২।৫।১-৭৩ 
= ক্ষত্রিয় যেন ব্রহ্মজ্ঞানী ও বিদ্বানদের সম্পদ না হরণ করে , তাদের যেন কষ্ট না দেয় । 
১৪। (ক) যত্র ব্রহ্ম চ ক্ষত্রং চ সম্যঞ্চৌ চরতঃ সহ ।
তং লোকং পুণ্যং প্রজ্ঞেষং যত্র দেবাঃ সহাগ্নিনা ।
 যজু০ ২০.২৫
= ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয় উভয় মিলিত হয়ে রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধি করবে । 
(খ) ইদং মে ব্রহ্ম চ ক্ষত্রং চোভে শ্রিয়মশ্নুতাম্ । 
যজু০ ৩২.১৬ 
= ক্ষত্রিয় ও ব্রাহ্মণ সম্মিলিত হয়ে রাষ্ট্রের শ্রী বৃদ্ধি করবে । 
১৫। অথর্ব০ ১৫.১০.৭ = ব্রাহ্মণ অগ্নিসম ও ক্ষত্রিয় সূর্যসম
১৬। অথর্ব০ ১৫.১০.৫,৬
= ব্রাহ্মণ জ্ঞাননিষ্ঠ ও ক্ষত্রিয় শৌর্যনিষ্ঠ । উভয়ে দ্যুলোক ও পৃথিবীলোকের ন্যায় পপরিপূরক । 

🌞 ব্রাহ্মণগ্রন্থে ক্ষত্রিয় সম্পর্কে বর্ণনা 🌞 

১৭। ক্ষত্রিয়োঽজনি, বিশ্বস্য ভূতস্যাধিপতিরজনি, বিশামত্তাঽজনি, অমিত্রাণাং হন্তাঽজনি, ব্রাহ্মণানাং গোপ্তাঽজনি । ঐত০ ৮.১৭
= ক্ষত্রিয় ভূলোকে প্রজাগণের রাজা, শত্রুহত্যা করে প্রজাগণের রক্ষক ও কর গ্রহণকারী । 
১৮। তস্মাৎ ক্ষত্রিয়েণ কর্ম করিষ্যমাণেন-উপসর্তব্য এব ব্রাহ্মণঃ । শত০ ৪.১.৪.৬ ৭. ৮.  
= ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণের পরামর্শ নেবে যে কোন কাজের পূর্বে । 
১৯। তদ্ যত্র ব্রহ্মণঃ ক্ষত্রং বশমেতি, তদ্ রাষ্ট্রং সমৃদ্ধম্ । ঐত০ ৮.৯
= ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণের পরামর্শ অনুযায়ী যদি কার্য করে তবেই রাষ্ট্রের সমৃদ্ধি হয় । 
২০। তস্মাদ্ ব্রাহ্মণঃ ক্ষত্রিয়ম্ অধস্তাদ্ উপাস্তে রাজসূয়ে । শত০ ১৪.৪.২.২৩
= যদিও ব্রাহ্মণ পূজ্য কিন্তু রাজ্যাভিষেকে রাজার স্থানই উচ্চ থাকে । তাই রাজসূর যজ্ঞে ব্রাহ্মণ রাজার নিচের স্থান গ্রহণ করবে । 
২১। ক্ষত্রং হি রাষ্ট্রম্ । ঐত০ ৭.২২
= ক্ষত্রিয়ই রাষ্ট্র [ যেহেতু ক্ষত্রশক্তি রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে । 
২২। ওজঃ ক্ষত্রং বীর্যং রাজন্যঃ । ঐত০ ৮.২-৪
= ক্ষত্রিয় তেজস্বী, শৌর্যবান ও পরাক্রমী । 
২৩. অভিগন্তৈব ব্রহ্ম, কর্তা ক্ষত্রিয়ঃ । শত০ ৪.১.৪.১ ৪
= ব্রহ্ম ও ক্ষত্রশক্তি অন্যোন্যাশ্রিত । পরিকল্পনা চিন্তন কাজ ব্রাহ্মণের এবং তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ক্ষত্রিয়ের । ব্রাহ্মণ চোখ হলে ক্ষত্রিয় হাত । পথ দেখার জন্য ব্রাহ্মণের ও কাজ করার জন্য হাতের আবশ্যকতা । ব্রাহ্মণ ব্রহ্মজ্ঞান প্রদান করেন ও ক্ষত্রিয় তদানুসারে কাজ করে সমস্ত বাধাবিঘ্ন দূর করেন । 
২৪। রাজানো বৈ রাষ্ট্রভৃতঃ, তে হি রাষ্ট্রাণি বিভ্রতি । শত০ ৯.৪.১.১
= রাষ্ট্রের দায়িত্ব রাজার , সে-ই রাষ্ট্রের রক্ষক । 
২৫. তস্মাদপি (দীক্ষিতং) রাজন্যং বৈশ্যং বা ব্রাহ্মণ ইত্যেব ব্রূয়াৎ । শত০ ৩.২.১.৪০ ৬. 
= যজ্ঞে দীক্ষার পর উক্ত যজ্ঞের জন্য ক্ষত্রিয় ব্রাহ্মণপদবাচ্য হয় । 
২৬। যজুর্বেদং ক্ষত্রিয়স্যাহুর্যোনিম্ । 
তৈত্তি০ ব্রা০ ৩.১২.৯.২
= যজুর্বেদ ক্ষত্রিয়ের উৎস স্বরূপ । 
২৭। (ক) তস্মাদ্ রাজা দণ্ড্যঃ । শত০ ৫.৪.৪.৭ (খ) তত্র রাজা ভবেদ্ দণ্ড্যঃ সহস্রমিতি ধারণা । মনু০ ৮.৩৩৬
= রাজাও দণ্ডভোগের অধিকারী । তার দণ্ড অন্য সাধারণের চেয়ে ১ হাজার গুণ অধিক হবে । 

🌼 মনুস্মৃতি ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতে প্রতিপাদিত ক্ষত্রিয় স্বভাব ও কর্ম সিদ্ধান্ত 🌼 

মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী স্বীয় " সংস্কারবিধি " গ্রন্থের গৃহাশ্রম প্রকরণে ক্ষত্রিয়স্বরূপলক্ষণম্ - অংশে মনুস্মৃতি ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাতে ক্ষত্রিয় বর্ণের গুণ ও স্বভাব সম্পর্কে বিশেষ ব্যাখ্যা করেছেন - 

প্রজানাং রক্ষণং দানং ইজ্যাধ্যযনং এব চ ।বিষয়েষ্বপ্রসক্তিশ্চ ক্ষত্রিয়স্য সমাসতঃ । ।
মনুস্মৃতি ১। ৮৯
অর্থঃ দীর্ঘকাল ব্রহ্মচর্যদ্বারা (অধ্যয়নম) সাঙ্গোপাঙ্গ বেদাদি শাস্ত্র যথাবৎ অধ্যয়ন করিবে,(ইজ্যা)অগ্নিহোত্রাদি যজ্ঞ করিবে,(দানম্) সুপাত্রে বিদ্যা ও সুবর্ণাদি এবং প্রজাকে অভয় দান করিবে,(প্রজানাংরক্ষণম্)প্রজাদিগকে সর্বপ্রকারে সর্বদা যথাবৎ পালন করিবে, (বিষয়েস্পপ্রসক্তিঃ) বিষয়ে অনাসক্ত হইয়া সর্বদা জিতেন্দ্রিয় থাকিবে, লোভ,ব্যভিচার ও মদ্যপানাদি নেশা ইত্যাদি দুর্ব্যসন হইতে পৃথক থাকিয়া বিনয় ও সুশীলতা শুভকর্মে সদা প্রবৃত্ত থাকিবে ।এই সব ধর্ম ক্ষত্রিয়ধর্মের লক্ষণের মধ্যে জানিবে। 
শস্ত্র বিদ্যার অধ্যাপনা করিবে,বিচারালয়ে এবং সেনাবিভাগে জীবিকার্জন করিবে,এইসব ক্ষত্রিয়ের জীবিকা। 

শৌর্যং তেজো ধৃতির্দাক্ষ্যং যুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্। 
দানমীশ্বরভাবশ্চ ক্ষাত্রং কর্ম স্বভাবজম্॥
গীতা ১৮।৪৩
অর্থঃ(শৌর্য়্যম্)শস্ত্র,সংগ্রাম, মৃত্যু ও শস্ত্র প্রহারাদি হইতে ভীত হইবে না,(তেজঃ)প্রগলভ ও শ্রেষ্ঠ প্রতাপশালী হইয়া কাহারও সম্মুখে দীন বা ভিরু হইবে না,(ধৃতিঃ) যতই আপদ,বিপদ,ক্লেশ ও দুঃখ আসুক না কেন,ধৈর্য্য রাখিবে,কখনও বিচলিত হইবে না,(দাক্ষ্যম্)সংগ্রাম,বাগ্ যুদ্ধ, দৌত্য ও বিচারাদি- সর্ব কার্য্যেই অতি চতুর ও বুদ্ধিমান হইবে,(য়ুদ্ধে চাপ্যপলায়নম্) যুদ্ধে সাদা উদ্যত থাকিবে, যুদ্ধে ভীত হইয়া কখনও শত্রুর বশীভূত হইবে না,(দানম্) (ইহার অর্থ প্রথম শ্লোকে আসিয়াছে),(ঈশ্বরভাবঃ)পরমেশ্বর যেরূপ সকলের প্রতি দয়া করিয়া পিতার ন্যায় বিদ্যমান আছেন,যাহার ধর্ম বা অধর্ম করে,তাহাদের প্রতি পক্ষপাত পরিত্যাগ করিয়া যথাযোগ্য সুখদুঃখরূপ ফল দিয়া থাকেন এবং নিজের সর্বজ্ঞতাদি সাধনদ্বারা সকলের অন্তর্য্যামী হইয়া সকলের ভাল মন্দ কার্য্যকে যথাযথভাবে দেখেন,সেইরূপ প্রজাদের সহিত আচরন করিবে,গুপ্ত দূতাদিদ্বারা সব প্রজা ও রাজপুরুষদের ভাল মন্দ কার্য্যের সহিত নিজেকে পরিচিত রাখিবে,রাত্রি দিন ন্যায়াচরন করিবে,প্রজাদিগকে যথাবৎ সুখ দিবে,শ্রেষ্ঠগণকে সম্নান দিবে,দুষ্টদিগকে দণ্ড দিতে সদা প্রবৃত্ত থাকিবে,সর্বপ্রকারে নিজের শরীরকে নীরোগ, বলিষ্ঠ,দৃঢ়,তেজস্বী ও দীর্ঘায়ু রাখিয়া আত্মাকে ন্যায়ধর্মে চালনা করিয়া কৃতার্থ করিবে-এইসব গুন-কর্মের সমাবেশ যে ব্যক্তির মধ্যে থাকে তিনি হন্ ক্ষত্রিয় বা ক্ষত্রিয়া। 
ইহারাও ইহাদের গুণ-কর্মের মিল রাখিয়া বিবাহ করিবেন।যেরূপ ব্রাহ্মণ পুরুষদিগকে এবং ব্রাহ্মণী স্ত্রীদিগকে অধ্যাপন করিবেন,সেইরূপ রাজা পুরুষদের ও রানী স্ত্রীদের সর্বদা ন্যায় বিচার তথা উন্নতিবিধান করিতে থাকিবেন । যে ক্ষত্রিয় রাজা হইবে না,সেও রাজবিভাগেই যথাযোগ্য বৈতনিক কর্ম (চাকুরী)গ্রহণ করিবে।

🖋️

বাংলাদেশ অগ্নিবীর

No comments:

Post a Comment

Pages