আরণ্যক কী ? [ বৈদিক শাস্ত্র পরিচয় ] - অগ্নিবীর

আরণ্যক কী ? [ বৈদিক শাস্ত্র পরিচয় ]

Share This

 


  • আরণ্যক শব্দের অর্থ

অরণ্য অর্থাৎ, জঙ্গলে একান্তভাবে অবস্থান করে যজ্ঞের রহস্য বর্ণনাকারী যে বিদ্যার পঠন-পাঠন করা হত, উক্ত বিদ্যা যে‌ গ্রন্থসমূহে‌ লিপবদ্ধ করা হয়েছে, সেসব গ্রন্থকে আরণ্যক বলে ।

  • সায়ণকৃত‌ আরণ্যক শব্দের অর্থ

ঐতরেয় ব্রাহ্মণভাষ্যের প্রাক্কথনে সায়ণ লিখেছে ---
'আরণ্যব্রতরূপং ব্রাহ্মণম্'
অর্থাৎ — জঙ্গলে অবস্থানকারী যেসব বানপ্রস্থী ছিলেন, তাঁরা যে যজ্ঞ আদি ক্রিয়া করতেন, তাঁদের এই যজ্ঞ সম্বন্ধে বর্ণনাকারী ব্রাহ্মণের সমান যে‌ গ্রন্থ রয়েছে, তা আরণ্যক ।
পুন: ঐতরেয়ারণ্যক ভাষ্যের প্রাক্কথনে সায়ণ লিখেছে --
ঐতরেয়ব্রাহ্মণে ঽস্তি কাণ্ডমারণ্যকাভিধম্ । অরণ্য এব পাঠ্যত্বাদারণ্যকমিতীর্যতে ॥ ৫ ॥
সত্রপ্রকরণে নুক্তিররণ্যাধ্যযনায় হি । মহাব্রতস্য তস্যাত্র হৌত্রং কর্ম বিবিচ্যতে ॥ ৮॥
অর্থাৎ – ঐতরেয় ব্রাহ্মণের অন্তর্গত কাণ্ড‌ই আরণ্যক নামে‌ খ্যাত । এই শাস্ত্রের‌ পঠন‌-পাঠনের‌ নিয়মাদি‌ অরণ্যে‌ই হ‌ওয়ার‌ দরুন‌ এর‌ নাম‌ আরণ্যক ।
সত্র প্রকরণে উক্ত‌ বিষয়ে কোনোরূপ বর্ণনা নেই, কেননা অরণ্যে‌ই এ শাস্ত্রের পাঠ হত । সেই অরণ্যে মহাব্রতের‌ অধ্যয়নকে‌ হৌত্রকর্ম বিচারে নিরূপণ‌ করা হয়েছে ।
সায়ণপ্রদর্শিত পূর্বোক্ত দুইটি অর্থে কিঞ্চিৎ ভেদ বিদ্যমান । এজন্য‌ পশ্চিমের‌ কিছু গবেষক‌ প্রথম‌ অর্থকে‌ মানে‌ আর‌ দ্বিতীয় অর্থ‌ অন্য‌ গবেষকরা‌ ।

  • রহস্য

আরণ্যকের প্রাচীন নাম "রহস্য" নামে খ্যাত । গোপথ ব্রাহ্মণ পূর্বভাগ. ২ /১০ তথা মনু. ২/১৪০ নং শ্লোকের‌ পাঠেও উক্ত‌ নাম উপলব্ধ
বসিষ্ঠ ধর্মসূত্র. ৪/৪ নং শ্লোকে নিম্নলিখিত পাঠ বিদ্যমান –
"তস্যা ভর্তুরভিচার উক্তং প্রায়শ্চিত্তং রহস্যেষু "
অর্থাৎ – সেই স্বতন্ত্র ( কুমার্গগামিনী ) স্ত্রীর পতির অভিচার এবং প্রায়শ্চিত্ত "রহস্যে" বর্ণনা করা হয়েছে ।
উক্ত সূত্রের সংকেত বৃহদারণ্যকের অন্তিম ভাগে প্রতীত হয় ।

  • অনেক আরণ্যক ব্রাহ্মণ শাস্ত্রের অংশমাত্র

বৌধায়ন ধর্মসূত্র. ৩/৭/৭/১৬॥ এর বচনাসুরে সিদ্ধ হয় যে‌, আরণ্যকের বচন‌ও ব্রাহ্মণ শব্দে সংজ্ঞায়িত করে বর্ণনা করা হয়েছে । বৃহদারণ্যক, শতপথ ব্রাহ্মণের‌ই অংশ। জৈমিনীয় আরণ্যক‌ও জৈমিনীয় ব্রাহ্মণের‌ অংশ ।

  • অনেক উপনিষদ্ আরণ্যকান্তর্গত

বর্তমান সময়ে‌ যেসব উপনিষদ্ শাস্ত্র‌ উপলব্ধ, এর মধ্যে অনেক উপনিষদ্‌-ই কোনো এক আরণ্যক শাস্ত্রের‌ই অংশ । ঐতরেয়োপনিষদ্ ঐতরেয়ারণ্যকান্তর্গত, কৌষীতকি উপনিষদ্ শাঙ্খায়নারণ্যকান্তর্গত, তৈত্তিরীয়োপনিষদ্ তৈত্তিরীয়ারণ্যকান্তর্গত

  • আরণ্যক শাস্ত্রের ভাষ্যকার

ঐতরেয় আরণ্যক
ষড্‌গুরুশিষ্য
ষড‌্‌গুরুশিষ্য " মোক্ষ প্রদা " নামের‌ একটি টীকা ঐতরেয় আরণ্যকের উপর প্রণয়ন করেছেন । এই ভাষ্যের হস্তলেখ ত্রিবন্দরম এবং মাদ্রাজ প্রদেশে বিদ্যমান ।
সায়ণ
সায়ণের ভাষ্য বর্তমানে সর্বত্র‌ উপলব্ধ । গ্রন্থের‌ ভাষ্য‌ শৈলী‌ তেমন‌ই, যেমনটা অন্য সাহিত্যের‌ ভাষ্যে লক্ষ্যণীয়
শাঙ্খায়ন আরণ্যক
এই আরণ্যকের‌ কোনো‌ ভাষ্য‌ উপলব্ধ‌ নয় ।
বৃহদারণ্যক [ মাধ্যন্দিন ]
ভর্তৃপ্রপঞ্চ
ভর্তৃপ্রপঞ্চ নামে একজন প্রসিদ্ধ‌ আচার্য ছিলেন । তাঁর সময়কাল শঙ্করাচার্যের আগমনের পূর্বে‌ ।
আনন্দগিরি অথবা আনন্দজ্ঞানের বৃহদারণ্যক ভাষ্য থেকে জ্ঞাত‌ হ‌ওয়া যায়‌ যে‌, শঙ্করাচার্য তাঁর ভাষ্য অধ্যয়ন করেছিলেন
শঙ্করাচার্য‌ কৃত বৃহদারণ্যক ভাষ্যে‌ও নামোল্লেখ বিহীন কিছু প্রমাণ উপলব্ধ –
শঙ্কর স্বীয় ভাষ্যে লিখেছেন --
তস্যা ইয়মল্পগ্রন্থা বৃত্তিরাভ্যতে । ১/১/১ ॥
অর্থাৎ- সেই ( বাজসনেয় ব্রাহ্মণোপনিষৎ এর ) অল্পগ্রন্থ অর্থাৎ সংক্ষিপ্ত বৃত্তি আরম্ভ করা হচ্ছে ।
এই ভাষ্যের‌ উপর‌ আনন্দগিরি টীকা করেছেন --
