ভরত, ভারত ও ভারতবর্ষ ~ শব্দের উৎপত্তি ও তাৎপর্য
ভরতাদ্ভারতী কীর্তির্যেনেদং ভারতং কুলম্।
অপরে যে চ পূর্বে চ ভারতা ইতি বিশ্রুতাঃ ॥
[মহাভারত ১.৭৪.১৩১]
অর্থাৎ,
ভরত থেকেই এই ভূখণ্ডের নাম ভারত (বা ভূমির নাম ভারতী)। তার থেকেই এই
কৌরববংশের নাম ভরতবংশ নামে প্রসিদ্ধ। তারপর থেকে তার কুলে যত রাজা হয়েছেন
সবাই ভারত (ভরতবংশী) নামে কথিত হন।
উত্তরং যৎসমুদ্রস্য হিমাদ্রেশ্চৈব দক্ষিণম্ ।
বর্ষং তদ্ভারতং নাম ভারতী যত্র সন্ততিঃ ॥
[বিষ্ণুপুরাণ ২.৩.১]
অর্থাৎ, যা সমুদ্রের উত্তরে ও হিমালয় পর্বতের দক্ষিণে তার নাম ভারত, যেখানে ভরতের বংশ বাস করেন।
নাভের্হি সর্গং বক্ষ্যামি হিমাহ্বে তন্নিবোধত।
নাভিস্ত্বজনয়ৎ পুত্রং মের়ুদেব্যাং মহাদ্যুতিঃ।
ঋষভং পার্থিবশ্রেষ্ঠং সর্বক্ষত্রস্য পূর্বজম্ ॥
ঋষভাদ্ভরতো জজ্ঞে বীরঃ পুত্রশতাগ্রজঃ।
সোঽভিষিচ্যাথ ভরতঃ পুত্রং প্রাব্রাজ্যমাস্থিতঃ ॥
হিমাহ্বং দক্ষিণং বর্ষং ভরতায় ন্যবেদয়ৎ।
তস্মাত্তদ্ভারতং বর্ষং তস্য নাম্না বিদুর্বুধাঃ ॥
[বায়ুপুরাণ ৩৩.৫০-৫২]
অর্থাৎ,
নাভি ও মরুদেবীর গর্ভে ঋষভের জন্ম। ঋষভের পুত্র ভরত। ভরত ছিলেন বীর ও
নিজের শতভ্রাতার মধ্যে শ্রেষ্ঠ। ঋষভ ভরতকে হিমাখ্য দক্ষিণবর্ষে অভিষিক্ত
করে প্রব্রজ্যা গ্রহণ করেন। ভরতের নাম অনুযায়ী সেই স্থানের নাম ‘ভারতবর্ষ’।
এই কথাটি বিষ্ণুভাগবতেও [৫.৪.৯] রয়েছে, ‘যেষাং খলু মহাযোগী ভরতো জ্যেষ্ঠঃ শ্রেষ্ঠগুণ আসীদ্যেনেদং বর্ষম্ভারতমিতি ব্যপদিশন্তি’।
একই তথ্য আমরা নিম্নলিখিত পুরাণেও পাই,
নিরাশস্ত্যক্তসন্দেহঃ শৈবমাপ পরং পদম্॥
হিমাদ্রের্দক্ষিণং বর্ষং ভরতায় ন্যবেদয়ৎ॥
[লিঙ্গপুরাণ পূর্বভাগ ৪৭.২৩]
নাভেঃ পুত্রশ্চ ঋষভ ঋষভাদ্বরতোঽভবৎ॥
তস্য নাম্না ত্বিদং বর্ষং ভারতং চেতি কীর্ত্যতে॥
[স্কন্দপুরাণ ১.২.৩৭.৫৭]
ঋষভো মেরুদেব্যাঞ্চ ঋষভাদ্ভরতোঽভবৎ ।
ঋষভো দত্তশ্রীঃ পুত্রে শালগ্রামে হরিঙ্গতঃ ॥
ভরতাদ্ভারতং বর্ষং ভরতাৎসুমতিস্ত্বভূৎ ।
ভরতো দত্তলক্ষ্মীকঃ শালগ্রামে হরিং গতঃ ॥
[অগ্নিপুরাণ ১০৭.১১-১২]
ভারতস্যাস্য বর্ষস্য নব ভেদান্নিবোধ মে ।
সমুদ্রান্তরিতা জ্ঞেয়াস্তে ত্বগম্যাঃ পরস্পরম্॥
[মার্কণ্ডেয় পুরাণ ৫৭.৫]
তেষাং বৈ ভরতো জ্যেষ্ঠো নারায়ণপরায়ণঃ ।
বিখ্যাতং বর্ষমেতদ্যৎ নাম্না ভারতমদ্ভুতম্ ॥
[বিষ্ণুভাগবত ১১.২.১৭]
অত্রাপি ভারতং শ্রেষ্ঠং জন্বূদ্বীপে মহামুনে ।
যতো হি কর্মভূরেষা হ্যতোন্যা ভোগভূময়ঃ ॥
অত্র জন্মসহস্রাণাং সহস্রৈরপি সত্তম ।
কদাচিল্লভতে জন্তুর্মানুষ্যং পুণ্যসঞ্চয়াৎ ॥
[বিষ্ণুপুরাণ ২.৩.২২-২৩]
অর্থাৎ,
জম্বুদ্বীপের বর্ষগুলোর মধ্যে ভারতবর্ষই শ্রেষ্ঠ। এটি কর্মভূমি, বাকিগুলো
ভোগভূমি। জীবগণ সহস্রজন্মের পরে পুণ্যবলে কদাচিৎ এই ভারতবর্ষে মানবজন্ম লাভ
করে।
১. ‘ভৃমৃদৃশিয়জিপর্বিপচ্যমিতমিনমিহর্যেভ্যোঽতচ্’ [উণাদিসূত্র ৩.১১০] অনুযায়ী, ধারণ-ভরণ-পোষণ।
২. ‘ভরতাঃ...ইতি অষ্টৌ ঋত্বিঙ্নামানি’ [নিঘণ্টু ৩.১৮[ অর্থাৎ, ঋত্বিকবাচক।
৩.
‘প্রজাপতির্বৈ ভরতঃ স হীদং সর্বং বিভর্তি’, ‘ভরত আদিত্যস্তস্য ভাঃ’-
প্রজাপতি (প্রজাপালক সত্ত্বা), সূর্য ইত্যাদি [শতপথ ব্রাহ্মণ ৬.৮.১.১৪,
নিরুক্ত ৮.১৪]।
৪. ’প্রাণো ভরতঃ’ [ঐতরেয় ব্রাহ্মণ ২.২৪] প্রাণতত্ত্ব।
ইত্যাদি ইত্যাদি।
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর
