১। গর্ভাধান: বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী সন্তান কামনা করলে ব্রহ্মচর্য ও সংযম অবলম্বনপূর্বক গর্ভাধান সংস্কারের কর্মকাণ্ডীয় ক্রিয়া সম্পূর্ণ করে ঋতুমতী অবস্থা অতিক্রান্ত হলে, পরবর্তী দিনগুলো গর্ভাধানের সময়। ঋতুমতী হওয়ার দিন থেকে ৪দিন, ১১তম ও ১৩ তম সমাগম নিষিদ্ধ। অর্থাৎ এই ৬ দিন, অমাবস্যা ও পূর্ণিমা (কারণ এই দুইদিন দর্শপৌর্ণমাস যজ্ঞ) ইত্যাদি পর্বদিবস বাদ দিয়ে [ঋতুমতী হওয়া ১-৪ দিন বাদে - ৫ম থেকে ১০ম দিন ও ১২তম দিন, অমাবস্যা/পূর্ণিমার পর যদি ঋতুচক্র শুরু না হয় তবে ১৬তম দিন] সন্তান কামনায় স্ত্রীর সম্মতিতে গর্ভাধান ক্রিয়া করা যাবে। উল্লেখ্য, অষ্টমী বা চতুর্দশীতেও যদি পর্ব থাকে তবে সেগুলোও বাদ যাবে। মূলতঃ যজ্ঞদিবস সংযম অবলম্বন করে ধর্মাচার পালনেরই দিন।
২। পুংসবন: গর্ভাধানের পর গর্ভবর্তী হওয়া নিশ্চিত হলে গর্ভাধানের সময় থেকে ২য় বা ৩য় মাসে।
৩। সীমন্তোন্নয়ন: গর্ভ-মাস থেকে ৪র্থ মাস বা ৬ষ্ঠ বা ৮ম মাসে শুক্লপক্ষে পুনর্বসু, পুষ্য, অনুরাধা, মূল, শ্রবণ,অশ্বিনী, মৃগশিরাদি পুংলিঙ্গবাচক নক্ষত্রযুক্ত চান্দ্রদিনে হবে।
৪। জাতকর্ম: গর্ভ থেকে নিষ্ক্রান্ত হওয়া অর্থাৎ প্রসব হওয়ার সময়েই। বর্তমানে যদি আধুনিক চিকিৎসালয়ে সুযোগ না থাকে তবে কর্ণে মন্ত্রপাঠ প্রভৃতি কর্ম করবে। গৃহে নিয়ে আসার পর অবশিষ্ট কর্ম ঔপচারিক রূপে সম্পূর্ণ করবে।
৫। নামকরণ: জন্মের পর ১১তম বা ১০১তম দিনে বা ২য় বছরের ১ম দিন অর্থাৎ যেদিন শিশুর জন্ম হয়েছে ১ বছর আগে সেই দিন।
৬। নিষ্ক্রমণ: যে সময় পরিবেশ শুদ্ধ ও ভালো মনে হবে কিংবা অবশ্যই ৪র্থ মাসে অবশ্যই শিশুকে বাইরে প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিভ্রমণ করাতে হবে। সংস্কারপালনের সময় ২টি - (১) জন্মের পর ৩য় শুক্লপক্ষের ৩য়া তিথি (২) ৪র্থ মাসে যে তিথিতে সন্তানের জন্ম হয়েছে সেই তিথিতে।
৭। অন্নপ্রাশন: ছেলে-মেয়ে উভয়ের অর্থাৎ শিশুমাত্রেরই ৬ষ্ঠ মাসে।
৮। চূড়াকর্ম/মুণ্ডন: ছেলে-মেয়ে উভয়ের ১ম বর্ষ, ৩য় বর্ষ, উত্তরায়ণে যে কোনো শুভদিন কিংবা পরিবারে যে সময় প্রচলিত।
৯। কর্ণভেদ: ৩য় বা ৫ম বর্ষে শিশুর উভয় কান।