তস্যা ইতি । ভর্তৃপ্রপঞ্চভাষ্যাদ্বিশেষান্তরমাহ । অল্পগ্রন্থেতি
অর্থাৎ - ভর্তৃপ্রপঞ্চের ভাষ্য থেকে শঙ্করবৃত্তির পার্থক্য এই যে, ভর্তৃপ্রপঞ্চের
ভাষ্য অত্যন্ত বিস্তৃতপূর্ণ, পরন্তু শঙ্করের বৃত্তি যদ্যপি উক্ত‌ ভাষ্য অপেক্ষা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তথাপি অর্থের দৃষ্টিতে সংক্ষিপ্ত নয় । লঘু ভাষ্য‌ হয়েও‌ ভাষ্যার্থের বিস্তার অত্যন্ত সমারোহপূর্ণ ।
ভর্তৃপ্রপঞ্চ না অদ্বৈতবাদী ছিলেন, না দ্বৈতবাদী । এখন‌‌ও পর্যন্ত উক্ত‌ ভাষ্যের‌ কোন হস্তলেখ অনুপলব্ধ ।
দ্বিবেদগঙ্গ
মাধ্যন্দিন বৃহদারণ্যকের উপর খুব কম‌ই স্বতন্ত্ররূপ ভাষ্যের রচনা হয়েছে । যে‌ বিদ্বান্‌গণ মাধ্যন্দিন শতপথের উপর ভাষ্য প্রণয়ন‌ করেছেন, তাঁরা অবশ্য‌ই এই আরণ্যকের‌ও‌ উপর‌ ভাষ্য‌ করেছেন, পরন্তু এসব ভাষ্য বর্তমানে উপলব্ধ নয় ।
যে‌ সময় থেকে শঙ্করাচার্য কাণ্ব বৃহদারণ্যকের উপর‌ ভাষ্য‌ করেছেন, তার‌ পর‌ থেকে তাঁর উত্তরবর্তি বিদ্বান্‌গণ‌ কাণ্ব পাঠের‌ বৃহদারণ্যকের উপর‌‌ই মনোনিবেশ করেছেন ।
দ্বিবেদগঙ্গ নামে একজন বিদ্বান্ "মুখ্যার্থপ্রকাশিকা" নামে একটি ব্যাখ্যামূলক‌ গ্রন্থ মাধ্যন্দিন আরণ্যকের‌ উপর‌ রচনা করেছেন
এই গ্রন্থে প্রত্যেক পদের ভাষ্য রচনা করা হয় নাই, প্রত্যুত মুখ্য মুখ্য পদের‌ই ভাষ্য‌ করা হয়েছে ।
বৃহদারণ্যক কাণ্ব
এই আরণ্যকের ভাষ্য‌ এবং ভাষ্যকার‌ গণের‌ নাম –
১. সিদ্ধান্ত দীপিকা
২. শাঙ্করভাষ্য
৩.শাঙ্করভাষ্যের‌ উপর আনন্দতীর্থ কৃত টীকা
৪. আনন্দতীর্থ কৃত স্বতন্ত্র ভাষ্য
৫. রঘূত্তম কৃত পরব্রহ্মপ্রকাশিকা টীকা
৬. ব্যাসতীর্থ কৃত ভাষ্য
৭. দীপিকা
৮. গঙ্গাধর( অথবা গঙ্গাধরেন্দ্র ) কৃত দীপিকা
৯. নিত্যান্দশর্মা কৃত মিতাক্ষরা টীকা
১০. মথুরানাথ কৃত লঘুবৃত্তি
১১. রঙ্গরামানুজ ভাষ্য
১২. সায়ণ ভাষ্য
১৩. রাঘবেন্দ্র কৃত বৃহদারণ্যকোপনিষৎখণ্ডার্থ
১৪. রাঘবেন্দ্র কৃত বৃহদারণ্যকোপনিষদার্থসঙ্গ্রহ
১৫. বৃহদারণ্যকবিষয়নির্ণয়
১৬. বৃহদারণ্যকবিবেকং
১৭. বিজ্ঞানভিক্ষু কৃত ভাষ্য
১৮. নারায়ণ কৃত দীপিকা
বার্তিক
ভাষ্য এবং টীকা অতিরিক্ত উক্ত‌ আরণ্যকের উপর‌ বিভিন্ন প্রকারের বার্ত্তিকের‌‌ও রচনা হয়েছে ।
নামসমূহ‌ –
১. সুরেশ্বরাচার্য কৃত শাঙ্করভাষ্যের‌ বার্তিক
২. আনন্দতীর্থ কৃত শাস্ত্রপ্রকাশিকা
৩. আনন্দপূর্ণ বিরচিত ন্যায়কল্পলতিকা
৪. বৃহদারণ্যকবার্তিকসার
তৈত্তিরীয়ারণ্যক
১. ভট্ট ভাস্কর
২. সায়ণ
তৈত্তিরীয় আরণ্যকের উপর ভট্ট ভাস্কর এবং সায়ণ কৃত‌ ভাষ্য বর্তমানে‌ সর্বত্র‌ উপলব্ধ ।
বরদরাজ
আফরেরূট কৃত বৃহৎসূচীতে তৈত্তিরীয়ারণ্যকের তৃতীয় ভাষ্যকার‌ হিসেবে বরদরাজ‌ আচার্যের‌ নাম বিদ্যমান । ভাষ্যকার ছিলেন দাক্ষিণাত্যের অধিবাসী । বরদরাজের পিতার নাম বামনাচার্য এবং পিতামহের নাম অনন্তনারায়ণ । বরদরাজ সামবেদীয় কিছু সূত্রের উপর বৃত্তি বা ভাষ্য রচনা করেছিলেন ।
তাঁর আরণ্যক ভাষ্যের কোনো‌ হস্তলেখ উপলব্ধ নয় ।
মৈত্রায়ণীয় আরণ্যক
রামতীর্থ
রামতীর্থ মৈত্রায়ণীয় আরণ্যকের উপর‌ ব্যাখ্যামূলক একটি দীপিকা রচনা করেছিলেন । গ্রন্থটি আনন্দাশ্রম থেকে 'উপনিষদোং কে সমুচয়' নামক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়েছে ।
এই ভাষ্য অতিরিক্ত মৈত্রায়ণীয় আরণ্যকের নিম্নলিখিত ভাষ্য বর্তমানে উপলব্ধ –
১. শাঙ্কর ভাষ্য
২. নারায়ণ কৃত দীপিকা
৩. প্রকাশাত্মন্‌ কৃত দীপিকা
৪. বিজ্ঞানভিক্ষু কৃত মৈত্রেয়োপনিষদালোক
তলবকার আরণ্যক
ভবত্রাত
আচার্য ভবত্রাত জৈমিনীয় ব্রাহ্মণ এবং আরণ্যক সহ জৈমিনীয় শ্রৌতসূত্রের উপর‌‌ও ভাষ্য করেছেন