১০। উপনয়ন: ব্রাহ্মণত্ব আগ্রহী ও প্রাথমিক লক্ষণযুক্ত বালক-বালিকাদের ৮ম বর্ষে। একইভাবে ক্ষত্রিয় ১১ বর্ষে, বৈশ্য ১২ বর্ষে কিংবা মঙ্গলযুক্ত সময়ে সবার জন্যই। তবে ব্রাহ্মণত্ব, ক্ষত্রিয়ত্ব ও বৈশ্যত্ব লাভের জন্য বিলম্বে উপনয়ন যথাক্রমে ১৬, ২২, ২৪ এরপর আর হবে না। উল্লেখ্য, যদি কেউ দ্রুত উপনয়ন দিতে চান তবে সন্তান ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য বর্ণ লাভেচ্ছুগণ যথাক্রমে ৫, ৬, ৮ বছরেও উপনয়ন গ্রহণ করতে পারবে। প্রসঙ্গত, শূদ্রত্বেই থাকার জন্য অতিরিক্ত প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যাদির আবশ্যকতা নেই, বৃত্তিমূলক শিক্ষাই যথেষ্ট, তাই গুণ-কর্ম-স্বভাব অনুযায়ী প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণাশ্রমে স্বাভাবিক শূদ্রত্ব হেতু উপনয়নের প্রয়োজন হয় না।
১১। বেদারম্ভ: যেদিন উপনয়ন সেদিনই বেদারম্ভ হওয়া উচিত। বিশেষ অসুবিধা হলে অন্যদিন, তবে ১ বছরের মধ্যে যেন হয়।
১২। সমাবর্তন: ব্রহ্মচর্যপালন পূর্বক সার্বিক বেদাধ্যয়ন সমাপ্তির পর। বেদের বিস্তারিত পাঠ ও সংখ্যার উপর ভিন্ন ভিন্ন সময়ে সমাবর্তন হতে পারে।
১৩। বিবাহ: উত্তরায়ণে শুক্লপক্ষে কল্যাণময় সময়ে। কোনো কোনো আচার্যের মতে মাঘ, ফাল্গুন, আষাঢ় বাদ দিতে প্রোৎসাহিত করা হলেও তারা পরবর্তীতে সর্বকালেই বিবাহের অনুমোদন দিয়েছেন। অর্থাৎ যেভাবে উপর্যুক্ত সময়গুলোতে বিবাহ করা যাবে তেমনি বিশেষ আবশ্যকতায় সর্বকালেই বিবাহ করা যাবে।
১৪। বানপ্রস্থ: সন্তানেরও সন্তান হওয়ার পর। দম্পতি ব্রহ্মচর্যপালনপূর্বক ব্রহ্মানুধ্যানে একসঙ্গে থাকতেও পারে, নাও পারে।
১৫। সন্ন্যাস: সর্ব-বৈরাগ্য উৎপন্ন হলে একাকী নিত্যসত্ত্বগুণস্থিত হয়ে ব্রহ্মচিন্তনপূর্বক নিত্যপর্যটন ও লোকোপকার। ৩টি প্রকার - ক্রমসন্ন্যাস অর্থাৎ গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থের পরে; বানপ্রস্থেই তীব্র বৈরাগ্য উৎপন্ন হলে; ব্রহ্মচর্যাশ্রম পূর্ণের পর সরাসরি সন্ন্যাসাশ্রম।
১৬। অন্ত্যেষ্টি: মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব। ইতিহাসে বিশেষ কারণে দাহাধিকারী ও আত্মীয় দূরে থাকলে শব সংরক্ষণ করার বিধান রয়েছে, তারপর উপযুক্ত ব্যক্তি এলে দাহ সম্পূর্ণ করতে হবে।
© বাংলাদেশ অগ্নিবীর