  • আরণ্যক শাস্ত্র এবং বেদার্থ

যেই প্রকারে বেদার্থে ব্রাহ্মণ শাস্ত্র অত্যন্ত সহায়তা দেয়, তদ্রুপ আরণ্যক শাস্ত্র‌ও বেদার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । জৈমিনীয় আরণ্যকে বেদমন্ত্রের বিস্তৃত অর্থের বর্ণনা বিদ্যমান ।
এ স্থলে‌ উক্ত বিষয়ে নমুনা প্রদান আবশ্যক —
 
তদ্যথা হ বৈ সুবর্ণে হিরণ্যমগ্নৌ প্রাস্যমানং কল্যাণতরং কল্যাণতরং ভবতি এবমেব কল্যাণতরেণ কল্যাণতরেণাত্মনা সম্ভবতি য এবং বেদ ॥ ৬ ॥
তদেতহচাভ্যনূচ্যতে ॥ ৭ ॥
পতঙ্গমতমসুরস্য মায়যা হৃদা পশ্যন্তি মনসা বিপশ্চিতঃ ।
সমুদ্রে অন্তঃ কবয়ো বিচচতে মরীচীনাং পদমিচ্ছন্তি বেধস ইতি ॥১॥
পতঙ্গমক্তমিতি । প্রাণো বৈ পতঙ্গঃ । পতন্নিব হ্যেষ্বঙ্গেষ্বতি রথমুদীক্ষতে । পতঙ্গ ইত্যা চক্ষতে ॥ ২ ॥
অসুরস্য মায়যেতি । মনো বা অসুরম্ । তদ্ধয়সুষু রমতে । তস্যৈব মায়যাক্তঃ ॥ ৩ ॥
হৃদা পশ্যন্তি মনসা বিপশ্চিত ইতি । 'হৃদৈব হোতে পশ্যন্তি যন্মন্সা বিপশ্চিতঃ ॥ ৪ ॥
সমুদ্রে অন্তঃ কবয়ো বিচক্ষত ইতি । পুরুষো বৈ সমুদ্র এবম্বিদ্ উ কবয়ঃ । ত ইমাং পুরুষে ঽন্তর্বাচং বিচক্ষতে ॥ ৫ ॥
মরীচীনাং পদমিচ্ছন্তি বেধস ইতি । মরীচ্য ইব বা এতা দেবতা যদগ্নির্বায়ুরাদিত্যশ্চন্দ্রমাঃ ॥ ৬ ॥
ন হ বা এতাসাং দেবতানাং পদমস্তি । পদেনো হ বৈ পুনর্মৃত্যুরন্বেতি ॥৭॥
[ জৈ. উপ. ব্রা. ৩ । ৩৫ ॥ ]
 
অর্থাৎ - যেই প্রকারে স্বর্ণ অগ্নির‌ সংস্পর্শে পবিত্র হয়ে থাকে, অত্যন্ত পবিত্র হয়ে থাকে, তেমনভাবেই পবিত্র আত্মা থেকে, অত্যন্ত পবিত্র আত্মা থেকে সে‌ প্রকট হয়ে থাকে ।
 
এমনটাই ঋগ্বেদ. ১০/১৭৭/১॥ নং মন্ত্রে বর্ণনা করা হয়েছে --
 
প্রাণ‌ই পতঙ্গ । মন‌ই অসুর । তার মায়াতেই যুক্ত । বিদ্বান্‌গণ হৃদয় এবং মন দ্বারা এ সম্বন্ধে জ্ঞাত হয়ে থাকে । পুরুষ‌ই সমুদ্র । এমনটা উপলব্ধকারী কবি অর্থাৎ জ্ঞানী এই বাণীকে পুরুষের অভ্যন্তরে‌ অবস্থিত বলে থাকে । মরীচীর সমান‌ই দেবতা, যিনি অগ্নি, বায়ু, আদিত্য এবং চন্দ্রমা । এই দেবতাগণ পদ বিহীন । পদ দ্বারা বার বার মৃত্যুকে প্রাপ্ত হয়ে থাকে ।
 
পতঙ্গো বাচম্মনসা বিভর্তি তাং গন্ধর্বোঽবদর্ভে অন্তঃ ।
তাং দ্যোতমানাং স্বর্যম্মনীষামৃতস্য পদে কবয়ো নিপান্তি ॥ ১ ॥
পতঙ্গো বাচাম্মনসা বিভর্তীিতি ।
প্রাণো বৈ পতঙ্গঃ । স ইমাং বাচ মনসা বিভর্তি ॥ ২ ॥
তাং গন্ধর্বোঽবদর্ভে অন্তরিতি । প্রাণো বৈ গন্ধর্বঃ পুরুষ উ গর্ভঃ । স ইমাম্পুরুষে ঽন্তর্বাচং বদতি ॥ ৩ ॥
তাং দ্যোতমানাং স্বর্যম্মনীষামিতি । স্বর্যা হ্যষা মনীষা যদ্বা ॥৪॥
ৠতস্য পদে কবয়ো নিপান্তীতি । মনো বা ঋতমেবম্বিদ উ কবয়ঃ । ওমিত্যেতদেবাক্ষরমৃতম্ । তেন যহচং মীমাংসন্তে যদ্যজুর্যৎসাম তদেনাং নিপান্তি ॥ ৫ ॥
[ জৈমিনীয় উপ. আ.৩/৩৬ ]
 
অর্থাৎ - ঋগ্বেদ. ১০/১৭৭/২॥ নং মন্ত্রের ব্যাখ্যান এই প্রকারে‌ করা হয়েছে -
 
প্রাণ‌ই পতঙ্গ । সেই (প্রাণ ) এই বাণীকে মন‌ দ্বারা‌ ধারণ করে থাকে । প্রাণ‌ই গন্ধর্ব । পুরুষ‌ই গর্ভ । সেই ( প্রাণ ) এই বাণী পুরুষের অভ্যন্তরে উচ্চারিত হয়ে থাকে । এটা বাণী‌ই, যা‌ স্বর্যা মনীষা । মন‌ই ঋত । এমনটা জ্ঞাত‌ ব্যক্তি জ্ঞানী । ওম্-ই ঋত অক্ষর । এই ওম্ থেকে যখন‌ ঋচা, যজু এবং সামের মীমাংসা হয়ে থাকে, তো সেই ( বাণী ) রক্ষা করে থাকে ।
 
অপশ্যং গোপামনিপদ্যমানমা চ পরা চ পথিভিশ্চরন্তম্ ।
স সধ্রীচী: স বিষূচীর্বসান আ বরীবতি ভুবনেষ্বন্তঃ ॥১॥
অপশ্যং গোপামনিপদ্যমানমিতি । প্রাণো বৈ গোপাঃ । স হীদং সর্বমনিপদ্যমানো গোপায়তি ॥ ২ ॥
আ চ পরা চ পথিভিশ্চরন্তমিতি । তথে চ হ বা ইমে প্রাণা অমী চ রশ্ময় এতৈর্হ বা এষ এতদা চ পরা চ পথিভিশ্চরতি ॥৩॥
স সধীচীঃ স বিষূচীর্বসান ইতি সধীচীশ্চ হ্যেষ এতদ্বিপূচীশ্চ প্রজা বস্তে ॥ ৪ ॥
আ বরীবর্তি ভুবনেষ্বন্তরিতি । এষ হ্যেবৈষু ভুবনেষ্বন্তরাবরীবর্তি ॥ ৫ ॥
[ জৈ.উপ. ব্রা. ৭/৩৭ ॥ ]
 
অর্থাৎ-প্রাণ‌ই গোপ । এই প্রাণ‌ই রশ্মি, এ থেকে‌ই মার্গে গমন‌ হয়ে থাকে । তা সোজা এবং উল্টা প্রজাকে উপবিষ্ট করিয়ে থাকে । ভুবনে ব্যাপক অবস্থান করে ।
 
পূর্বোক্ত ঋগ্বেদীয় তিন মন্ত্রের‌ ভাষ্য থেকে স্পষ্ট অধিগম্য যে, আরণ্যক পরম্পরাগণ কী প্রকারে মন্ত্রার্থ ব্যাখ্যা‌ করেছেন । উক্ত অর্থ প্রায়ঃ আধ্যাত্ম শৈলীর অন্তর্গত । পরন্তু আরণ্যক‌ শাস্ত্রের সর্বত্র এমনটা নয় ।
 
 
কিছু স্থলে‌ আধিদৈবিক ব্যাখ্যা‌ও উপলব্ধ । .
 
আরণ্য‌ক এবং উপনিষদে‌র‌ বিষয়বস্তু‌ প্রায়ঃ এক‌ই, কেননা আত্মা, পরমাত্মা, প্রকৃতি, পুনর্জন্ম, মুক্তি আদি বিবিধ‌ তত্ত্বের বর্ণন উপনিষদ্ এবং আরণ্যক শাস্ত্রে‌ সমানভাবে বিদ্যমান ।

বিদুষাং বশংবদঃ

No comments:

Post a Comment

Pages